ধর্ষণের অভিযোগে হিন্দু ধর্মগুরুর পুরুষাঙ্গ কর্তন

  • ২০ মে ২০১৭
ভারতে ধর্ষণ একটা বড় সমস্যা ছবির কপিরাইট SAJJAD HUSSAIN/AFP/GETTY IMAGES
Image caption বেশ কয়েক বছর ধরে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন সহ্য করার পর কেরালার এক স্কুল ছাত্রী নির্যাতনকারীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছে।

ভারতের কেরালা রাজ্যের এক ছাত্রী শুক্রবার রাতে এক হিন্দু ধর্মগুরুর পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছে।

কথিত ওই ধর্মগুরু গত বছর ছয়েক ধরে নিয়মিত এই ছাত্রীটিকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন চালিয়ে গেছেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

গতরাতে ওই ব্যক্তি মেয়েটির বাড়িতে এসে তাকে আবারও ধর্ষণ করতে উদ্যত হলে সে একটি ছুরি দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে দেয়।তারপরে নিজেই পুলিশের কাছে ঘটনাটি জানায়।

হাসপাতালের তরফে বলা হয়েছে ওই ব্যক্তির পুরুষাঙ্গ প্রায় ৯০% কেটে গেছে, সেটা জোড়া দেওয়া প্রায় অসম্ভব।

কেরালার রাজধানী থিরুভনন্তপুরমের পুলিশ কমিশনার স্পর্জন কুমার বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, "২৩ বছর বয়সী আইনের ছাত্রী ওই মেয়েটি এবং তার পরিবার কোল্লাম জেলার যে হিন্দু আশ্রমের ভক্ত ছিল, সেখানকারই ধর্মগুরু ছিলেন গঙ্গেশানন্দ তীর্থপদ ওরফে হরিস্বামী নামের ওই ব্যক্তি।''

''মেয়েটি আমাদের জানিয়েছে যে তার যখন ১৭ বছর বয়স, তখনই হরিস্বামী তাকে প্রথম ধর্ষণ করে,'' বলেন স্পর্জন কুমার।

কিন্তু আশ্রমের স্বামীজিকেই বাবা-মা বেশি বিশ্বাস করবে এই ভয়ে মেয়েটি কিছু বলতে পারে নি বলে বলেন পুলিশ কমিশনার স্পর্জন কুমার।

''তারপর থেকে গত বছর ছয়েক ধরে সে নিয়মিতই যৌন নিপীড়ন চালাত। গতরাতে হরিস্বামী আবারও মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে নিপীড়নের চেষ্টা করলে তখনই ছুরি দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে দেয় ওই ছাত্রী।"

ওই ঘটনার পরে ছাত্রীটি নিজেই পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে খবর দেয়। মেয়েটির পরিবারই ওই ধর্ষককে থিরুভনন্তপুরমের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায় শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে বারোটার সময়।

চিকিৎসকরা বলছেন, "৫৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার পুরুষাঙ্গ শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল হলেও পুরুষাঙ্গ জোড়া দেওয়া প্রায় অসম্ভব।"

আরও পড়তে পারেন:

বাংলাদেশে ঢাকায় ১৬ জন ভুয়া গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার

সমকামী এক বাংলাদেশির অভিজ্ঞতা: 'আমি এখন পরিবারের বিষফোঁড়া'

বাংলাদেশে ধর্ষণের বিচার খুবই কম, হয়রানির শিকার ভিকটিম

Image caption কেরালার রাজধানী থিরুভনন্তপুরমের কোল্লাম জেলার এক যে হিন্দু আশ্রমের ধর্মগুরু ছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি

ওই ছাত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে হরিস্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

একই সঙ্গে শিশুদের যৌন নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা করার যে কঠোর আইন তৈরি হয়েছে, সেই 'পস্কো' আইনেও মামলা হয়েছে।

পুলিশ বলছে ওই ছাত্রীর ওপরে যখন প্রথম যৌন নির্যাতন হয়, তখন যেহেতু সে নাবালিকা ছিল, তাই পস্কো আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।

কেরালার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলি কোল্লাম জেলার ওই আশ্রমটিকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে হরিস্বামী তাদের সঙ্গে গত ১৫ বছর ধরেই আর যুক্ত নেই।

তারা আরও লিখছে যে হরিস্বামী ওই ছাত্রীর বাড়িতে প্রায়ই আসত তার মাকে সাহায্য করার অছিলায়। মেয়েটির বাবা বছর কয়েক আগে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। হরিস্বামী এই ছাত্রীটির মতো নিয়মিত তার মাকেও ধর্ষণ করত বলে সে পুলিশকে জানিয়েছে।

তবে ছাত্রীর মাকেও পুলিশ আটক করেছে, কারণ তারা মনে করছে মেয়েকে যে ওই সাধু ধর্ষণ করে, সেটা তিনি জেনেও চুপ করে ছিলেন। আইনের চোখে এটাও অপরাধ।

ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে এখনও কোনও মামলা দায়ের করে নি পুলিশ।

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ওই ছাত্রীর অসীম সাহসকে বাহবা দিয়েছেন।

সম্পর্কিত বিষয়