কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড় 'মোরা'

  • ৩০ মে ২০১৭
আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন হাজার-হাজার মানুষ। ছবির কপিরাইট AFP
Image caption আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন হাজার-হাজার মানুষ।

ঘূর্ণিঝড় 'মোরা' সকাল ছয়টার দিকে কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ৮৯ কিলোমিটার, যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজার টেকনাফসহ আশেপাশের এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বইছে।

ঘূর্ণিঝড়ে সেন্টমার্টিন্স দ্বীপে প্রায় দুইশোর মতো ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন। অনেক কাঁচা বাড়িঘর ভেঙ্গে গেছে এবং অনেক গাছও উপড়ে পড়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন টেকনাফের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ওই এলাকায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানা যায়নি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন টেকনাফে বিশেষ দল পাঠানো হচ্ছে।

অন্যদিকে মহেশখালির স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুব রোকন জানিয়েছেন, সকাল নাগাদ আবারো প্রচন্ড বেগে বাতাস বইতে শুরু করে। সেখানে প্রচুর গাছপালাও উপড়ে গেছে। মহেশখালি ও মাতারবাড়িতে বেশিরভাগ বাড়িঘরই কাঁচাবাড়ি এবং এই ঝড়ে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে হতাহতের কোন খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ এবং টেকনাফে গভীর রাত থেকেই ঝড়ো হাওয়া বইছিল।

সেন্টমার্টিন্সে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৪ কিলোমিটার এবং টেকনাফে ঘন্টায় ১১৫ কিলোমিটার রেকর্ড করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে সমুদ্রের পানি প্রবেশ করে শাহপরীর দ্বীপ, মহেশখালী এবং কক্সবাজারের কিছু নিম্নাঞ্চল এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ। এসব বেড়িবাঁধের অনেকগুলোই গতবছর ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

ছবির কপিরাইট EPA
Image caption চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত।

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে । উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এছাড়া মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরায় ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে ঘূর্ণিঝড় মোরা'র প্রভাবে উপকুলীয় এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেশি জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার ৫৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামেও প্রায় এক লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন।

ঘূর্ণিঝড় 'মোরা'র ১০নং মহাবিপদ সংকেতের পর এখনও পর্যন্ত সারাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় তিন লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এবং কক্সবাজার বিমান বন্দরে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সব রুটে নৌ-যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

আরো পড়ুন:

কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় মোরা

ঘূর্ণিঝড় মোরা: আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে মানুষ, বন্ধ থাকবে বিমানবন্দর

কক্সবাজারের ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোরা