ব্রিটেনের লন্ডন ব্রিজে হামলার ঘটনায় পুলিশের তদন্তে পাওয়া নতুন কিছু তথ্য

  • ১০ জুন ২০১৭
ছবির কপিরাইট MET POLICE
Image caption এই লরিটি দিয়েই হামলা চালানো হয়

পুলিশ বলছে, লন্ডন ব্রিজের হামলাকারীরা হামলার উদ্দেশ্যে সাড়ে সাত টনের একটি লরি ভাড়া করতে চেয়েছিলো।

কিন্তু হামলাকারীরা তখন এর জন্যে অর্থ পরিশোধের বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেনি। ফলে ওই লরিটিও তারা নিয়ে যেতে পারেনি।

তাই শেষ পর্যন্ত তারা ডি আই ওয়াই স্টোর থেকে তারচেয়েও ছোট একটি ভ্যানগাড়ি ভাড়া করে সেটি দিয়ে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা ব্রিজে চলাচলকারী লোকজনের ওপর ভ্যান গাড়িটি উঠিয়ে দেয় তারপর বরা মার্কেটে গিয়ে লোকজনকে এলোপাথাড়ি ছুরি মারতে থাকে।

আরো পড়ুন: বাংলাদেশের রাঙামাটিতে কেন এই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

সাত দিন আগে গত ৩রা জুন রাত দশটার দিকে চালানো ওই হামলায় মোট আটজন নিহত এবং আরো বহু মানুষ আহত হয়েছে।

পুলিশ বলছে, ওই তিনজন হামলাকারীর হাতে ১২ ইঞ্চি লম্বা গোলাপী রঙের ছুরি ছিলো। এবং গাড়িতে রাখা ছিলো পেট্রোল বোমা।

ওই তিনজন হামলাকারী হলো খুরাম শাজাদ বাট, রশিদ রেদোয়ান এবং ইউসেফ জাঘবা। তারাও পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন।

ছবির কপিরাইট MET POLICE
Image caption হামলায় ব্যবহৃত ছুরি

এই ঘটনায় আরো সাক্ষ্য দেওয়ার জন্যে পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রতি আহবান জানিয়েছে। একই সাথে যেসব কোম্পানি থেকে ভ্যান ও লরি ভাড়া দেওয়া হয় তাদেরকে সন্দেহজনক কিছু দেখলে সাথে সাথে পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এই হামলার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ আজ শনিবার ভোরে পূর্ব লন্ডনের একটি বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ২৭ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে। তারও আগে গভীর রাতে বার্কিং থেকে আটক করেছে আরো একজনকে। পুলিশ বলছে, ওই ব্যক্তি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছিলো বলে তারা সন্দেহ করছেন।

আরো পড়ুন: ঘৃণা-জনিত অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে ব্রিটেনে

মেট্রোপলিটন পুলিশ বলছে, লন্ডন ব্রিজের হামলাকারীরা পূর্ব লন্ডনের বার্কিং এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করেছিলো যাতে তারা গোপনে ও নিরাপদে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে যেতে পারে।

পুলিশ বলছে, তারা সেখানে একটি কোরান খুঁজে পেয়েছেন। কোরানের এমন এক পাতা খোলা ছিলো যেখানে শাহাদত বরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সেখানে তারা পেয়েছেন পেট্রোল বোমা তৈরি সরঞ্জামাদি, প্লাস্টিকের বোতল, টেপ এবং রেদোয়ানের একটি পরিচয়পত্র।

তদন্তে বলা হচ্ছে, ২৭ বছর বয়সী বাট ছিলো এই হামলার মূল হোতা। হামলায় ব্যবহৃত ভ্যানটি তিনিই রমফোর্ডের একটি দোকান থেকে ভাড়া করেছিলেন। হামলার দিন সকালেই সেটি নেওয়া হয়েছিলো।

ছবির কপিরাইট Met Police
Image caption ভ্যান গাড়ির ভেতরে ছিলো এসব চেয়ার ও অন্যান্য সামগ্রী

ধারণা করা হচ্ছে, বাটই গাড়িটি চালাচ্ছিলো এবং রেদোয়ান ও জাঘবা বসেছিলো পেছনে।

রাত দশটা বাজার দুই মিনিট আগে ভ্যানটি লন্ডন ব্রিজ পার হয়ে দক্ষিণ দিকে চলে যায়। ছয় মিনিট পরে সেটি আবার ফিরে সেতুর ওপর চলে আসে।

তারপর তারা ভ্যান গাড়িটিকে উঠিয়ে দেয় পথচারীদের ওপর।

তারপর তারা ছুরি হাতে গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। এবং বরা মার্কেটে গিয়ে সেখানে উপস্থিত লোকজনকে এলোপাথাড়ি আঘাত করতে থাকে।

এর দুই মিনিটের মধ্যেই পুলিশকে ডাকা হয়। পুলিশ আছে আট মিনিট পর। তারপর পুলিশের ছোঁড়া ৪৬টি গুলিতে ওই তিনজন হামলাকারী নিহত হয়।

ছবির কপিরাইট Met Police
Image caption ভ্যান গাড়ির ভতরে এসবও পাওয়া যায়

এই হামলার ঘটনায় এখনও জোর তদন্ত চলছে। আজ শনিবার পর্যন্ত মোট ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তল্লাশি চালানো হয়েছে ১৩টি বাড়িতে।

এই ঘটনায় ১৯টি দেশের ২৮২ জন প্রত্যক্ষদর্শীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ আরো প্রত্যক্ষদর্শীকে এগিয়ে আসার জন্যে আহবান জানিয়েছে।

আরো পড়ুন: 'মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই' লংগদুর নয়নকে হত্যা: পুলিশ

পুলিশ বলছে, যে ভ্যান দিয়ে হামলাটি চালানো হয় তার ভেতরে তারা একটি ওয়াইনের বোতল পেয়েছেন যার ভেতরে ছিলো দাহ্য তরল।

ওই ভ্যানটিতে কিছু ব্যাগ, কয়েকটি চেয়ারও রাখা হয়েছিলো। সম্ভবত গাড়িটি ভাড়া করার সুবিধার্থেই তারা এটি করেছিলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ বলছে, ব্যাঙ্ক জালিয়াতির কারণে বাটকে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে একবার আটক করা হয়েছিলো। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনা হয়নি।

বলা হচ্ছে, সম্ভবত অর্থ পাচারের জন্যে সে নতুন নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতো এবং সেগুলো বন্ধ করে দিতো।

পুলিশ বলছে, তার ব্যাপারে সন্ত্রাস-বিরোধী ইউনিটের হটলাইনে একবার ফোনও এসেছিলো কিন্তু সে যে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছিলো সেবিষয়ে তখন কোন তথ্যপ্রমাণ দেওয়া হয়নি।