ডা: ইকবাল জানেন না সাত মাস তিনি কোথায় ছিলেন

  • ১ জুন ২০১৭
ডা: ইকবাল
Image caption ডা: ইকবাল

ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকা থেকে প্রায় সাত মাস আগে 'অপহৃত হওয়া' ডা: মুহাম্মদ ইকবাল মাহমুদ গতরাতে লক্ষীপুরে তার বাড়িতে ফিরে এসেছেন।

তবে এই সাত মাস তিনি কোথায় ছিলেন কিংবা কারা আগে গাড়িতে তুলে নিয়েছিলো সেটি এখনো পরিস্কার নয়।

মি: ইকবালের বাবা একে এম নুরুল আলম বিবিসিকে বলেছেন সন্তানকে ফিরে পেয়েছেন এতেই তারা আনন্দিত।

"ছেলে ইকবাল ফিরে এসেছে আল্লাহর অশেষ রহমতে। আমার ছেলেকে ফিরে পাইছি। এটাই আমার চরম আনন্দ। শুকরিয়া জানাই সবাইকে"।

কিন্তু কোথায় ছিলেন ডা: ইকবাল ? এ সম্পর্কে পরিবারকে কিছু জানিয়েছেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মিস্টার আলম বলেন ইকবাল বলছে যে কে বা কারা তারা তুলে নিছে সে কিছুই জানে না।

"চোখ বাঁধা অবস্থায় নিয়ে যায়। ফেলে রাখার সময়ও চোখ বাঁধা ছিল। যারা তুলে নিছে তারা খারাপ ব্যবহার করে নাই, কিন্তু কোথায় ছিল কার কাছে ছিল সে কিছুই জানে না"।

বিস্তারিত কিছু না জানা গেলেও স্থানীয় লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলছেন গতকাল রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ইকবালকে চোখ বাঁধা অবস্থায় ঢাকা-রায়পুর সড়কের পাশে ফেলে যাওয়া হয়।

এরপর একটি অটোরিকশায় করে তিনি বাসায় ফেরেন - এমনটাই ডা: ইকবালের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে।

মিস্টার ইকবালকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঢাকা থেকে তুলে নেয়ার পর বিভিন্ন সময় তার পিতা মিস্টার আলম তার পুত্রকে খুঁজে বের করার জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বেশ কয়েক দফায় আবেদন করেছিলেন।

পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ডা: মোহাম্মদ ইকবাল ২৮তম বিসিএস পাস করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে কাজ শুরু করেন।

সেখান থেকে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে বদলি হন।

গত বছরের ১০ই অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই মাসের প্রশিক্ষণ নিতে ঢাকায় আসেন।

পরে বাড়ি গিয়ে আবার ১৫ই অক্টোবর ঢাকায় ফিরেন। সেদিনই তিনি 'অপহৃত' হন।

এর পর ঘটনাস্থলের কাছে একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ফুটেজে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় যেখানে দেখা যায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির লক্ষ্মীপুর- ঢাকা রুটের রয়েল কোচ নামে একটি বাস থেকে নামার পর মি: ইকবালকে কয়েকজন মিলে একটি মাইক্রোবাসে তুলছেন।

মাইক্রোবাসটি যখন তাকে নিয়ে ওই স্থান ত্যাগ করছিলো তার পেছেনে পুলিশের একটি পিকআপও চলে যেতে দেখা যায়।

আরো পড়ুন:

‘প্রতিবন্ধী মেয়েদের ঋতুস্রাব বন্ধ করার ব্যবস্থাও করা হয়’

'চরিত্র গঠনের জন্যই লেখায় এসেছে ধর্মের পাশাপাশি যৌনতা '

‘আমরাতো নি:স্ব হয়ে গেলাম, ঘরবাড়ি সব গেল’

পোপ ফ্রান্সিসকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানালেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী

সম্পর্কিত বিষয়