ছোট্ট দেশ বেলজিয়াম কেন এত বেশি জ্বলজ্বল করে?

ছবির ওপরের দিকে কমলা আভাযুক্ত অংশটিই বেলজিয়াম - আর তার উত্তরদিকে অরোরা বোরিয়ালিস ছবির কপিরাইট Thomas Pesquet / ESA
Image caption ছবির ওপরের দিকে কমলা আভাযুক্ত অংশটিই বেলজিয়াম - আর তার উত্তরদিকে অরোরা বোরিয়ালিস

বেলজিয়ামে মোটরওয়েগুলোতে সারা রাত ধরে উজ্জ্বল স্ট্রিট লাইট জ্বালিয়ে রাখার যে চল আছে, মহাকাশ থেকে ফরাসি নভোচর টমাস পেস্কের তোলা ছবিতেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন থেকে তিনি সম্প্রতি যে ইউরোপের ছবি তুলেছেন তা নিয়ে ফেসবুকে তুমুল চর্চা চলছে। হাজার হাজার লোক সেই ছবিতে কমেন্ট করেছেন।

আর ইউরোপ মহাদেশের সেই ছবিতেই দেখা যাচ্ছে, বেলজিয়াম তার প্রতিবেশীদের তুলনায় অনেক বেশি জ্বলজ্বল করছে।

বেলজিয়ামে রাস্তার নেটওয়ার্কের ঘনত্ব খুব বেশি - আর তার পুরোটাতেই প্রায় স্ট্রিট লাইট আছে। আর সেগুলো জ্বালানো থাকে সারা রাত ধরেই।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি রিপোর্ট বলছে, বেলজিয়ামের রাস্তাগুলোয় আলো দিতে প্রায় ২২ লক্ষ বাল্ব ব্যবহার করা হয়। প্রতি বর্গমাইলে সে দেশে আছে প্রায় ১৮৬টি স্ট্রিট বাল্ব।

ছবির কপিরাইট Thomas Pesquet / ESA
Image caption পৃথিবীর প্রায় ৪০০ কিমি ওপর থেকে লন্ডন, ব্রাসেলস ও প্যারিসের ছবি তুলেছেন ফরাসি ওই নভোচর

৩৯ বছর বয়সী ফরাসি নভোচর তার টুইটারে এমন একটি ছবি পোস্ট করেন, যাতে পৃথিবীর উত্তরপ্রান্তে নর্দার্ন লাইটস বা অরোরা বোরিয়ালিস দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সেই সঙ্গেই তিনি লেখেন, 'যথারীতি বেলজিয়ামকে এখানেও সবার চেয়ে আলাদা করে চেনা যাচ্ছে'।

নিজেস্ব ফেসবুক পেজে আর একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন লন্ডন, প্যারিস ও ব্রাসেলস মিলে তৈরি করেছে একটি 'একান্তভাবে ইউরোপীয় ত্রিভুজ'।

এই ছবিগুলো তোলা হয়েছে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের একটি মডিউল 'কিউপোলা' থেকে - যেটি তৈরি করেছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি।

নিজের ব্লগে তিনি আরও লিখেছেন মহাকাশ স্টেশনের একটি এক্সারসাইজ মেশিনে শরীরচর্চা করার সময়ই তিনি পৃথিবীর এই দৃশ্যগুলো দেখতে খুব ভালবাসেন।

''এত সুন্দর ভিউ-ওলা জিম তো খুব বেশি নেই'', মজা করে লিখেছেন তিনি।

ছবির কপিরাইট Thomas Pesquet / ESA
Image caption আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে শরীরচর্চা ও পড়াশুনো করছেন টমাস পেস্ক

সোশ্যাল মিডিয়াতে তার ছবিগুলো নিয়ে যে চর্চা হচ্ছে তাতে বেশির ভাগ লোকই লিখেছেন পৃথিবীর চারশো কিমি ওপর থেকে তোলা এই গ্রহের রাতের সৌন্দর্যের ছবি দেখে তারা মুগ্ধ।

তবে পৃথিবীতে যেভাবে বিদ্যুতের অপচয় করা হচ্ছে এবং আলোক দূষণ ঘটছে তা নিয়ে অনেকে সমালোচনা করতেও ছাড়েননি।

ক্রিস্টিয়ান সেলার নামে ফেসবুকে একজন মন্তব্য করেছেন, ''আকাশ যারা ভালবাসেন তাদের জন্য এটা ভয়াবহ। আলোর রোশনাই আর বিদ্যুতের চরম অপচয়!''

আরও একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী চিন্তিত ভিনগ্রহের প্রাণীদের নিয়ে। তিনি বলছেন, "আমি আশা করব এলিয়েনরা আলো দেখে পৃথিবীতে আসতে আকৃষ্ট হবে না। আমরা তো তাদের একসঙ্গে সবাইকে ঠাঁই দিতে পারব না!''

আমাদের সাইটে আরও পড়তে পারেন :

দিল্লির চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার 'নির্ভয়া'র সঙ্গে ঘটা নৃশংসতাকেও যা হার মানাচ্ছে

ক্যান্সারকে অলৌকিকভাবে জয় করে সুস্থ হলো যে শিশু

আফ্রিকাতে ত্রাণ দিতে জাতিসংঘর তহবিলে টান