কেন কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলো মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশ?

আঞ্চলিক রাজনীতিই এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption আঞ্চলিক রাজনীতিই এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে

কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নকারী দেশগুলোর অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় দোহা বলেছে, 'ভিত্তি নেই' এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ঐ সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে এবং এটি 'অন্যায্য' একটি সিদ্ধান্ত।

কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডসহ অন্যান্য জঙ্গি দলগুলোকে সমর্থন ও সহযোগিতা দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে কাতার উত্তেজনা সৃষ্টি করছে, এই অভিযোগে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

নজিরবিহীন এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে গাল্ফ অঞ্চলের দেশগুলো, যারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র, তাদের সাথে কাতারের সম্পর্কচ্ছেদ হিসেবে।

এর সাথে গাল্ফভুক্ত দেশগুলোর সাথে ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার একটি প্রভাব রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রক্রিয়া প্রথমে শুরু করে বাহরাইন। পরে সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিন্ন ভিন্নভাবে সম্পর্কচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়।

ছবির কপিরাইট গেটি ইমেজেস
Image caption কাতার মনে করে এ সিদ্ধান্ত অন্যায্য

গাল্ফভুক্ত দেশগুলো তাদের দেশে অবস্থানরত কাতারের নাগরিকদের দেশ ত্যাগের জন্য দুই সপ্তাহ সময় বেধে দিয়েছে।

কেন এই বিচ্ছেদ?

সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা হঠাৎ এলেও, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কাতারের সম্পর্কের টানাপড়েনের শুরু কয়েক বছর আগে, যা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দুই সপ্তাহ আগে গত ২৫শে মে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আল জাজিরা নেটওয়ার্কসহ কাতারের সংবাদ বিষয়ক সকল ওয়েবসাইট ব্লক করে দেয় এই চারটি দেশ।

বিতর্কিত ঐ ঘটনায় দেখা যায়, কাতারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে আমির সৌদি আরবের সমালোচনা করেছেন।

ঐ প্রতিবেদনে আমিরকে উদ্ধৃত করে আরো বলা হয়, তিনি ইরানের প্রতি আরব দেশগুলোর বিরোধিতার সমালোচনা করছেন।

ছবির কপিরাইট ইপিএ
Image caption দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব সফর করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

যদিও পরে কাতার তখন দাবী করে পুরো ঘটনাটি ভুয়া। কারণ রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা হ্যাক হয়েছিল এবং ঐ খবর সাইটটি হ্যাক হবার পর প্রকাশিত হয়েছিল বলেও দাবী করে কাতার।

তবে, মূলত দুটি বিষয় কাজ করেছে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে। এক, জঙ্গি সংগঠনসমূহের সঙ্গে কাতারের সংযোগ, আর দুই আঞ্চলিক রাজনীতিতে সৌদি আরবের প্রতিপক্ষ ইরানের ভূমিকা।

আইএস গোষ্ঠীকে ঠেকানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটে কাতার যোগ দিয়েছে ঠিকই।

তবে, সেই সঙ্গে ইরাকের শিয়া নেতারা অভিযোগ করে আসছিলেন যে কাতার আইএসকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে।

যদিও এ অভিযোগও অস্বীকার করে আসছে কাতার।

আবার সিরিয়ার কট্টর ইসলামী গ্রুপগুলোকে অর্থ এবং অস্ত্র দিয়ে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে।

আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট নুসরা ফ্রন্টের সঙ্গে কাতারের সংযোগের অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া সুন্নি প্রধান দেশ সৌদি আরব বরাবরই বাহরাইনের শিয়া জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে।

দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিয়াদ সফরের সময় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য ইরানকে দায়ী করেন।