জলবসন্তের রোগীর জায়গা নেই বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে

ছবির কপিরাইট Paula Bronstein
Image caption জলবসন্তে আক্রান্ত শিশু। (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশে একজন ব্যাংক কর্মকর্তার গর্ভবতী স্ত্রী জলবসন্তে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেছেন বেশ কিছু হাসপাতালে যোগাযোগ করেও তার স্ত্রীকে তিনি ভর্তি করাতে পারেননি ।

ঢাকার ব্যাংক কর্মকর্তা তওফিকুল করিম জানান গত সপ্তাহের শুরুতে তার স্ত্রী যখন চিকেন পক্স বা জলবসন্তে আক্রান্ত হন তখন তিনি ছ'মাসের গর্ভবতী। আর সে কারণেই তারা দ্রুতই ছুটে যান চিকিৎসকের কাছে যার তত্ত্বাবধানে তিনি ছিলেন গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই।

"যখন দেখলাম চিকেন পক্স বাড়ছেই, কমছেনা কয়েকদিন হওয়ার পরও। তারপর কয়েকটা হাসপাতালে গেলাম কিন্তু তারা বলেছে এ রোগীকে রাখা যাবেনা"।

এরপর পরিস্থিতি অবনতি হলে মিস্টার করিম স্ত্রীকে নিয়ে মধ্যরাতে ছুটে যান সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেই বা কতটুকু মিলেছিলো চিকিৎসা সেবা ?

তিনি বলেন, "মহাখালী সংক্রামক ব্যাধিতে নিয়ে ভর্তি করলাম। এরপর চিকিৎসার আগেই সে মারা যায়। মহাখালীতে নেয়ার পর সেখানে ওর যখন শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিলো তখন দেখা গেলো অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই। ইমার্জেন্সি কোন চিকিৎসা পেলামনা"।

এমন অবস্থায় কেউ জলবসন্তে আক্রান্ত হয়ে কেউ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে গেলে তার চিকিৎসা সেবা মিলবে কিভাবে?

জবাবে ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ও বেসরকারি সংস্থা জাতীয় স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের আহবায়ক অধ্যাপক রশীদ ই মাহবুব স্বীকার করেন, জরুরী অবস্থায় জলবসন্তের রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা রাষ্ট্র করেনি।

তিনি বলেন, "ছোঁয়াচে হওয়ার কারণে কোন সাধারণ হাসপাতাল তাদের কাছে রাখতে চাইবেনা। সংক্রামক ব্যধিতে তার একটা ব্যবস্থা হতে পারে। আরেকটা হতে পারে বাসায় চিকিৎসা দেয়া"।

তাহলে জরুরী প্রয়োজনে চিকিৎসা মিলবে কিভাবে - এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন রাষ্ট্র সে ব্যবস্থা করেনি।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption চীনে জলবসন্তে আক্রান্ত এক পরীক্ষার্থীকে আলাদা কক্ষে বসানো হয়েছে (ফাইল ফটো)

তওফিকুল করিম যে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে তার স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলেন সেখানে জলবসন্তের চিকিৎসার ব্যবস্থা কতটা রয়েছে?

সরকারি একটি হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক বলেন, "যতদূর জানি সেখানে আইসোলেশন সিস্টেম নাই। শুধু জলাতঙ্কের জন্য আছে। বসন্ত যাতে না ছড়ায়, ডাক্তারদের সেভাবে প্রি-কশন নিয়ে যেতে হয়। সে ধরনের ব্যবস্থা এখানে নেই"।

বাংলাদেশে প্রতিবছর কত মানুষ জলবসন্তে আক্রান্ত হয় তার সুনির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে সাধারণত শীতের শেষে বা বসন্তের শুরুতে এই রোগ বেশি হতে দেখা যায়। চিকিৎসকরা বলছেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাসায় পরিচর্যার মাধ্যমে রোগটি সেরে যায়। আইনি কোন বাধা না থাকলেও ছোঁয়াচে হওয়ার কারণে সাধারণ হাসপাতালগুলো এসব রোগীদের ভর্তি করতে চায়না।

কিন্তু স্বাভাবিক পরিচর্যায় না সেরে যদি কোন রোগীর অবস্থা আরও জটিল হয় তাহলে তার তাৎক্ষনিক চিকিৎসা কিভাবে হবে, তার উত্তর জানা নেই কারো।

সম্পর্কিত বিষয়