আলোচিত নায়িকা নুসরাত ফারিয়ার 'আল্লাহ মেহেরবান' গান সরানোর জন্য আইনি নোটিশ

  • ২৮ মে ২০১৭
ছবির কপিরাইট ফেসবুক
Image caption আল্লাহ মেহেরবান গানের পোস্টার

বাংলাদেশের মডেল নুসরাত ফারিয়া এবং কোলকাতার চিত্রনায়ক জিৎ অভিনীত একটি গানের অফিশিয়াল ভিডিও মুক্তি দেয়া হয় শুক্রবার।

জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে নির্মিত 'বস টু' নামে সিনেমার 'আল্লাহ মেহেরবান' শিরোনামে গানটি ইউটিউবে মুক্তি দেয়ার পর থেকেই এ নিয়ে শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক। তার মাঝেই এবার পাঠানো হল আইনি নোটিশ।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আলফে সানি বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন আজিজুল বাশার নামে একজন মক্কেল সংক্ষুব্ধ হয়ে তার কাছে আসেন এবং জানান, এটা তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে।

আইনজীবী সানি বলেন, "আমরা আইনি নোটিশ পাঠিয়ে বলেছি, আগামী তিনদিনের মধ্যে গানটি ইউটিউব সহ অন্য যেসব জায়গায় জাজ মাল্টিমিডিয়া রিলিজ করেছে সেখান থেকে থেকে সরিয়ে নেয়া হোক এবং অন্যান্য যারা আছে তাদের বলেছি রিমুভ না করা পর্যন্ত তারা যেন ই চলচ্চিত্র এবং গানটি প্রদর্শনী বন্ধ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন"।

এর আগেও আল্লাহর নাম নিয়ে অনেক গান হয়েছে। আইনজীবী আলফে সানিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল কেন এখানে ধর্মীয় অবমাননা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে?

তিনি বলেন, "আল্লাহর নাম নিয়ে, নবীর নাম নিয়ে এর আগেও অনেক গান হয়েছে। কিন্তু সেই গানের চিত্রায়ন, দৃশ্যায়ন অনেক ভিন্ন। সেখানে হয়তো মসজিদ দেখানো হয়েছে, মাজার দেখানো হয়েছে বা কোনও দুর্ভিক্ষ-পীড়িত মানুষ সাহায্য চাইছে-এমন দেখানো হয়েছে। কিন্তু এখানে দেখানো হয়েছে স্বল্পবসনা একটি মেয়ে মদের বোতল সামনে রেখে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় নাচ-গান করছে"।

আরও পড়ুন: 'গ্রীক দেবী'র জায়গা হলো সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে

দেশে ফিরলেন অস্ট্রেলিয়ার 'গাঞ্জা কুইন'

ছবির কপিরাইট you tube
Image caption বস টু ছবির এই গানটিতে নুসরাত ফারিয়ার সাথে দেখা যায় ভারতের কোলকাতার অভিনেতা জিৎকে।

মি. সানির স্বাক্ষর করা আইনি নোটিশ চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া, তথ্য মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, এফডিসির সভাপতি, মহাপরিচালক এবং সেন্সর বোর্ডের সভাপতির বরাবরে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার অফিশিয়াল ভিডিওটি ইউটিউবে মুক্তি দেয়ার পর রোববার বিকেল পর্যন্ত চার লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষ গানটি দেখেছেন। গানটি দেখা যেমন থেমে নেই তেমনি একে ঘিরে সমালোচনাও চলছে।

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লেখেন, গানটির চিত্রায়নে যে ধরনের পোশাক ও নাচ দেখানো হয়েছে তার সাথে "আল্লাহ মেহেরবান" কথা ব্যবহার করার মাধ্যমে ধর্মকে এবং আল্লাহকে অবমাননা করা হয়েছে।

গানের সাথে যিনি নেচেছেন সেই নুসরাত ফারিয়ারও তীব্র সমালোচনা করেন অনেকেই। কারও কারও পোস্টে যারা এই ভিডিও বানিয়েছেন বা ইউটিউবে ছেড়েছেন তাদের শাস্তি দাবি করেন।

আরজে (রেডিও জকি) কিবরিয়া সরকার ফেসুবকে যার ফলোয়ার দেড় লাখের বেশি , তিনি গানটির পোস্টার তার টাইমলাইনে শেয়ার করে লেখেন, "আল্লাহর নামে এই রকম একটা জঘন্য পোস্টারের প্রতিবাদ করলে কি আমি মৌলবাদী হয়ে যাবো? তাহলে আমি মৌলবাদী! আমি এইরকম পোষ্টার যারা করেছে তাদের যথোপযুক্ত শাস্তি দাবী করছি!ঘৃণা! "

তার এই পোস্ট আবার শেয়ার করেছেন অনেকেই। আবার ভিন্ন মতামতও রয়েছে।

সাংবাদিক সিমু নাসের গানের ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, "ওয়েল ডান নুসরাত ফারিয়া। এমন নানা ধরনের আরও গান হোক--নানা পোশাকে, নানা দেশে, নানা লিরিকসে। কারও পছন্দ হবে কারও হবে না। সব গান সবার পছন্দ হবে নাকি? সবাই মিলে এবার নিজের দেশের মেয়েদের দেখায় অভ্যস্ত হোক দিনদিন।"

‌এদিকে আইনি নোটিশ পাঠানোর বিষয় এখনো জানা নেই, বলা হচ্ছে জাজ মিডিয়ার পক্ষ থেকে। প্রতিষ্ঠানটির সাথে যোগাযোগ করা হলে এমনটাই বলেন সেখানকার মিডিয়া ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা।