ঘূর্ণিঝড় 'মোরা' সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে?

ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে চট্টগ্রামে পতেঙ্গা উপকূল এলাকার অবস্থা ছবির কপিরাইট focusbangla
Image caption ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে চট্টগ্রামে পতেঙ্গা উপকূল এলাকার অবস্থা

ঘূর্ণিঝড় 'মোরা' ঘণ্টায় একশো কিলোমিটারের বেশি গতিবেগ নিয়ে উপকূল অতিক্রম করার পর স্থলভাগে এসে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বর্তমানে রাঙ্গামাটি ও এর আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। সেখানে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের সঙ্গে যে ঝড়ো হাওয়া বইছে তা আরও ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা। এর প্রভাবে সারাদেশে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমেই উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তবে এটি আরো দুর্বল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মংলা ও পায়রা সমুনদ্র বন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে আজ রাত নয়টা পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে পরবর্তীতে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আরো পড়ুন:‘আমরাতো নি:স্ব হয়ে গেলাম, ঘরবাড়ি সব গেল’

ছবির কপিরাইট AFP/GETTY IMAGES
Image caption হাজার হাজার মানুষ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়েকন্দ্রে অবস্থান করছেন।

কতটা শক্তি নিয়ে আঘাত করলো ঘূর্ণিঝড় 'মোরা'?

মঙ্গলবার ভোর ছয়টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে। কক্সবাজারে আঘাত হানার সময় বাতাসে এর গতিবেগ শুরুতে কম থাকলেও পরে সেই গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ১১৪ কিলোমিটার।

তবে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করার সময় পতেঙ্গায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৬ কিলোমিটার।

সেন্টমার্টিন্সে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৪ কিলোমিটার এবং টেকনাফে ঘন্টায় ১১৫ কিলোমিটার রেকর্ড করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানার সময় গতিবেগ কখনো বেড়েছে বা কমেছে।

টেকনাফে সাড়ে চারটায় বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ১০৯ কিলোমিটার থাকলেও ভোর সোয়া পাঁচটায় গতিবেগ ছিল ১৩৫ কিলোমিটার।

আরো পড়তে পারেন:

পোপ ফ্রান্সিসকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানালেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড়টি

‘নোংরা যুদ্ধে’র শর্ত মেনেই কাশ্মীরে লড়বে ভারত

ছবির কপিরাইট Focusbangla
Image caption চট্টগ্রাম পতেঙ্গা উপকূল এলাকা

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ এবং টেকনাফে গভীর রাত থেকেই ঝড়ো হাওয়া বইছিল।

বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে সমুদ্রের পানি প্রবেশ করে শাহপরীর দ্বীপ, মহেশখালী এবং কক্সবাজারের কিছু নিম্নাঞ্চল মঙ্গলবার সকালের মধ্যেই প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ।

সেন্টমার্টিন্স দ্বীপে প্রায় দুইশোর মতো ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন। অনেক কাঁচা বাড়িঘর ভেঙ্গে গেছে এবং অনেক গাছও উপড়ে পড়েছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী কক্সবাজারে প্রায় ২০ হাজার ঘরবাড়ি ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কক্সবাজারে দুজন নারীসহ তিনজনের মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন তারা। এছাড়া রাঙ্গামাটি জেলাতেও দুজন মারা গেছেন।

কক্সবাজারে বিদ্যুৎব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যান্য জেলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত জানা যায়নি। টেকনাফের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

মহেশখালির মাতারবাড়ি ইউনিয়নের বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক গাছপালাও ভেঙে পড়েছে।

মাতারবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাস্টার মাহমুদুল্লাহ জানান, তাঁর এলাকায় অন্তত সাত হাজার পরিবার ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দু'হাজারের মতো ঘরবাড়ি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে আর পাঁচ হাজারের মতো ঘরবাড়ি বাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে।

ফসলিজমি যা ছিল সব ধ্বংস হয়ে গেছে। এমনকি জমাকৃত যে লবন ছিল চাষীদের সেগুলোও সব নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।