প্যারিসের নটরডেম ক্যাথেড্রালের বাইরে 'সন্ত্রাসী' হামলার চেষ্টা, পুলিশের গুলি

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption ক্যাথেড্রালের আশেপাশের এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘিরে ফেলেছে।

ফ্রান্সের পুলিশ বলছে, রাজধানী প্যারিসের নটরডেম ক্যাথেড্রালের বাইরে এক ব্যক্তি হাতুড়ি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করেছে। ওই সময় হামলাকারীকে গুলি করে পুলিশ।

ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীর বুকে গুলি লেগেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন এটা একটা 'সন্ত্রাসী হামলা' । ক্যাথেড্রালের সামনে গুলির ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ক্যাথেড্রালের ভেতরে অন্তত ৯০০ মানুষ অবস্থান করছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কিছু মানুষ হাত উপরে তুলে আছেন।

ঘটনাস্থলের আশেপাশের এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘিরে ফেলেছে।

সাধারণ মানুষকে ক্যাথেড্রালের আশেপাশের ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে।

ক্যালিন গরম্যান নামে একজন আমেরিকান পর্যটক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলছেন, "নটরডেম ক্যাথেড্রালের ভেতরে ঢুকবো এমন সময় শুনি হইচই, গুলির শব্দ। আমি এরপর আর ঢুকিনি। একটু দূরে চলে আসি। দেখি হামলাকারী রাস্তায় পড়ে আছে, যেখানে তাকে পুলিশ গুলি করেছে"।

"সব নিরাপদই ছিল। পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিয়েছে পুলিশ" বলেন এই পর্যটক।

পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান প্যারিসের নটরডেম ক্যাথেড্রাল।

২০১৫ সালে প্যারিসে জঙ্গি হামলায় ১৩০ জন নিহত হবার পর থেকে ফ্রান্সে জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে।

লন্ডন ব্রিজে গাড়ি চাপা ও এলোপাতাড়ি ছুরি চালিয়ে সাত জনকে হত্যার ঘটনার তিনদিনের মাথায় প্যারিসে হামলার চেষ্টা চালানো হলো।

ফ্রান্সের সাম্প্রতিক হামলাগুলো

  • ২০শে এপ্রিল ২০১৭: প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে প্যারিসে আততায়ীর গুলিতে একজন পুলিশ নিহত হন এবং আহত হন আরো দুইজন পুলিশ সদস্য। এরপর পুলিশের গুলিতে সন্দেহভাজন হামলাকারী মারা যায়। আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করে।
  • ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০১৭: প্যারিসের ল্যুভ জাদুঘরে এক ব্যক্তি চাপাতি নিয়ে 'আল্লাহু আকবর' বলে জাদুঘরে প্রহরারত একদল সেনার ওপর আক্রমণ চালায়। সৈন্যরা পাল্টা গুলি করে এবং তাতে লোকটি গুরুতর আহত হয়।
  • ২৬শে জুলাই ২০১৬: নরম্যান্ডির এক গির্জায় এক যাজককে গলা কেটে হত্যা করে দুজন হামলাকারী। পরে তাদের গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।
  • ১৪ই জুলাই ২১৬: নিস শহরে বাস্তিল দিবসের আতশবাজির প্রদর্শনী দেখতে যখন সাগরতটে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ, তখন তাদের ওপর তীব্র বেগে এলোপাতাড়ি ট্রাক চালিয়ে দিয়ে হামলা চালানো হয়। ওই সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৮৪ জন নিহত হয়। ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠী ওই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে। তিউনিশিয়ান বংশোদ্ভুত ওই চালক পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
  • ১৩ই জুন ২০১৬: প্যারিসের পশ্চিমাঞ্চলে ম্যাগনানভিলে ছুরি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এক জিহাদি। পুলিশ ও তার সহকারীকে হত্যা করে ওই ব্যক্তি। হামলাকারী নিজেকে আইএস এর সদস্য বলে দাবি করে। পরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
  • ১৩ই নভেম্বর ২০১৫: প্যারিসের জাতীয় স্টেডিয়াম, রেস্তোঁরা ও থিয়েটারে একযোগে হামলা চালায় ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিরা। ওই হামলার ঘটনায় ১৩০ জন নিহত হয়। আহত হয় সাড়ে তিনশোরো বেশি মানুষ।
  • ৭-৯ই জানুয়ারি ২০১৫: প্যারিসে শার্লি হেবদো সাময়িকীর অফিসে দুজন ইসলামপন্থী বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হয় ১৭ জন। পরদিনই একটি সুপারমার্কেটে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে জঙ্গিরা। একজন পুলিশ ও চারজন জিম্মিকে হত্যা করে হামলাকারীরা। ওই তিন জঙ্গিই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।

আরো পড়ুন:

কাতার সম্পর্কে পাঁচটি বিস্ময়কর তথ্য

ইসরায়েলের কাছে আরবরা কেন পরাজিত হয়েছিল?

ভালোবেসে বিয়ের ‘অপরাধে’ মুসলিম যুবতীকে হত্যা

সম্পর্কিত বিষয়