ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কী হবে?

  • ৯ জুন ২০১৭
ওয়েস্টমিনস্টারে ব্রিটিশ সংসদ ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ওয়েস্টমিনস্টারে ব্রিটিশ সংসদ

সাধারণ নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কী হবে?

দশটি প্রশ্ন - দশটি উত্তর

১. যে দল থেকে সবচেয়ে বেশি এমপি জয়ী হবেন সেই দলই কি সরকার গঠন করবে?

সেটা নাও হতে পারে। সংসদের ৬৫০টি আসনের সব ভোট গণনা শেষ হবার পর যে দল থেকে সবচেয়ে বেশি এমপি নির্বাচিত হন সাধারণত সেই দলকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই দলের নেতাই প্রায় সবসময়ই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হন।

কিন্তু কোনো দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে এবার সেটা নাও হতে পারে। যে দল দ্বিতীয় স্থান পাবে সে দলেরও অন্য দলের সহযোগিতায় সরকার গঠন করার সম্ভাবনা আছে।

২. কোনো দল কখন জয়ী হয়?

প্রধানমন্ত্রী হবার সবচেয়ে সহজ পথ হল হাউস অফ কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল তারাই যাদের দল থেকে সর্বাধিক সংখ্যক এমপি নির্বাচিত হয়- অর্থাৎ অন্য সব দল থেকে নির্বাচিত মোট এমপির থেকে বেশি।

৩. নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কতজন এমপিকে জিততে হবে?

মোট ৩২৬টি আসনে জিততে হবে। ৩২৬টি আসন পেলে সংসদে সেই দল নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষমতা অর্জন করে। কোনো দল যদি এককভাবে ৩২৬টি আসন না পায়, তাহলে সেটা হবে 'হাং পার্লামেন্ট' অর্থাৎ একাধিক দলকে জোটবদ্ধভাবে ৩২৬টি আসন পেতে হবে। যেটা হয়েছিল ২০১০-এর সাধারণ নির্বাচনে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বাঁদিক থেকে : টেরেজা মে (কনজারভেটিভ), জেরেমি করবিন (লেবার), নিকোলা স্টারজেন (এসএনপি) এবং টিম ফ্যারন (লিবারেল ডেমোক্রাট)

৪. আবার হাং পার্লামেন্ট হলে কী হবে?

এধরনের পরিস্থিতি হলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকবেন এবং ডাউনিং স্ট্রিটেই বসবাস করবেন যতক্ষণ না কারা নতুন সরকার গঠন করবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

এক্ষেত্রে দলের নেতাদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক চলবে। তারা চেষ্টা করবে জোট গঠন করে একটা সরকার গঠন করতে অথবা কনজারভেটিভ দলের নেতা টেরেজা মে অথবা লেবার নেতা জেরেমি করবিনকে প্রধানমন্ত্রী করে হয়ত কোনো একটা সমাঝোতার ভিত্তিতে সরকার গঠন করতে।

অথবা দুই দলের মধ্যে কোনো একটি দলের নেতা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে তারা সংখ্যালঘু সরকার গঠন করবেন এই ভিত্তিতে যে যখন সংসদে আইন পাশ করতে হবে, তখন ছোট দলগুলোর সমর্থন তারা নিশ্চিতভাবে পাবেন।

৫. এধরনের জোট বা সমঝোতা-ভিত্তিক সরকার গঠনের সুযোগ কাকে প্রথম দেওয়া হবে?

টেরেজা মে-কে প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে এবং দেন-দরবার চলাকালীন তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতায় থাকবেন।

এটা যদি স্পষ্ট হয় তিনি এই চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছেন, এবং জেরেমি করবিন সফল হয়েছে তাহলে টেরেজা মে-কে পদত্যাগ করতে হবে।

তবে টেরেজা মে তার প্রয়াস চালানোর পাশাপাশি জেরেমি করবিনও এই চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারবেন। মিসেস মে-র সামনে যত বিকল্প আছে সব তিনি চেষ্টা করার পরই যে মিঃ করবিন আলোচনা শুরু করতে পারবেন, তা নয়। তারা একই সঙ্গে অন্য দলগুলোর সঙ্গে দর-কষাকষি, দেন-দরবার চালিয়ে যেতে পারবেন।

৬. এই প্রক্রিয়া কতদিন ধরে চলতে পারে?

