বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়: বাড়িতে ফিরছে না লংগদুর পাহাড়িরা

ছবির কপিরাইট BBC BANGLA
Image caption পার্বত্য চট্টগ্রামে বহু বছর ধরে রয়েছে পাহাড়ি-বাঙালিদের বিবাদ

রাঙামাটির লংগদুতে পাহাড়িদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ ঘটনার বেশ কয়েকদিন পার হলেও পালিয়ে যাওয়া পাহাড়িরা এখনো নিজ ভিটায় ফিরে আসেননি।

পাহাড়িরা বলছে, নিরাপত্তা নিয়ে আশংকা থাকার কারণে তারা ফিরতে সাহস পাচ্ছে না।

একজন যুবলীগ নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে লংগদুতে গত শুক্রবার প্রায় ২০০ পাহাড়ির বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এমন প্রেক্ষাপটে সোমবার পাহাড়িদের সংগঠন ইউপিডিএফ'র ডাকে রাঙামাটিতে আধা-বেলা অবরোধ কর্মসূচীতে যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়লেও কোনও ধরণের সহিংসতা হয়নি।

গত শুক্রবার রাঙ্গামাটির লংগদুতে পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের পর এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার ছিল।

রাঙামাটির সাংবাদিক সুনীল দে জানাচ্ছেন, কোন সহিংসতা না হলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা আছে।

সাংবাদিক সুনীল দে জানালেন, " যারা পালিয়ে গেছে তারা সহজে ফিরতে চাচ্ছে না। এ বিষয়গুলো নিয়ে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে আস্থা-অনাস্থার ভাব দেখা যাচ্ছে। "

লংগদুর হামলায় বাড়িঘর হারিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার দেব কুমার।

চাকমা সম্প্রদায়ের এ বাসিন্দা গত তিনদিন ধরে নিকটস্থ একটি মন্দির চত্বরে আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িরা ত্রাণের চেয়ে নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বসত ভিটায় ফিরে আসার পর তারা আবার কোনও সহিংসতার কবলে পড়েন কী-না সেটি নিয়ে তাদের মনে সংশয় আছে।

সে কারণে অনেকেই দূর-দূরান্তে চলে গেছে, বলছিলেন দেব কুমার

দেব কুমার জানালেন, " ওরা তো এখন গাছের নিচে আছে, খোলা আকাশের নিচে আছে। স্থানীয় চাকমারা তাদের রান্না-বান্না করে খাওয়াচ্ছে। কবে নাগাদ তারা বাড়িতে ফিরবে সে ধরনের কোন নিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে না।"

সরকার যদি তাদের জন্য যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে তাহলে তারা অবশ্যই বাড়িতে ফিরে যাবে বলে উল্লেখ করেন মি: কুমার।

প্রশাসন বলছে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে তাদের সবাইকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আজ লংগদুতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখতে গিয়েছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো: রুহুল আমিন।

যেখানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক হয়েছে তাঁর।

মিঃ আমিন বলছেন, পাহাড়িরা যাতে তাদের নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেন সেজন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সব ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

তিনি জানিয়েছেন, লংগদুতে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এবং সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হচ্ছে।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, "যাদের ঘর-বাড়ি পোড়ানো হয়েছে তাদের লিস্ট করা হয়েছে। অচিরেই তাদের কমপেনসেশন (ক্ষতিপূরণ) দেয়া হবে। বাড়ি-ঘর পুড়ে গেলে যে ধরনের সাহায্য করা হয়, তার আলোকেই এটি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের নীতিমালা আছে।"

রাঙামাটি জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ২০০'র মত ঘরের তালিকা তৈরি করেছেন, সেগুলোতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

কয়েকদিনের মধ্যেই সেগুলো সরকারি সহায়তায় পুনঃনির্মাণ শুরু হতে পারে বলে কর্মকর্তারা ধারণা দিয়েছেন।