পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা পরীক্ষায় হিন্দু ছাত্রীর অসামান্য সাফল্য

  • ১৭ মে ২০১৭
ছবির কপিরাইট নুরুল ইসলাম
Image caption খালাতপুর হাই মাদ্রাসার শিক্ষকরা প্রশমাকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার একটি ছাত্রী প্রশমা শাসমল মাদ্রাসা বোর্ডের মাধ্যমিক পরীক্ষায় পুরো রাজ্যে ৮ম হয়েছে। ইসলাম ধর্ম শিক্ষায় সে একশর মধ্যে ৯৭ নম্বর পেয়েছে।

কোনও হিন্দু ছাত্রী মাদ্রাসা পরীক্ষায় এর আগে এত ভালো ফল করেনি করে নি। সে কারণে, গতকাল (মঙ্গলবার) ফল বেরুনোর পর থেকে প্রশমাকে নিয়ে শুধু হাওড়া নয়, পুরো রাজ্যেই চর্চা হচ্ছে।

হাওড়ার খালাতপুর হাই মাদ্রাসার ঐ ছাত্রী প্রশমা শাসমল বিবিসি বাংলাকে বলছিল, "র‍্যাঙ্ক করতে পেরে খুব ভাল তো লাগছেই। পরীক্ষা খুব ভালই হয়েছিল, নম্বরটা আরেকটু বেশী পেলে আরও ভাল লাগত।"

পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা বোর্ডের সিলেবাসে হাই মাদ্রাসা স্তরে অন্য স্কুলের মতোই ইংরেজি, অঙ্ক, বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ের সঙ্গে আরবি এবং ইসলামি পরিচয় - এই দুটি বিষয় পড়তে হয়।

বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা হয়।

আরও পড়ুন : ৮২ বছর বয়সে স্কুলের গণ্ডি পার হলেন তিনি

ছবির কপিরাইট নুরুল ইসলাম
Image caption প্রশমা শাসমল ষষ্ঠ শ্রেনী থেকেই মাদ্রাসার ছাত্রী

হাই মাদ্রাসা পর্যায়ের সিলেবাস মাধ্যমিকের মতোই হলেও সিনিয়র মাদ্রাসা পর্যায়ে ইসলামি ধর্মশিক্ষার ওপরে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।

একজন হিন্দু হয়েও আরবি আর ইসলাম পরিচয় - এই দুটি বিষয় পড়তে তার কেমন লাগত? এই প্রশ্নে প্রশমা বিবিসিকে বলেন, "ওই দুটো সাবজেক্টকে আলাদা ভাবে দেখি নি কখনও। অন্য বিষয় যেমন পড়তাম এগুলোও সেইভাবেই পড়তাম, ভাল লাগত পড়তে। আর আমি ক্লাস সিক্সে এই মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পর থেকেই দেখেছি যে স্যারেরা এই দুটো বিষয়ে কে কেমন করছে, তার ওপরে খুব নজর দিতেন।"

আরও পড়ুন: মানুষ নেই, কিন্তু প্লাস্টিক-আবর্জনার পাহাড়

প্রশমা হিন্দু হয়েও ইসলাম পরিচয় পরীক্ষায় ১০০র মধ্যে ৯৭ নম্বর পেয়েছে।

বড় হয়ে প্রশমা পদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করতে চায়।

"বন্ধুদের মধ্যে হিন্দু-মুসলমান কাউকে কখনও আলাদা করে দেখি নি - একসঙ্গে খেয়েছি, আড্ডা মেরেছি। স্যারেদের মধ্যেও হিন্দু যেমন আছেন, মুসলমানও তেমন আছেন। সবাই আমাদের পড়াশোনার দিকে খুব নজর দিতেন ছোট থেকেই," বলছিলেন প্রশমা শাসমল।

প্রশমারই এক সহপাঠী, আরেক হিন্দু ছাত্র মলয় মাঝিও এবছরের মাদ্রাসা পরীক্ষায় ১৭ নম্বর স্থান অধিকার করেছে।

সম্পর্কিত বিষয়