এর কোনো ধরাবাঁধা সময়সীমা নেই। ২০১০এর নির্বাচনে একটা জোট গঠনের জন্য পাঁচ দিন সময় লেগেছিল, তবে সাধারণত এই আলোচনা ও দরকষাকষিতে আরও বেশি সময় লাগে।

৭. এই আলোচনা নিশ্চয়ই অনির্দিষ্টকাল ধরে চলবে না?

না। প্রথম দফায় চূড়ান্ত সময়সীমা দেওয়া হবে ১৩ই জুন পর্যন্ত। নতুন সংসদ শুরু হবে সেইদিন। মিসেস মে-কে ক্ষমতায় থাকতে হলে ১৩ই জুনের মধ্যে একটা সমঝোতা সম্পন্ন করতে হবে।

তবে টেরেজা মে-কে নিশ্চিত হতে হবে যে জেরেমি করবিন এই সমঝোতা করতে পারছেন আর তিনি পারছেন না।

৮. কিন্তু কেউই যদি স্পষ্ট কোনো সমঝোতায় আসতে না পারেন?

দুই দলের জন্য একমাত্র পরীক্ষা হল সংসদে কোনো নতুন আইন পাশ করানোর জন্য প্রয়োজনীয় ভোট তাদের আছে সেটা প্রমাণ করা। ১৯শে জুন রানি তাঁর ভাষণের মাধ্যমে সংসদের অধিবেশন শুরু করবেন।

৯. ২০১৭-র নির্বাচনে অন্য দলের সঙ্গে জোট গঠন করে কোয়ালিশনের সম্ভাবনা কতটুকু?

২০১০ সালের চেয়ে এবারে এই সম্ভাবনা বেশি। এটা নির্ভর করছে ৪টি বিষয়ের ওপর:

যে দলগুলো কোয়ালিশনে থাকছে কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য তাদের যথেষ্ট এমপি জয়ী হয়েছেন কিনা।

সবচেয়ে বড় দল এই জোট গড়তে চায় কিনা অথবা তারা সংখ্যালঘু সরকার হিসাবে একাই সরকার গঠন করতে চায় কিনা।

যে দলগুলোর এই কোয়ালিশনে থাকার সম্ভাবনা, তারা তাদের দলকে নিশ্চিতভাবে বোঝাতে পারবে কিনা যে এটা দলের জন্য ভাল।

কোয়ালিশনের সম্ভাব্য দলগুলো মনে করে কিনা যে বিভিন্ন নীতিতে তাদের সহমতের জায়গা রয়েছে অথবা তাদের কোনো কোনো নীতিতে ছাড় দিয়েও তারা কোয়ালিশনে কাজ করতে পারবে।

১০. সংখ্যালঘু সরকার কতটা স্থিতিশীল?

কনজারভেটিভ ও লেবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে তারা সংখ্যালঘু সরকার গড়তে পারে যেখানে তাদের এমপিরাই সব মন্ত্রী পদে থাকবে। তবে অন্য দলের এমপিদের ভোট ছাড়া তারা সংসদে নতুন কোনো আইন পাশ করতে পারবে না।

ব্রিটেনে অতীতেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে সরকার গঠনের নজির আছে। তবে এধরণের সরকার তেমন স্থায়ী বা সফল হয় না।

২০০৭ এবং ২০১১ সালে স্কটল্যান্ডে সংখ্যালঘু সরকার ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু এধরনের সরকার কার্যকরভাবে পরিচালনা কঠিন, কারণ সবরকম আইন পাশের জন্য ছোট দলগুলোর সঙ্গে অনবরত দেন-দরবার করতে হয়, যেটা খুব সহজ নয়।

সম্পর্কিত বিষয়