ম্যানচেস্টার হামলার গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস নিয়ে মুখেমুখি ব্রিটেন-আমেরিকা

ছবির কপিরাইট New York Times
Image caption ম্যানচেস্টার হামলার আলামত ছেপে দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস

ম্যানচেস্টারের সন্ত্রাসী হামলার গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস করে দেয়ায় ক্রুদ্ধ ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্রকে এ হামলা নিয়ে নতুন তথ্য দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

সোমবার রাতে হামলার কয়েক ঘন্টার মধ্যে হামলাকারির নাম-পরিচয় পরদিনই মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই ব্রিটিশ সরকার খোলাখুলি ক্ষোভ প্রকাশ করে।

কিন্তু সেই ক্ষোভ সত্বেও আবার গতকাল (বুধবার) হামলার বিভিন্ন আলামতের ছবি নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় ছাপা হয়।

আর তারপরই ম্যানচেস্টার হামলা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য আমেরিকানদের না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ব্রিটিশ পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মে বলেছেন, আজ (বৃহস্পতিবার) ব্রাসেলসে নেটো জোটের বৈঠকে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বিষয়টি তুলবেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অবশ্যই গোপন রাখতে হবে।

বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা গর্ডন কোরেরা বলছেন ব্রিটিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন হোয়াইট হাউস অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে এসব তথ্য ফাঁস হয়েছে।

তিনি বলছেন, বিশেষ করে নিউ ইয়র্ক টাইমসের ছবি ফাঁস নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের মধ্যে চরম বিস্ময় এবং ক্ষোভ তৈরি হয়। "সরকারের মধ্যে অনেকে এটা বিশ্বাসই করতে পারছেন না।"

আরও পড়ুন: ব্রিটেন ছেড়ে চলে যাচ্ছেন পূর্ব ইউরোপীয়রা

দখিনা বাতাসের কারণেই এবারে গরম বেশি

ছবির কপিরাইট .
Image caption সালমান আবেদির এক ভাই এবং বাবাকে আটক করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, যেখানে এই অপরাধের তদন্ত এখনও চলছে, সেখানে স্পর্শকাতর গোপন এসব তথ্য ফাঁসের ফলে অপরাধীরা সতর্ক হয়ে যেতে পারে।

বিবিসি জানতে পেরেছে, তাদের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়াতে প্রকাশিত হওয়ার ঘটনা নিয়ে ম্যানচেস্টার পুলিশ বিভাগ অত্যন্ত নাখোশ।

ম্যানচেস্টার পুলিশ প্রধান ইয়ান হপকিন্স বলেছেন, নিহত-আহতদের পরিবারের জন্য এসব ফাঁস হওয়া খবর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে।

'ফাইভ আইজ' বা পাঁচ চোখ নামে এক চুক্তি অনুযায়ী ব্রিটেন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ড নিরাপত্তা বিষয়ক যে কোনো গোয়েন্দা তথ্য নিজেদের মধ্যে বিনিময় করে।

কিন্তু আমেরিকায় এসব তথ্য ফাঁসের পর পরিস্থিতি এতটাই নাজুক পড়েছে যে ব্রিটেন সেটি স্থগিত রেখেছে।

বিবিসির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা ডমিনিক ক্যাসিয়ানি বলছেন, পাঁচটি দেশের মধ্য গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের মূল ভিত্তি 'আস্থা' এবং 'গোপনীয়তা'। অনুমতি ছাড়া কোনে দেশ এসব তথ্য ফাঁস করতে পারবে না।

সংবাদদাতা বলছেন, ম্যানচেস্টার সন্ত্রাসী হামলার তথ্য আমেরিকানদের না দেয়ার সিদ্ধান্তে বোঝা যায় ব্রিটেন কতটা ক্ষিপ্ত। তারা মনে করছে আমেরিকা গুরুত্বপূর্ণ এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।

সম্পর্কিত বিষয়