আফ্রিকাতে ত্রাণ দিতে জাতিসংঘর তহবিলে টান

  • ১৫ মে ২০১৭
ছবির কপিরাইট STRINGER
Image caption দক্ষিণ সুদান থেকে লক্ষ লক্ষ শরণার্থী পাশের দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন

দক্ষিণ সুদানে গৃহযুদ্ধের কারণে যে লক্ষ লক্ষ লোক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে অন্য দেশগুলোতে শরণার্থী হয়েছে, তাদের সহায়তার জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থাগুলো ১৪০ কোটি ডলার দেবার আবেদন জানিয়েছে।

গৃহযুদ্ধের কারণে কমপক্ষে ১৮ লক্ষ লোক দক্ষিণ সুদানের প্রতিবেশী দেশগুলোয় আশ্রয় নিয়েছে, আর দেশটির ভেতরে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে আরো ২০ লক্ষ লোক।

জাতিসংঘ এবং বিশ্ব খাদ্য সংস্থা উভয়েই বলছে, এই লোকেরা অকল্পনীয় এবং নারকীয় দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছে।

দক্ষিণ সুদান গৃহযুদ্ধের কবলে আছে ২০১৩ সাল থেকে। এসময়েই লাখ লাখ শরণার্থী ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে।

জাতিসংঘের হিসেবে দক্ষিণ সুদানের প্রায় ১৮ লাখ মানুষ এখন শরণার্থী। এদের মধ্যে দশ লাখই হল শিশু।

সহিংসতা থেকে বাঁচতে এরা সবাই আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী দরিদ্র দেশগুলোতে, বিশেষ করে উগান্ডা, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে।

ছবির কপিরাইট STRINGER
Image caption দক্ষিণ সুদানের ভেতরেও নিজের ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস করছেন প্রায় ২০ লক্ষ লোক

শুধু দেশের বাইরে শরণার্থীরাই নয়, দক্ষিণ সুদানের ভেতরেও আরো কুড়ি লাখের মতো মানুষ তাদের ভিটেমাটি ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই জাতিসংঘ ঘোষণা করেছে যে দেশটির দুটো এলাকা দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হয়েছে।

এই সঙ্কট আরো গভীর হয়েছে যখন শরণার্থীদের খাবার দাবার ও আশ্রয় দেওয়ার জন্যে পর্যাপ্ত তহবিলও জাতিসংঘের কাছে নেই।

অর্থের অভাবে উগান্ডাতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থী পরিবারগুলোকে দেওয়া রেশনেও কাটছাট করতে হয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য বিষয়ক সংস্থাকে।

আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন না সহিংসতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্ভিক্ষের কারণেও আরো বহু মানুষ এখনও দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। জাতিসংঘ যতো সংখ্যক শরণার্থীর আশঙ্কা করেছিলো বাস্তবে দেখা যাচ্ছে প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়েও অনেক বেশি।

আর শরণার্থীদের এই স্রোত সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আশেপাশের দেশগুলোকেও।

আমাদের সাইটে আরও পড়তে পারেন :

দিল্লির চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার 'নির্ভয়া'র সঙ্গে ঘটা নৃশংসতাকেও যা হার মানাচ্ছে

ক্যান্সারকে অলৌকিকভাবে জয় করে সুস্থ হলো যে শিশু

সম্পর্কিত বিষয়