লন্ডন হামলার পর ইসলামী চরমপন্থা মোকাবেলার কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মে

  • ৪ জুন ২০১৭
প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মে
Image caption ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মে উগ্রপন্থা মোকাবেলার জন্য সবাইকে একত্রিত হতে বলেছেন।

লন্ডন ব্রিজ ও বারো মার্কেটে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মে বলেছেন, যে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সবাইকে একত্রিত হবার এখনই সময়।তিনি বলেছেন "উগ্রপন্থাকে অতিরিক্ত সহ্য করা হচ্ছে এদেশে, তা বন্ধ করতে হবে"।

তাঁর ভাষায় "যথেষ্ট হয়েছে। আর নয়। শত্রু মোকাবেলার জন্য এখনই সময়"।

লন্ডন ব্রিজ ও বারো মার্কেটে শনিবার রাতে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে তাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ জনে। আহত অন্তত ৪৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ওই হামলার পর রোববার ডাউনিং স্ট্রিটে এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মে বলেন, ব্রিটেনে গত তিন মাসেরও কম সময়ে এটি তৃতীয় সন্ত্রাসী হামলা। প্রথম হামলাটি হয় মার্চ মাসে ওয়েস্ট মিনস্টার ব্রিজে।

দুই সপ্তাহ আগে ম্যানচেস্টার অ্যারেনায় আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। আর গতকাল শনিবার লন্ডনের কেন্দ্রস্থলেই হলো আরো একটি হামলা।

"এ হামলাগুলোতে সন্ত্রাসীদের যে পরিকল্পনা তা দেখে মনে হচ্ছে এসব হামলা পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত নয়। কিন্তু সন্ত্রাসী হামলার নতুন নতুন ধরণ দেখছি আমরা। আর সন্ত্রাসী হামলা তো সন্ত্রাসী হামলাই। তারা কখনো একে অন্যের কাজঅনুকরণ করছে । আবার কখনো সবচেয়ে হিংস্র আর ভয়াবহভাবে আক্রমণ করছে"।

"সন্ত্রাসীরা যেভাবে কাজ করছে যেভাবে হামলা চালাচ্ছে তা ব্রিটেন যথেষ্ট সহ্য করেছে, আর নয়" -বলেন মিস মে। সন্ত্রাসী হামলা নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিকল্পনা আনার কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেছেন, ব্রিটেনের মূল্যবোধ বজায় রেখেই চলতে হবে কিন্তু যখন চরমপন্থা, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের বিষয় আসবে তখন কিছু বিষয় পরিবর্তনের কথা ভাবতে হবে।

নির্বাচনের চারদিন আগে লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে হামলার ঘটনায় আজ নির্বাচনী প্রচারণাও বন্ধ রেখেছে রাজনৈতিক দলগুলো।

কিন্তু মিস মে বলেছেন, "তাদেরকে আমাদের গণতন্ত্রের পথ রোধ করতে দেওয়া যাবে না"।

কাল সোমবার থেকে আবার পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা চলবে এবং নির্ধারিত দিনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান টেরেজা মে।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption ইস্ট লন্ডনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তল্লাাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ

প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মে ইসলামী চরমপন্থা প্রতিরোধে ৪ টি প্রস্তাবনার কথা জানিয়ে বলেন, "প্রথমত সাম্প্রতিক হামলাগুলো কোনো একটি নেটওয়ার্কে সম্পৃক্ত নয়, তারা একটি সাধারণ ধারণার অনুসারী। এককভাবে ধ্বংসাত্বক ইসলামী চরমপন্থাকে লালন করে তারা"।

"তারা বলতে চায় স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পাশ্চাত্য ধ্যানধারণা ইসলামের ধ্যানধারণার পরিপন্থী। এই ধারণা প্রতিরোধ করাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ"।

"তবে সেটা শুধু সামরিক শাসন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তাদের মানসিকতা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে সম্ভব"- -বলেন প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মে।

দ্বিতীয় প্রস্তাব সম্পর্কে টেরেজা মে বলেন, উগ্রপন্থার এসব ধ্যানধারণা যেন আরো ছড়িয়ে না যায়, তারা যেন কোন জায়গা না পায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

ইন্টারনেটনির্ভর সেবাগুলো নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে একত্রে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

"ইন্টারনেটে তারা উগ্রপন্থী কর্মকান্ডের পরিকল্পনা করে। এগুলো রুখতে আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে হবে যেখান থেকে এসব নিয়ন্ত্রণ করা হবে"।

"তৃতীয়ত, এসব চরপন্থীদের শুধুমাত্র অনলাইনে বাধা দিলেই হবে না। বাস্তব জীবনেও এসব চরমপন্থীদের নিরাপদ স্থান রয়েছে সেগুলো ধ্বংস করতে হবে। সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের অবস্থান নির্মূলে সামরিক অভিযান হচ্ছে। সে ধরনের অভিযান এখানেও হতে হবে"।

প্রধানমন্ত্রী মে'র ভাষ্য অনুযায়ী 'উগ্রপন্থাকে অনেক সহ্য করা হয়েছে এদেশে"। সেকারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমাজের বিভিন্ন অংশে এদের চিহ্নিত করতে সবাইকেই কাজ করতে হবে।

এছাড়া চতুর্থ পরিকল্পনায় টেরেজা মে কাউন্টার টেরোরিজম স্ট্র্যাটেজির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে এখনকার সন্ত্রাসী হামলাগুলো আরো বেশি জটিল হয়ে উঠছে। হামলা বা হুমকিগুলোর বিষয়ে ব্রিটেনের 'স্ট্র্যাটেজি' নিয়ে পুনরায় ভাবার সময় এসেছে বলছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় ব্রিটেনে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। তবে ম্যানচেস্টার অ্যারেনায় বোমা হামলার পর যে মাত্রায় সতর্কতা জারি ছিল এবার সেই মাত্রায় জারি করা হয়নি।

আরো পড়ুন:

লন্ডন হামলা: এখন পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে

লন্ডনে কেমন আছে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা?

সম্পর্কিত বিষয়