বাংলাদেশের রাঙামাটিতে কেন এই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

Image caption লংগদুতে গত ২রা জুলাই পাহাড়দের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়

বাংলাদেশের রাঙামাটির লংগদুতে যে বাঙ্গালি যুবকের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পাহাড়িদের দুই শতাধিক বাড়িঘরে আগুন, সেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দু'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠন যুবলীগের নেতা নুরুল ইসলাম, যিনি নয়ন নামেই স্থানীয়ভাবে বেশি পরিচিত, তার মোটরসাইকেল চুরির উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই হত্যাকাণ্ডকে বাঙালিদের ওপর পাহাড়িদের আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করে তার প্রতিশোধ হিসেবে বাঙালিরা পাহাড়িদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছিলো।

'জলজ প্রাণীর জন্যে হুমকি হবে বাংলাদেশের রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র'

পুলিশ বলছে, গত ১লা জুন লংগদু থেকে দু'জন পাহাড়ি যুবক মি. ইসলামের মোটরসাইকেলের যাত্রী হিসেবে খাগড়াছড়ি যায়, সেখান থেকে ফেরার পথে তারা তাকে হত্যা করে মোটরসাইকেলটি নিয়ে চলে যায়।

"জুনেল চাকমা এবং রোমেল চাকমা নামের গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। লংগদু থেকে দু'জন মোটরসাইকেল ভাড়া করে নিয়ে আসে এবং খাগড়াছড়ি সদর থেকে কিছুটা দূরে তাকে হত্যা করে মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়। মোট তিনজন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলো," বলেন খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান।

তিনি জানান, ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেলটি বিক্রি করারও চেষ্টা করেছিলো।

"তবে সেটি করতে না পেরে এবং লংগদুর ঘটনায় অবস্থা বেগতিক দেখে তারা খাগড়াছড়ির মাইনি নদীতে মোটরসাইকেলটি ফেলে দেয়," বলেন তিনি।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption হামলায় বিধ্বস্ত বাড়িঘর, বিনষ্ট সম্পত্তি

তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার সকাল থেকে দীর্ঘ অভিযান শেষে বিকেল নাগাদ নদী থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে নৌবাহিনীর ডুবুরিরা।

অভিযুক্ত অপর হত্যাকারী বর্তমানে পলাতক।

ঐ হত্যাকাণ্ডের পর বাঙালিদের একটি অংশ বলে আসছিলো যে পাহাড়িরাই বাঙালি নুরুল ইসলামকে হত্যা করেছে, অপরদিকে পাহাড়িদের অনেকে বলছিলো, তাকে হত্যা করেছে বাঙালিরাই।

এখন হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ দুজন পাহাড়ির দিকে গেলেও বিষয়টি নিছক ছিনতাইয়ের ঘটনা হিসেবে উঠে আসায় উত্তেজনা কি কমবে?

আরো পড়ুন: ব্রিটেনের লন্ডন ব্রিজে হামলার ঘটনায় পুলিশের তদন্তে পাওয়া নতুন কিছু তথ্য

আরো পড়ুন: ঘৃণা-জনিত অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে ব্রিটেনে

লংগদু সদরের চেয়ারম্যান কলিন মিত্র চাকমা বলেন, "সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই। নয়নকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার হবে, আমরাও চাচ্ছি আমাদের ঘর-বাড়ি যারা জ্বালিয়েছে তাদেরও বিচার হোক। যে ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে সেটা তো মেনে নেওয়া যায় না।"

অগ্নিসংযোগের ঘটনায় হেডম্যান কলিন মিত্র চাকমাও তার বাড়ি হারিয়েছেন।

কিন্তু ছিনতাইয়ের মতো একটি ঘটনাকে এমন সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলো কীভাবে?

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, "এধরণের ঘটনা ঘটলে পাহাড়ি ও বাঙালি বিভিন্ন সংগঠন পরস্পরকে দোষারোপ করে এবং অনেক সময় ঘটনাগুলোতে অপরাধী ধরা না পড়ায় তাদের মধ্যে আস্থাহীনতাও তৈরি হয় যার সুযোগ নিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করাটাও সহজ হয়।"

"অনেক রাজনৈতিক গ্রুপ নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য বোঝানোর জন্য এসব সুযোগ নিয়ে থাকে যে পাহাড়িদের ঘায়েল করা যায় কিনা। আবার পাহাড়িদের কিছু গ্রুপ চেষ্টা করে যে বাঙালিদের কোনমতে এখান থেকে বিতাড়িত করা যায় কিনা। সুযোগসন্ধানী লোকরাই এসব কাজ করে থাকে," বলেন তিনি।

এদিকে নুরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রোববার তিন পার্বত্য জেলায় হরতাল আহ্বান করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের দুটি সংগঠন।

সম্পর্কিত বিষয়