ঘৃণা-জনিত অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে ব্রিটেনে

  • ১০ জুন ২০১৭
ছবির কপিরাইট MET POLICE
Image caption এই লরি দিয়ে লন্ডন ব্রিজে হামলাটি চালানো হয়

ম্যানচেস্টার এবং লন্ডনে হামলার পর থেকে ব্রিটেনে ঘৃণা-জনিত অপরাধ বা হেইট ক্রাইমের সংখ্যা বেড়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, অন্য ধর্ম, বর্ণ, বিশ্বাস বা জাতির লোকজনের ওপর এধরনের হামলা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়, এবং খুব দ্রুত।

ম্যানচেস্টারের পুলিশ বলছে, গানের কনসার্টে গতমাসের বোমা হামলার পর থেকে এধরনের অপরাধের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে পড়েছে।

আর লন্ডনে মেয়রের অফিস থেকে বলা হয়েছে, লন্ডন ব্রিজ ও বরা মার্কেটে হামলার পর থেকে ঘৃণা-জনিত অপরাধের অভিযোগে কমপক্ষে ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরো পড়ুন: 'মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই' লংগদুর নয়নকে হত্যা: পুলিশ

পুলিশ বলছে, হামলার পর থেকে ভিন্ন ধর্ম ও বিশ্বাসের লোকজনের বিশেষ করে অনেক মুসলিমের মধ্যে কিছুটা হলেও ভয়ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।

স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বলছে, এধরনের অপরাধ প্রতিরোধে শহরের রাস্তায় আরো বেশি সংখ্যক পুলিশ টহল দিচ্ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় লোকজন উপাসনার জন্যে জড়ো হচ্ছে সেখানে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে।

তবে এধরনের অনেক অপরাধের কথাই পুলিশের কাছ পর্যন্ত পৌঁছায় না। ঘৃণা-জনিত অপরাধের ঘটনা দেখলেই সেটা পুলিশকে তাড়াতাড়ি জানাতেও অনুরোধ করা হয়েছে।

লন্ডন হামলার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ এখনও বিভিন্ন স্থানে তাদের তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption লন্ডনের প্রায় সব ব্রিজে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে

পুলিশ বলছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা করার সন্দেহে তারা আরো দু'জনকে আটক করেছে।

গত সপ্তাহের হামলার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক আরো পাঁচজন এখনও রয়েছে পুলিশের হেফাজতে।

হামলার ঘটনায় পুলিশ এখনও তদন্ত চালাচ্ছে। এর মধ্যে তারা নতুন কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে।

পুলিশ বলছে, লন্ডন ব্রিজের তিনজন হামলাকারী প্রথমে সাড়ে সাত টনের একটি লরি ভাড়া করতে চেয়েছিলো। কিন্তু তাতে তারা ব্যর্থ হয় অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায়। পরে তারা এর চেয়েও ছোট একটি ভ্যান ভাড়া করে সেটা দিয়ে হামলা চালায়।

পুলিশ বলছে, ওই তিনজনের কাছে পেট্রোল বোমাও ছিলো।

এক সপ্তাহ আগে ৩রা জুন লন্ডন ব্রিজে ও বরা মার্কেটে চালানো হামলায় আটজন নিহত এবং আরো বহু মানুষ আহত হয়।