বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর মোটা অংকের বাজেট প্রস্তাবে থাকছে সম্প্রসারিত ভ্যাট

  • ১ জুন ২০১৭
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল মুহিত ছবির কপিরাইট Focus Bangla
Image caption অর্থমন্ত্রী আবুল মাল মুহিত: বাজেট বক্তৃতা থেকেই এসেছে নতুন ভ্যাট আইন চালু করবার ঘোষণা।

বাংলাদেশে আগামী অর্থবছরের জন্য চার লাখ কোটিরও বেশি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিত। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তিনি এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন।

ধারণা করা হচ্ছে বিরাট এই ব্যয়ের জন্য অর্থ সংস্থান করতে গিয়ে সাধারণ জনগণের উপর করের বোঝা আরো বাড়বে।

এই বাজেট প্রস্তাবেই পাঁচ বছর আগে পাশ হওয়া একটি মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আইন নতুন অর্থবছর থেকেই চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া সকল পন্য ও সেবার জন্য ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায়ের কথা বলা হচ্ছে।

আশঙ্কা রয়েছে, এর ফলে অনেক পন্যেরই মূল্য বেড়ে যাবে।

অর্থ পরিমানের দিক থেকে এবারের বাজেট ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের সব রেকর্ডকে।

টাকার হিসেবে নতুন এই বাজেট ৪ লাখ ২৬৬ কোটির টাকারও বেশি, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চাইতে ২৬ শতাংশ বেশি।

এই বাজেটের একটি বড় অংশই আদায় করা হবে জনগণের কাছ থেকে কর বাবদ, যার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা।

বাকি প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা থাকবে ঘাটতি।

বাজেট বক্তৃতা থেকেই এসেছে নতুন ভ্যাট আইন চালু করবার ঘোষণা।

আরো পড়ুন: বনানীতে দুই ছাত্রীকে 'ধর্ষণের আলামত' পাওয়া যায়নি

ছবির কপিরাইট Focus Bangla
Image caption জাতীয় সংসদ: সংসদে পাশ হওয়ার পরও ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হতে লাগছে পাঁচ বছরেরও বেশি।

এই ভ্যাট আইন নিয়েই এবার বাজেট পূর্ব সময়ে সবচাইতে বেশি চর্বিত চর্বন হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা ছিলেন এই আইন বাস্তবায়নের ঘোর বিরোধী। যার কারণে সংসদে আইন পাশ হওয়ার পরও সেটি বাস্তবায়ন হতে লাগছে পাঁচ বছরেরও বেশি।

কিন্তু এবছর অর্থমন্ত্রী ছিলেন নাছোড়, তাই শেষ পর্যন্ত নতুন অর্থ বছরের পয়লা দিন থেকেই ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা এলো।

অবশ্য আইনে কিছু সংযোজন বিয়োজন পরিবর্ধন পরিমার্জন হয়েছে।

কিন্তু মোটা দাগে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায়ের হিসেবটিতে কোন নড়চড় হয়নি।

আশংকা রয়েছে, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে বাজারে থাকা বেশিরভাগ পন্য ও সেবার মূল্যই বেড়ে যাবে।

যদিও রাজস্ব বোর্ডের বক্তব্য, ব্যবসায়ীরা সৎ থাকলে এবং সঠিকভাবে হিসেব রাখলে, মূল্য কমে যাবার কথা।

তবে ভ্যাটের আওতামুক্ত পন্যের সীমা এবার আগের চাইতে বাড়ানো হয়েছে।

ভ্যাটের আওতামুক্তের তালিকায় থাকছে সব রকমের ওষুধ, সব রকমের কৃষিজাত পন্য, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ প্রভৃতি।

আরো পড়ুন: ডা: ইকবাল জানেন না সাত মাস তিনি কোথায় ছিলেন

ছবির কপিরাইট SOHEL/Focus Bangla
Image caption শুল্ক কমানোর ফলে দাম কমতে পারে ১৬শ সিসি পর্যন্ত মোটরগাড়ি ও হাইব্রিড গাড়ির।

ফলে এগুলোর দাম কমতে পারে।

শুল্ক কমানোর ফলে দাম কমতে পারে, ১৬শ সিসি পর্যন্ত মোটরগাড়ি ও হাইব্রিড গাড়ির।

এদিকে শুল্ক-হার বাড়ানোর ফলে দাম বাড়বে কমদামি সিগারেট, বিড়ি, ই-সিগারেট, ফাস্টফুড, মশলাজাত পন্য, ১৬শ সিসির বেশি ক্ষমতার মোটরগাড়ি প্রভৃতির।

আয়করদাতাদের জন্য কোন সুখবর নেই। বাড়ছেনা করমুক্ত আয়ের সীমা।

আর যেসব মধ্যবিত্ত ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন কিছু লভ্যাংশের আশায়, তাদের জন্য দুসংবাদ।

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংকে রাখা আমানতের উপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এখন ব্যাংকের সুদের হারের যে অবস্থা, তাতে কেউ স্বল্পমেয়াদে এক লাখ টাকা ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করলে তার পকেটে আবার পুরো এক লাখ টাকা ফেরত নাও আসতে পারে।

হিসেবটা হতে পারে এ'রকম: এক লাখ টাকার বেশি ব্যাংকে থাকলে ৮০০ টাকা আবগারী শুল্ক দিতে হবে। আগে দিতে হত ৫০০ টাকা। আর আমানতের সূদের হার যদি পাঁচ শতাংশ হয়, তাহলে এক লাখ টাকায় এক মাসে পাওয়া যাবে ৫০০ টাকা। এখন কেউ যদি এক মাস এক লাখ টাকা ব্যাংকে আমানত রেখে তুলে ফেলতে চান তাহলে তিনি ফেরত পাবেন ৯২,৭০০ টাকা।

সম্পর্কিত বিষয়