সৌদি আরবের সাথে ৩৫ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি, আজ মুসলিম দেশের নেতাদের বক্তব্য দেবেন ট্রাম্প

ছবির কপিরাইট AFP/Getty
Image caption বাদশাহ সালমান মি. ট্রাম্পকে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা প্রদান করেন।

সৌদি আরবের সাথে মোট ৩৫ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরবে তার সফরের প্রথম দিনটি ছিল অসাধারণ।

সব চুক্তির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল একটি অস্ত্র চুক্তি, যাকে হোয়াইট হাউজ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক অস্ত্র চুক্তি।

সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ ৪০ টি মুসলিম দেশের নেতাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখবেন মি. ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবে পৌঁছানোর পরই তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন বাদশাহ সালমান। এরপর তিনি মি. ট্রাম্পের সাথে একই গাড়িতে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন এবং দিনের বেশিরভাগ সময় তার সাথেই কাটান।

সফরের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদিদের মধ্যে যে ৩৫ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ১১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি।

অস্ত্র চুক্তির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেন, এই চুক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে সৌদিরা তাদের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী, ইরানের হুমকি মোকাবেলা করতে পারে।

"প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সহযোগিতা সৌদি আরব এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে নিরাপত্তা দেবে, বিশেষ করে ইরানের ক্ষতিকর প্রভাবের মুখে এবং ইরান সম্পর্কিত যে হুমকি সৌদি আরবের সীমান্তের চারিদিকে অবস্থান করছে সেই বিষয়ে"।

Image caption সৌদি শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে ঐতিহ্যবাহী নাচে অংশ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্র এবং আরব ইসলামী দেশগুলোর সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেন।

মি. ট্রাম্প আজ রিয়াদে আরব ইসলামিক আমেরিকান সম্মেলনে শান্তিপূর্ণ ইসলামের আশাবাদ বিষয়ে একটি বক্তব্য দেবেন।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়ে বিতর্কিত হয়েছিলেন। ক্ষমতাগ্রহণের পর তিনি সাতটি মুসলিম প্রধান দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর সেটি আদালত আটকে দিয়েছিল।

ক্ষমতাগ্রহণের পর এটিই মি. ট্রাম্পের প্রথম বিদেশ সফর।

এই সফরে তার সাথে ফার্স্ট লেডি মেলেনিয়া ট্রাম্প ছাড়াও রয়েছেন তার মেয়ে ইভাঙ্কা, জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা।

সৌদি আরব সফর শেষে ইসরায়েল, ফিলিস্তিনী এলাকা, ব্রাসেলস, ভ্যাটিকান এবং সিসিলি সফর করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।