বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপির ভিশন ২০৩০ নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ

  • ১২ মে ২০১৭
ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption খালেদা জিয়ার হাতে তার ভিশন ২০৩০ দলিল

২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ এবং রাজনীতিকে বিএনপি কোথায় নিতে চায়, বুধবার তার একটি রূপকল্প দিয়েছেন দলের নেত্রী খালেদা জিয়া।

ভিশন ২০৩০ নামে ঐ রূপকল্প নিয়ে বিবিসির কাছে তাদের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ঢাকার সাধারণ কজন বাসিন্দা, বিশ্লেষণ করেছেন দুজন শিক্ষাবিদ।

ঢাকায় শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শহীদুল মনে করেন বিএনপির এ কর্মসূচী তরুণদের আকৃষ্ট করবে। তিনি বলেন, "বিএনপি যে ভিশনটা দিয়েছে তাতে বাংলাদেশের অনেক তরুণ উৎসাহিত হবে। যে তরুণরা বিএনপিকে সমর্থন করেন, তারা রাজনীতিতে সক্রিয় হবে।"

ঢাকার একটি খবরের কাগজ বিক্রির দোকানে পত্রিকা পড়ছিলেন সোহেল পারভেজ তিনি বলেন "এ ভিশনটা ঘরে বসে দিলে হবে না, জনগণের সাথে কথা বলতে হবে জনগণের মত জানতে হবে। আর আওয়ামী লীগ এখন যে অবস্থানে আছে সেখানে (বিএনপির) এই ভিশন কোনো কাজেই আসবে না।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বুধবার বিএনপির ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির এরকম ভিশন জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার ছিল।

"এটাকে আমি ঠিক ভিশন বলবো না এটা হলো একটা কর্মসূচী। নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারলে এগুলো তারা বাস্তবায়ন করবে। জনসাধারণ ক্ষমতার উৎস তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। এখন এটি বিএনপির জন্য একটি সুযোগ। এতে আপাতত মনে হচ্ছে সাধারণ কর্মী নেতা এদের মধ্যে একটা উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সুতরাং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি (খালেদা জিয়া) সম্পূর্ণ সফল।"

আরও পড়ুন: রঙধনু জাতি: খালেদা জিয়ার বিএনপি কোন পথে

ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ

অধ্যাপক আহমদ মনে করেন বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি পরিবর্তন বা রাজনৈতিক সংস্কারের অঙ্গীকার করেছে সেগুলো যৌক্তিক। তবে সংসদে দ্বিকক্ষ প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা নিয়ে তিনি ভিন্নমত পোষণ করেন।

"দুটো চেম্বার করার জন্য যে কন্ডিশনগুলো দরকার হয় যেমন ফেডারেল ফরম অব গভর্মেন্ট অথবা রিজিওনালিজম অথবা একটা গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠী নির্বাচনের মাধ্যমে আসতে পারছেনা তাদেরকে আনা - বাংলাদেশে এখনো ঐ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।"

অন্যদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদের মতে বিএনপির ভিশন ২০৩০ আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচী বা নির্বাচনী ইশতেহার।

"পজিটিভ কর্মসূচী ভিত্তিক যে রাজনৈতিক চর্চা সেটা জাতির জন্য শুভ। আওয়ামী লীগের যেমন ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ আছে সেভাবে বিএনপি একটি ভিশন প্রকাশ করলো এই চর্চাটা ভাল।"

ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ

তবে অধ্যাপক হারুন মনে করেন বিএনপির কোনো প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারবে না। "হ্যাঁ, এটা একটা প্রভাব ফেলতে পারে তার জন্য আগামী দশ বছর বিএনপি সরকার বা বিরোধীদল যেখানেই থাকুক তাদেরকে পরীক্ষা নিরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে।"

বিএনপির ভিশন২০৩০ এ যে অঙ্গীকারগুলো জনগণের আস্থা অর্জন করবে কিনা সেটি নিয়ে সংশয় ব্যক্ত করেন অধ্যাপক হারুন।

তিনি বলেন, "অতীতে কী অবস্থা ছিল সেটা মানুষ দেখবে। আপনি যখন দুর্নীতি, সুশাসনের কথা বলেন, আপনার সময়ে দুর্নীতি সুশাসনের কী অবস্থা ছিল মানুষ সেটাও দেখবে। কোনো রাজনৈতিক নেতা বা একটি দল যখন কথা বলে তখন মেইন যেটা দরকার সেটা হলো ক্রেডিবিলিটি অর্থাৎ আপনি যে কথাটা বলেছেন সেটা কতটা মানুষ আস্থার সাথে নিতে পারে। সেই ক্রেডিবিলিটির জায়গাটা বিএনপির নাই, স্পষ্টভাষায় যদি বলি।"

আরও পড়ুন:'পুরো ঘটনা মাত্র ১১ সেকেন্ডে, বিলিভ ইট অর নট'

বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ২০০৮ এ ভিশন ২০২১ ঘোষণার পর ২০১৪ সালের ইশতেহারে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রূপকল্প দিয়েছে।

জানা গেছে জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগও তাদের পূর্বঘোষিত রূপকল্প ২০৪১ সুনির্দিষ্ট আকারে জনগণের সামনে তুলে ধরবে।