২০ বছর বাদে ‘কাবুলের কসাই’ হেকমতিয়ারের হঠাৎ আবির্ভাব কেন?

  • ৪ মে ২০১৭
গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার ছবির কপিরাইট NOORULLAH SHIRZADA
Image caption গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার

তালেবানের তাড়া খেয়ে ১৯৯৬ সালে কাবুল ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন আশির দশকের রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে আফগান মোজাহেদিনদের গুরুত্বপূর্ণ একাংশের নেতা গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার।

বিশ বছর লুকিয়ে থেকে সরকারের সাথে এক আপোষ চুক্তির পর সদলবলে কাবুলে হাজির হয়েছেন তিনি।

আফগানিস্তান থেকে যখন রুশ বাহিনী প্রত্যাহার করা হয়, তখন গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার হয়ে ওঠেন কাবুলের ক্ষমতা দখলের জন্য মোজাহেদিন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

যখন তালেবান এসে কাবুল দখল করে নিল, গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারকে তার দলবল সহ কাবুল ছেড়ে পালাতে হয়। সহিংসতা ও হত্যা-নির্যাতনের অভিযোগে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাকে একজন সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল।

কিন্তু সরকারের সাথে শান্তিচুক্তির পর ২০ বছর বাদে বৃহস্পতিবার হেকমতিয়ার রাজধানী কাবুলে ফিরে এসেছেন।

গত আট মাস আগে এই চুক্তি সই হয়। শান্তিচুক্তি অনুযায়ী মি. হেকমতিয়ারের অনুগত প্রায় ছয় হাজার যোদ্ধাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হবে।

আফগানিস্তানের বর্তমান অশান্ত পরিস্থিতির পটভূমিকায় গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের মতো একজন গোষ্ঠীনেতার ভূমিকা কেন আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে?

পর্যবেক্ষকরা বলছেন আফগান সরকার গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের সঙ্গে এই চুক্তি করেছে তার প্রভাব-প্রতিপত্তিকে কাজে লাগানোর জন্য। কারণ তালেবানের হামলায় সরকার খুবই চাপের মধ্যে আছে।

সরকার আশা করছে, মিস্টার হেকমতিয়ার তালেবান কমান্ডারদের প্রভাবিত করতে পারবেন, যাদের অনেকে এক সময় তার পতাকার নিচে লড়াই করেছিলেন।

তবে হেকমতিয়ারের সমালোচকরা তার সাফল্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, আফগানিস্তানে গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের সামরিক শক্তির প্রতাপ অনেক আগেই স্তিমিত হয়ে গেছে।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption সোভিয়েত বাহিনীর ফেলে যাওয়া ট্যাংক

তালেবানকে আলোচনায় বসার জন্য তার ডাকে কতটা সাড়া মিলবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বিশেষ করে যখন তালেবান বুঝতে পারছে যে আফগান সরকার তাদের হামলার মুখে যখন খুবই চাপের মধ্যে আছে। সমালোচকরা আরও বলছেন, আফগানিস্তানের ক্ষমতার রাজনীতিতে নতুন করে মিস্টার হেকমতিয়ারের প্রবেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

হেকমতিয়ারের সাথে এই আপোষ মীমাংসা নিয়ে অনেক আফগানই অখুশি। সেটা নব্বুই এর দশকের গৃহযুদ্ধে তাঁর ভূমিকার জন্য।

তাকে অনেক ডাকেন কাবুলের কসাই বলে। গৃহযুদ্ধের সময় তার বাহিনী কাবুলের ওপর রকেট হামলা চালিয়েছিল, সেজন্যে কেউ কেউ তার নাম দিয়েছিলেন গুলবুদ্দিন রকেটিয়ার।

আফগানিস্তানের ইতিহাসের ঐ পর্বে কাবুলে যে ধ্বংস, হত্যা-লীলা চলেছে, তার জন্য দায়ী করা হয় গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের হেজব-উল-ইসলামী দলকে। কাজেই সেই ধ্বংসলীলার স্মৃতি যাদের মনে আছে, তার হেকমতিয়ারের এই প্রত্যাবর্তনকে মোটেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না।

সম্পর্কিত বিষয়