বশ্যতা স্বীকার করবে না কাতার, বলছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  • ৯ জুন ২০১৭
কাতার এয়ারলাইন্স ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption সৌদি আরব এবং আরও কয়েকটি দেশ কাতারে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে

চরমপন্থার সঙ্গে কথিত যোগসাজশের যে অভিযোগ কাতারের বিরুদ্ধে উঠেছে, তা থেকে মুক্তি পেতে নিজস্ব পররাষ্ট্র নীতিকে বাদ দিয়ে বশ্যতা স্বীকার করা হবে না বলে দেশটি প্রতিজ্ঞা করেছে।

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল-থানি বলেছেন সংকট সমাধানে তিনি কূটনৈতিক সমাধান চান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে যে সামরিক উপায়ে বর্তমান সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ইসলামী চরমপন্থাকে সমর্থনের যে অভিযোগ দেশটির বিরুদ্ধে উঠেছে, কাতার তাও প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে, কাতারের গণমাধ্যম আল জাজিরা বলেছে যে তাদের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা হয়েছে। এক টুইট বার্তায় নেটওয়ার্কটি জানায়, তাদের সব ধরণের ব্যবস্থা, ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাইবার হামলার মুখে পড়েছে।

চলমান সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আল জাজিরা এবং গত মাসের শেষের দিকে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশে এটি নিষিদ্ধ করা হয়।

আল জাজিরা তাদের ওয়েব সাইটে জানায় তাদের কার্যক্রম চালু রয়েছে, তবে "নানা উপায়ে হামলা জোরদার হচ্ছে"।

অন্যদিকে, কাতারে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্টেশন জানিয়েছে যে হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হওয়ার কারণে তারা তাদের ওয়েব সাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে।

ছবির কপিরাইট STR/AFP/Getty Images
Image caption কাতারের রাজধানী দোহা

এদিকে, মিশর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এমন একটি দাবী তদন্ত করে দেখতে অনুরোধ করেছে যাতে বলা হয়েছে যে রাজকীয় পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মুক্তির জন্য কাতার ১০০ কোটি ডলার মুক্তিপণ দিয়েছে। বলা হচ্ছে, ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলে শিকার করার সময় তাদেরকে অপহরণ করা হয়।

কাতারের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের ধারায় এখনও ব্যতিক্রম ওমান। তবে খবরে বলা হয়েছে যে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওমানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সেদেশে গিয়েছেন। এ ব্যাপারে অবশ্য বিস্তারিত আর কিছু বলা হয়নি।

সৌদি আরব এবং বেশ কয়েকটি দেশ সোমবার কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও ভ্রমণ সম্পর্ক ছিন্ন করে।

কুয়েতের আমীর সংকট কাটাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছেন - তিনি এরই মধ্যে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন।

বৃহস্পতিবার দোহায় এক বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বলেন, কাতারকে একঘরে করা হয়েছে "কারণ আমরা সফল এবং প্রগতিশীল"।

ছবির কপিরাইট KARIM JAAFAR/AFP/Getty Images
Image caption কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল-থানি

"আমরা শান্তির স্বপক্ষে একটি প্লাটফরম, সন্ত্রাসের পক্ষে আমরা নই। চলমান এই সংকট পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। আমরা বশ্যতা স্বীকার করতে প্রস্তুত নই। আমরা কখনোই আমাদের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিকে ধুলায় লুটাতে দেওয়ার জন্যে প্রস্তুত নই।"

তিনি বলেন, ইরান প্রস্তাব দিয়েছে যে খাবার ও পানি পরিবহনে কাতার তাদের তিনটি বন্দরকে ব্যবহার করতে পারে, তবে এই প্রস্তাব এখনও দোহা গ্রহণ করেনি।

কাতার খাদ্য আমদানির ওপর বিপুলভাবে নির্ভরশীল এবং চলমান সংকট একদিকে যেমন খাদ্য মজুদ প্রবণতা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে খাবারের স্বল্পতাও তৈরি করেছে।

শেখ মোহাম্মদ বলেন, কাতার কখনোই এই মাত্রায় প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়নি।

রাশিয়া জানিয়েছে শেখ মোহাম্মদ শনিবারে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই লাভরভের সঙ্গে আলোচনা করতে মস্কো যাবেন। তাস বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, তাঁরা "জরুরী আন্তর্জাতিক" ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলা হয়নি।

বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা জেমস রবিনস বলছেন, পরিস্থিতি সামলাতে যে চেষ্টা চলছে, রাশিয়ার হস্তক্ষেপ তা আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption কাতারের চলমান সংকট একদিকে যেমন খাদ্য মজুদ প্রবণতা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে খাবারের স্বল্পতাও তৈরি করেছে

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইর বলেছেন যে একঘরে অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে কাতারকে ইসলামপন্থী ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস এবং মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।

আপাতদৃষ্টিতে কাতার সমর্থন পাচ্ছে তুরস্ক থেকে।

তুরস্ক এমন একটি বিল অনুমোদন করেছে, যার ফলে আরও বেশী সৈন্য কাতারে পাঠানো যাবে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট মধ্যস্থতা করতেও প্রস্তাব দিয়েছেন।

কাতারে অবশ্য রয়েছে ঐ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মার্কিন বিমানঘাঁটি।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি বাদশাহ সালমানের কাছে উপসাগরীয় অঞ্চলে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন।

তবে এর আগে তিনি দাবী করেছিলেন যে কাতারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে তাঁর হাত রয়েছে। মি. ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল যে তাঁর সৌদি আরব সফর "ইতিমধ্যে ফল দিতে শুরু করেছে"।

আরও পড়ুন:

নির্বাচনে খারাপ ফলের পর টেরেজা মে চাপে

জেরেমি করবিনের কাহিনি: লেবার নেতার পরিচিতি

কে টেরেজা মে? কনজারভেটিভ নেতার পরিচিতি