ভারতে প্রতিবন্ধীদের জন্য মসজিদ, খুৎবার জন্য এলসিডি স্ক্রিন

  • ২৩ মে ২০১৭
ছবির কপিরাইট ability foundation
Image caption ভারতের কোনও মসজিদে সম্ভবত এই প্রথম সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের ব্যবহার করা হচ্ছে, বলছেন উদ্যোক্তারা।

ভারতের কেরালা রাজ্যে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরী একটি মসজিদের উদ্বোধন হলো সোমবার।

মালাপ্পুরামের পুডিক্কালের মসজিদ-অল-রহমায় প্রতিবন্ধী নামাজিদের জন্য একদিকে যেমন ঢালু পথ তৈরী হয়েছে, তেমনই ব্যবস্থা হয়েছে শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের কাছে খুৎবা পৌঁছে দেয়ারও বন্দোবস্ত।

কী সেই ব্যবস্থা, যাতে শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের কাছেও পৌঁছে যাবে নামাজের বাণী? ইমাম সাহেব খুৎবায় কী বলছেন সেটা তারা কিভাবে জানতে পারবেন?

যে সংগঠনটি এই মসজিদ তৈরি করেছে, পুডিক্কালের সেই অ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন ফর দ্যা ডিসএবেলড-এর চেয়ারম্যান আহমেদ কুট্টি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "যাঁরা কানে শুনতে পান না, তাঁদের মূল সমস্যাটা হল অন্য মসজিদে নামাজ পড়ার সময়ে এঁরা কিছুই জানতে-বুঝতে পারেন না। আমরা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ (ইশারা বা সাংকেতিক ভাষা) ব্যবহার করব এই মসজিদে"।

তিনি জানান, যখন নামাজ পড়া হবে, বা খুৎবা দেওয়া হবে, সেটা সঙ্গে সঙ্গেই সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে রূপান্তরিত করার জন্য একজন বিশেষজ্ঞ হাজির থাকবেন।

আর এই সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বিশেষজ্ঞ ইশারায় যখন খুৎবা রূপান্তরিত করবেন, সেটি যাতে সবাই দেখতে পান, সেজন্য বসানো হয়েছে বড় এলসিডি স্ক্রীনও।

ভারতের কোনও মসজিদে সম্ভবত এই প্রথম সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের ব্যবহার করা হচ্ছে, বলছিলেন মি. কুট্টি।

পুডিক্কালের অ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কেন্দ্রে শ'দুয়েক প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রী থাকেন।

এঁদের মধ্যে যারা শ্রবণ প্রতিবন্ধী, তাঁরা তো নিয়মিতই নামাজ পড়তে আসবেন, সেইসাথে মি. কুট্টির আশা পুডিক্কাল এবং আশপাশের এলাকা থেকেও অনেক শ্রবণ প্রতিবন্ধী মুসলিম বিশেষ করে শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়তে আসবেন তাঁদের নতুন মসজিদে।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা হত্যা, ধর্ষণের সব অভিযোগ থেকে নিজেদের মুক্তি দিল বার্মিজ সেনাবাহিনী

কাশ্মিরী যুবককে 'মানব-ঢাল' বানানো ভারতীয় সেনাকে পুরস্কার

ব্রিটেনে লন্ডন বোমা হামলার পর এটাই কি সবচেয়ে বড় হামলা?

মি. কুট্টির কথায়, "সব দিক বিবেচনা করেই আমরা মসজিদে একসঙ্গে ৫০০ মানুষের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেছি।"

ভারতের অনেক ধর্মীয় স্থানে প্রতিবন্ধীদের জন্য রেলিং সহ ঢালু-পথ বা হুইল চেয়ারে ভেতরে প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে।

কিন্তু কোনও ধর্মের শ্রবণ প্রতিবন্ধীরাই নামাজ-খুৎবা হোক, বা মন্ত্রোচ্চারণ অথবা গীর্জার প্রার্থনা বুঝতে পারেন না।

"আমরা মসজিদের জন্য যে মডেল তৈরী করলাম, সেটা এখন অন্য ধর্মস্থানগুলোতেও ব্যবহার করা যেতে পারে যাতে সেই ধর্মের শ্রবণ প্রতিবন্ধীরাও প্রার্থণার বাণী শুনতে পান," বলছিলেন মি. আহমেদ কুট্টি।