বিজেপি সভাপতিকে ভাত খাইয়েই তৃণমূলে যোগ দিলেন নকশালবাড়ির দম্পতি

তৃণমূল নেতা গৌতম দেবের ডানপাশে রাজু মাহালি (চেক শার্ট), হলুদি শাড়িতে গীতা। ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption তৃণমূল নেতা গৌতম দেবের ডানপাশে রাজু মাহালি (চেক শার্ট), হলুদি শাড়িতে গীতা।

পশ্চিমবঙ্গের নকশালবাড়ি এলাকার আদিবাসী দম্পতি রাজু এবং গীতা মাহালি মাত্রই কয়েকদিন আগে সর্বভারতীয় স্তরে সংবাদ শিরোনামে চলে এসেছিলেন।

তাঁদের বাড়ির ছবি ছাপা হয়েছিল প্রায় সব কাগজে আর সম্প্রচারিত হয়েছিল জাতীয় টেলিভিশনগুলিতে।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি ২৫শে এপ্রিল জনসংযোগ করতে গিয়ে দুপুরে পাত পেড়ে বসে ভাত খেয়েছিলেন তাদের বাড়িতে।

সেই মাহালি দম্পতি বুধবার আবারও সংবাদ শিরোনামে।

টিভি চ্যানেলগুলির ভিড় আবারও তার বাড়িতে। তবে বিজেপি নেতাদের বদলে সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা নেত্রীদের ভিড়।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দলে যোগ দিয়েছেন তারা।

রাজু মাহালি আর গীতা মাহালির হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন রাজ্যের আবাসন ও পর্যটন মন্ত্রী, শিলিগুড়িরই নেতা গৌতম দেব।

আরো দেখুন:

ভারতে 'লাভ জিহাদ'এর বলি হলেন মুসলিম প্রৌঢ়

সাত কেজি সোনা ফেরত দিয়ে প্রশংসা কুড়ালো বিমানবন্দর কর্মী

ওসামা বিন লাদেনের জীবনের শেষ কয়েক ঘণ্টা

সংবাদমাধ্যমের সামনে দৃশ্যতই চুপচাপ ছিলে মাহালি দম্পতি।

তাদের তরফে একটি বিবৃতি পড়ে শোনান মন্ত্রী গৌতম দেব।

গীতা মাহালি শুধু বলছিলেন যে তার ভাল লেগেছে বলেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন স্বামীর সঙ্গে।

বিজেপি অভিযোগ তুলেছে যে অমিত শাহের সফরের পর থেকেই স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব চাপ দিচ্ছিলেন ঐ দম্পতির ওপরে।

এমনকি মঙ্গলবার থেকে তাঁদের খোঁজও পাওয়া যাচ্ছিল না।

রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ, যিনি নিজেও অমিত শাহের পাশে বসেই মাহালি দম্পতির বাড়িতে আহার সেরেছিলেন, তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন, "আমরা উনাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম, খুব যত্ন করে খাইয়েছিলেন। তবে আমরা চলে আসার পর থেকেই স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব ওদের ওপরে চাপ দিচ্ছিল।"

"কাল থেকে কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আমরা রাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে অভিযোগও জমা দিয়েছি। জানতামই যে আজ তৃণমূলে যোগ দেওয়ানো হবে ওদের। তবে সংবাদমাধ্যমে ছবি দেখলেই বুঝতে পারবেন কেমন মাথা নিচু করে বসে আছেন ওরা দুজন।"

এইসব অভিযোগ অবশ্য খুব একটা আমল দিতে চান নি তৃণমূল কংগ্রেস নেতা এবং মন্ত্রী গৌতম দেব।

তার কথায়, "বিজেপি কী অভিযোগ করছে, সেটা জানি না। তবে এরা স্বেচ্ছায়, কোনও ভয় ভীতি বা কোনোরকম প্ররোচনা ছাড়াই আজ তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। আমি ওদের বাড়িতে গিয়ে চা খেয়ে এলাম। স্বাধীন ভারতের নাগরিক তারা, যে কোনও দল করার অধিকার আছে।"

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহে বিজেপি একেবারে তৃণমূল স্তরে, গ্রাম বা শহরের গরীব মানুষের বাড়িতে সর্বভারতীয় সভাপতিকে নিয়ে গিয়ে যে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে উঠেছিল, তারই পাল্টা শিরোনাম এবার করল তৃণমূল কংগ্রেস।

সম্পর্কিত বিষয়