দিল্লির পরামর্শে আগেভাগেই ভারত ছাড়তে হলো পাকিস্তানী ছাত্রদের

ছবির কপিরাইট Routes to Root
Image caption কয়েক বছর ধরে বেসরকারি পর্যায়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিনিময় কর্মসূচি চালানো হচ্ছে

পাকিস্তান থেকে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচীতে ভারতে আসা একদল স্কুল পড়ুয়াকে সময়ের আগেই সেদেশ থেকে ফিরে যেতে হয়েছে।

ভারত শাসিত কাশ্মীরে দুই সেনা সদস্যর মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধারের পরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দেশে যে আবেগ তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষিতেই দিল্লি থেকে তাদের তাড়াতাড়ি ফিরে যেতে সরকারের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়।

লাহোর থেকে ৪৪ জন স্কুল পড়ুয়া আর তাদের শিক্ষকরা ভারতে এসেছিলেন ১লা মে। প্রায় এক বছর ধরে ভারতের কিছু স্কুল পড়ুয়ার সঙ্গে ধাপে ধাপে যোগাযোগ তৈরি হওয়ার শেষে, অন্তিম পর্বে তারা এসেছিল এদেশে। পাঁচ দিন ভারতে থাকার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

কিন্তু তড়িঘড়ি ওই বিনিময় কর্মসূচী মাঝপথে বাতিল করে বুধবারই তাদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভারত শাসিত কাশ্মীরে দুই সেনা সদস্যর মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধারের পরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দেশে যে আবেগ কাজ করছে ভারতীয়দের মধ্যে, সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত বলে জানাচ্ছিলেন যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি ওই স্কুল ছাত্রদের নিয়ে এসেছিল ভারতে, সেই রুটস টু রুটস-এর প্রধান রাকেশ গুপ্তা।

মি. গুপ্তার কথায়, "সরকার আমাদের উপদেশ দিয়েছিল, যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে আমরা যেন বিনিময় কর্মসূচীটা বন্ধ করে দিয়ে বাচ্চাদের ফেরত পাঠিয়ে দিই। সেই উপদেশ পাওয়ার পরে আমরাও ভেবে দেখি যে বাচ্চারা নানা জায়গায় ঘুরবে - কোথাও কোনও একটা অঘটন ঘটে গেলে সেটা আরও মারাত্মক হবে। শেষমেশ পাকিস্তানের ওই স্কুল পড়ুয়াদের বুধবার সকালে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।"

২০১০ সাল থেকে দুই দেশের স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে এই বিনিময় কর্মসূচীটি চালাচ্ছে মি. গুপ্তার সংগঠন। তিনি নিজেও বিশ্বাস করেন যে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক বা সামরিক সম্পর্কের বাইরেই রাখা উচিত সাধারণ মানুষদের স্তরে সম্পর্কটা। "তবুও ভারতীয়দের আবেগকেও আমরা অসম্মান করতে চাই না।"

"নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক আর সামরিক সম্পর্ককে সাধারণ মানুষের মধ্যে টেনে আনা উচিত নয়। সেজন্যই এই কর্মসূচী চালাই আমরা। কিন্তু একই সঙ্গে ভারতীয় সেনা সদস্যদের মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধারের পরে যে ভাবাবেগ তৈরি হয়েছে, সেটাকেও তো সম্মান করতে হবে। এটা তো মানতেই হবে যে ভারতে একটা বৈরী মনোভাব তৈরি হয়েছে ওই ঘটনার পর থেকে। এই পরিস্থিতিতে বাচ্চাগুলোকে এখানে রাখার ঝুঁকি কি নেওয়া যায়?"

ছবির কপিরাইট Routes to roots
Image caption ২০১৫ সালে পাকিস্তানের একজন শিক্ষার্থীর ভারত সফর।

ভারত, বাংলাদেশ পাকিস্তান পিপলস ফোরাম নামের একটি ত্রিদেশীয় সংগঠনও কাজ করে উপমহাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নে। তারাও এরকমই নানা বিনিময় কর্মসূচী নিয়ে থাকে।

সংগঠনটির ত্রিদেশীয় চেয়ারম্যান, ভারতের দেবব্রত বিশ্বাস বলছিলেন, "এই যেরকম স্কুলের বাচ্চারা এসেছিল, ঠিক সেই ভাবেই সর্বস্তরে - শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সংস্কৃতির মতো ক্ষেত্রগুলিতে জোটে সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠবে, ততই দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। একে অন্যের দেশে যত যাতায়াত বাড়বে, ততই সাধারণ নাগরিকদের চোখ খুলবে, তারা নিজ নিজ রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপরে চাপ তৈরি করতে পারবে রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য। সেটা চায় না রাষ্ট্র-নেতারা।"

ঘটনাচক্রে এই স্কুল-পড়ুয়াদের ভারত সফর এর আগেও একবার পিছিয়ে গিয়েছিল। উরি সেনাছাউনি তে হামলার পরে ভারত যে সার্জিকাল স্ট্রাইক চালানোর দাবী করেছিল পাকিস্তানের ভেতরে, তখন দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে বাতিল করতে হয়েছিল এদের সফর।

আর এবার একই ধরণের উত্তেজনার কারণে ভারতে এসেও তাদের ফিরে যেতে হল।

সম্পর্কিত বিষয়