বস্তু দেখতে ও ধরতে পারে এরকম বায়োনিক হাত
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বস্তু দেখতে ও ধরতে পারে এরকম বায়োনিক হাত

  • ৯ মে ২০১৭

বিজ্ঞানীরা এমন একটি বায়োনিক হাত তৈরি করেছেন যা কোন বস্তুকে দেখতে পারে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে ওই বস্তুটিকে ধরতে হলে তাকে ঠিক কি করতে হবে।

অর্থাৎ কখন ও কতোটা তার হাতের আঙ্গুল বাঁকা করতে হবে - এবং শেষ পর্যন্ত ওই বস্তুটিকে কিভাবে ধরতে হবে।

যে বস্তুটিকে এই বায়োনিক হাত ধরতে যাবে প্রথমে ওই বস্তুটির আকার এবং আকৃতি পরিমাপ করা হয়। আর সেটা করা হয় তার হাতে বসানো একটি ক্যামেরার মাধ্যমে। তারপরই সে সিদ্ধান্ত নেয় সেটিকে ধরার ব্যাপারে তাকে কিভাবে অগ্রসর হতে হবে।

যুক্তরাজ্যে নিউক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। কোন কারণে যাদের হাত কেটে ফেলা হয়েছে, এরকম অল্পকিছু লোকের শরীরে এই বায়োনিক হাত লাগিয়ে সেটির ওপর পরীক্ষাও চালানো হয়েছে।

Image caption বায়োনিক এই হাতটি নিজেই নিজেই সাড়া দিতে পারে

দেখা গেছে, এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে এটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই বায়োনিক হাত চায়ের কাপ যেমন ধরতে পারে, তেমনি পারে টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোল হাতে নিতেও। এছাড়াও বুড়ো আঙ্গুলসহ আরো দুটো আঙ্গুলের সাহায্যে এটি তুলে নিতে পারে অন্যান্য বস্তুও।

বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষক ড. কাইনুশ নাজারপুর এই গবেষণার সাথে যুক্ত আছেন। তিনি বলেছেন, বায়োনিক এই হাতটি নিজেই নিজেই সাড়া দিতে পারে।

"যাদের শরীরে কৃত্রিম হাত বা পা লাগানো হয়েছে তাদের দিক থেকে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে, এসব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ খুব ধীর গতিতে কাজ করে। এগুলোর সাহায্যে কিছু করতে গেলে নানা রকমের সমস্যার সৃষ্টি হয়। কিন্তু এখন এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে বলা যায় আমরা অন্তর্জ্ঞান সম্পন্ন এমন একটি হাত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি যা কোনো ধরনের চিন্তা করা ছাড়াই সাড়া দিতে পারে," বলেন তিনি।

ড. নাজারপুর বলছেন, "গত ১০০ বছরে এই কৃত্রিম অঙ্গের ব্যাপারে খুব সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে। কোনো কিছুর ব্যাপারে নিজে নি সাড়া দিতে না পারাটাই ছিলো এধরনের অঙ্গের ক্ষেত্রে সবচে বড়ো সমস্যা।"

বলা হচ্ছে, এই উদ্ভাবনের ফলে এখন নতুন ধরনের কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির একটা সম্ভাবনা তৈরি হলো। কারণ যার শরীরে এটি সংযোজন করা হবে সে এখন মস্তিষ্ক ব্যবহার না করেই, এই বায়োনিক হাতের সাহায্যে জিনিসপত্র ধরতেও পারবে।

এই প্রযুক্তিটি নিয়ে শুনুন লন্ডনে কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে রবোটিক সায়েন্সের শিক্ষক ড. হাসান শহীদের সাক্ষাৎকার। অডিওটি শুনতে হলে উপরের লিঙ্কে ক্লিক করুন।

রক্তের গ্রুপ ও হার্ট অ্যাটাক

বৈজ্ঞানিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তের নির্দিষ্ট কিছু গ্রুপের ব্যক্তিদের হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি সামান্য হলেও বেশি।

ইউরোপিয়ান সোসাইটি অফ কার্ডিওলজিতে উপস্থাপিত এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাদের রক্তের গ্রুপ এ, বি এবং এবি তাদেরই এসবের ঝুঁকি বেশি থাকে।

আর এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এই ব্লাড গ্রুপের লোকজনের শরীরে এমন প্রোটিনের মাত্রা বেশি থাকে যা রক্তকে জমাট বাঁধতে ভূমিকা রাখে।

ছবির কপিরাইট Science Photo Library
Image caption যাদের রক্তের গ্রুপ এ, বি এবং এবি তাদেরই এসবের ঝুঁকি বেশি থাকে

নেদারল্যান্ডসে গ্রনিঙ্গেন ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাটি চালিয়েছেন। তারা বলছেন, এই আবিষ্কারের ফলে ডাক্তাররা এখন আগের চেয়ে আরো ভালো করে বুঝতে পারবেন কোন কোন মানুষের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকবে।

যৌন মিলনের উৎস

বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা যৌন মিলনের উৎস খুঁজে পেয়েছেন।

গবেষকদের আন্তর্জাতিক একটি দল বলছে, তাদের জানা মতে, তিনশো পঁচাশি মিলিয়ন বছর অর্থাৎ সাড়ে আটত্রিশ কোটি বছর আগের একটি মাছ, প্রথমবারের মতো যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে প্রজনন ঘটিয়েছিলো। তারা বলছেন, ডিম ছাড়ার মাধ্যমে এই প্রজনন ঘটানো হয়নি।

এই মাছটির নাম মাইক্রোব্র্যাকএউসডিকি।

Image caption এই মাছটির নাম মাইক্রোব্র্যাকএউসডিকি

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই প্রজাতির পুরুষ মাছের ইংরেজি এল অক্ষরের আকারের মতো একটি অঙ্গ ছিলো যা লাগানো থাকতে তার মূল দেহের সঙ্গে। এই অঙ্গটি তারা লাগাতো নারী মাছের পেছনের দিকে। এভাবেই তারা প্রজনন ঘটাতো।

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই মাছটি পরে আবার ডিম ছেড়ে প্রজননের প্রক্রিয়ায় ফিরে এসেছিলো।

আদিকালের এই মাছটি ছিলো আট সেন্টিমিটার লম্বা। এটি এমন একটি লেকে বাস করতো যা আজকের দিনে ব্রিটেনের স্কটল্যান্ডে পরিণত হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এরপর প্রকৃতিতে যৌন মিলনের প্রক্রিয়া ফিরে আসতে পরে আরো কয়েক লাখ বছর লেগেছিলো।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মিজানুর রহমান খান।