উপকূলীয় বাংলাদেশ লণ্ডভণ্ড করে বিদায় নিল মোরা

ঘূর্ণিঝড়ে গাছ পড়ে বন্ধ কক্সবাজারের সড়ক। ছবির কপিরাইট ইপিএ
Image caption ঘূর্ণিঝড়ে গাছ পড়ে বন্ধ কক্সবাজারের সড়ক।

বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় মোরা আঘাত হানার পর তা এখন দুর্বল হয়ে ভারতের মিজোরাম-ত্রিপুরার দিকে চলে গেছে।

ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার ভোর বেলা কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূলে যখন আঘাত হানে, তখন ঐ অঞ্চলে ১০ নম্বর বিপদসংকেত দেয়া হয়েছিল।

কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ঘূর্ণিঝড়টির কারণে অন্তত ছয় জন নিহত হয়েছেন।

তবে হতাহতের সংখ্যা কম হলেও কেবলমাত্র কক্সবাজার জেলাতেই ৫০ হাজারের বেশী বাড়িঘর আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কক্সবাজার-চট্টগ্রামে বিপদসংকেত জারি করার পর থেকেই ঐ এলাকার স্থানীয় প্রশাসন বিপদের মধ্যে থাকা মানুষজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

সোমবার সন্ধ্যের পরই অনেকে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসেন।

তবে স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, বিপদের তোয়াক্কা না করে অনেকেই বাড়িতে থাকতে চেয়েছিলেন, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনেকটা জোর করেই তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীর একটি কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন নূর মোহাম্মদ, ছোটখাটো ব্যবসা করেন। বাড়ীর জনা দশেক সদস্য ছিলো সাথে।

তিনি বলছেন সকালের দিকে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ ছিল।

"জোরে বাতাস দেখছি। টিন গাছ-পালা ওড়াচ্ছে। আমাদের শেল্টারটা একটা স্কুলে ছিল। দরজা-জানালা একটু ভাঙ্গা-ভাঙ্গা। পানি যখন আসছে, তখন দরজার নিচে কাদামাটি দিছি। সবাই আতঙ্কে ছিল।"

ছবির কপিরাইট ইপিএ
Image caption ঝড়ের পরে বাড়ি ফেরা

"অল্প বয়সী মেয়েরা কান্নাকাটি করছে। আর টিন যখন উড়ছিল, তখন বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে।"

সাইক্লোন মোরা বাংলাদেশের সীমানায় সবচেয়ে আগে আঘাত হানে সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে।

এরপর অনেকটা উপকূল ঘেঁষে উপরের দিকে উঠে আসে।

ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজারের বিভিন্ন গ্রাম ও দ্বীপ।

তবে এই ঝড়ে হতাহতের সংখ্যা খুবই কম।

কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে কক্সবাজার জেলায় মারা গেছেন চারজন, আর রাঙ্গামাটি জেলায় দুই জন।

তবে কুতুবদিয়ার বড়গুফ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলছেন, ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মানুষের আবাসস্থলে।

তিনি জানান, "কাঁচা ঘরবাড়ি বেশী নষ্ট হয়েছে। সামনে বর্ষা। তাই প্রথম কাজ হবে তাদের গৃহ নির্মাণে সহায়তা করতে হবে। আর দ্বিতীয় হলো বেড়িবাঁধ - কিছুকিছু জায়গায় খোলা আছে। রিপেয়ার না হলে বর্ষাকালে নোনা পানি ঢুকে যাবে, চাষাবাদ হবেনা।"

ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের সরকারি কর্মকর্তারা এখন ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তৈরিতে ব্যস্ত।

তবে প্রাথমিকভাবে কিছু বিবরণ তৈরি করা হয়েছে কক্সবাজারে।

ছবির কপিরাইট ইপিএ
Image caption ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাব পড়েছে সারা দেশে।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, ৫০ হাজারের বেশী পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর অন্তত ৫২,০০০ বাড়ি আংশিক বা পুরোপুরিভাবে ভেঙ্গে গেছে।

তিনি মনে করেন, এগুলো ঠিক করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলছেন, ত্রাণের চেয়েও মানুষের বেশী চাহিদা গৃহ নির্মাণ সামগ্রীর, আর তা জানিয়ে সরকারের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।

"সরকার সাধারণত টিন দেয়, সাথে টাকা। এটা পাওয়ার পর তা ঠিক মত দেয়াটা আমাদের দায়িত্ব।"

ঢাকায় কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি, তবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

অন্যদিকে, আবহাওয়া দপ্তর বলছে, ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ চট্টগ্রামে ঘণ্টায় ১৪৬ কিলোমিটার মাপা হলেও ভাটার কারণে এতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়