বাংলাদেশের হারে ফাইনালে ফের ভারত-পাকিস্তান

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption ঢাকার রাস্তায় জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখছেন অগণিত দর্শক

এজবাস্টনের সেমিফাইনালে নয় উইকেটের বিরাট ব্যবধানে অনায়াসে বাংলাদেশকে হারিয়ে দিয়েছে ভারত, ফলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে মাত্র দু-সপ্তাহের মধ্যে আবার দেখা হচ্ছে ভারত-পাকিস্তানের।

বৃহস্পতিবারের ম্যাচে টসে জিতে ভারত প্রথমে ফিল্ডিং নেয় - আর নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশ ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ২৬৪ রান। অবশ্য একটা সময় বাংলাদেশ আড়াইশো পেরোতে পারবে কি না তা নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছিল।

আসলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ওভারেই ওপেনার সৌম্য সরকারকে হারায় বাংলাদেশ, তারপর ঝড়ের বেগে ১৯ রান তুলে বিদায় নেন তিন নম্বরে নামা সাব্বির রহমানও।

এর পর তৃতীয় উইকেটে তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম মিলে ১২৩ রান যোগ করলেও শুরুর ওই জোড়া আঘাত পুরোপুরি কখনওই সামলে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ।

বিশেষত মিডল ওভারে কেদার যাদবের অফস্পিন ও যশপ্রিত বুমরা-র ইয়র্কার বাংলাদেশের রানের গতিকে একেবারেই বাড়তে দেয়নি, তার ওপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকায় বাংলাদেশের পক্ষে খুব বড় রানের ইনিংস গড়া সম্ভব হয়নি।

তাদের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন ওপেনার তামিম ইকবাল, ৭০। চার নম্বরে নামা মুশফিক আউট হন ৬১ রান করে। তবে শেষদিকে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা মাত্র ২৫ বলে ৩০ রানের ঝোড়ো ইনিংস না-খেললে বাংলাদেশের পক্ষে ২৬৪ করাও মুশকিল হত।

ভারতের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার, কেদার যাদব ও যশপ্রিত বুমরা। একটি উইকেট পান রবীন্দ্র জাডেজা।

ছবির কপিরাইট Gareth Copley
Image caption এজবাস্টনে প্রিয় দলকে সেমিফাইনালে খেলতে দেখতে আসা বাংরাদেশি সমর্থকরা

২৬৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা এদিন যে ইনিংস খেলেছেন তাকে এক কথায় বলা যায় 'ক্লিনিক্যাল'।

মাত্র এক উইকেট হারিয়ে ভারত যখন জয়ের রানটি তুলে নিচ্ছে, তখনও ম্যাচের প্রায় পুরো দশ ওভার বাকি। ক্রিজে অপরাজিত আছেন ওপেনার রোহিত শর্মা ১২৩ রানে, আর ক্যাপ্টেন ভিরাট কোহলি ৯৬ রানে।

গোটা ইনিংসে ভারতের একটাই উইকেট পড়েছিল, সেটা দারুণ ফর্মে থাকা শিখর ধাওয়ানের। ব্যক্তিগত ৪৬ রানের মাথায় ১৫তম ওভারে তিনি যখন মাশরাফির বলে আউট হচ্ছেন, ততক্ষণে ওপেনিং পার্টনারশিপে ভারতের অবশ্য ৮৭ রান হয়ে গেছে।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ রোহিত শর্মা কোহলির অসাধারণ ইনিংস নিয়ে পরে বলছিলেন, "ওকে দেখে মনে হচ্ছিল ও যেন আগের রাত থেকে এখানে ব্যাট করছে।" এতটাই সাবলীল ও অসাধারণ ছিল কোহলির সেই রান-আ-বল ইনিংস!

ম্যাচের শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেন, "আমরা হয়তো ৩০০, এমন কী ৩২০-ও তুলতে পারতাম। কিন্তু সেট হয়ে যাওয়া ব্যাটসম্যানরা পর পর আউট হয়ে যেতেই আমরা সমস্যায় পড়ে গেলাম।"

তবে পরের বার বাংলাদেশ অনেক শক্তিশালী চেহারায় ফিরে আসবে বলে তিনি কথা দিয়েছেন।

এর আগে বৃষ্টির জন্য আউটফিল্ড ভিজে থাকায় ম্যাচ শুরু হতে কিছুটা দেরি হয়, তবে ম্যাচের নির্ধারিত ওভার সংখ্যায় কোনও কাটছাঁট করা হয়নি।

ছবির কপিরাইট Gareth Copley
Image caption বার্মিংহামের মাঠে ভারতীয় সমর্থকরাও এসেছিলেন বিরাট সংখ্যায়

টসে জিতে প্রথমে ফিল্ড করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতের অধিনায়ক ভিরাট কোহলি। বাংলাদেশ ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজাও জানান তিনি টসে জিতলে বাংলাদেশও প্রথমে ফিল্ডিং নিত।

এদিন জিতলে বাংলাদেশ এই প্রথমবারের মতো আইসিসি-র বিশ্বমানের কোনও টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠত। কিন্তু তাদের স্বপ্নভঙ্গ করে ভারতই শেষ হাসি হাসল, রবিবার ওভালের ফাইনালে তাদের দেখা হচ্ছে পাকিস্তানের সঙ্গে।

গত ৪ জুন এজবাস্টনে বি গ্রুপের বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে পাকিস্তানকে খুব সহজেই হারিয়েছিল ভারত।

কিন্তু পাকিস্তান টুর্নামেন্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেমিফাইনালে ফেভারিট ইংল্যান্ডকে রীতিমতো পর্যুদস্ত করে হারিয়েছে তারা।

ফলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে আবার একটা রুদ্ধশ্বাস ভারত-পাকিস্তান লড়াই দেখার অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছে গোটা ক্রিকেট-বিশ্ব।

আমাদের পেজে আরও পড়ুন :

'বাংলাদেশ জেতাটাও অঘটন' বলছেন ক্রিকেট ভক্তরা

ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ: কী লিখছে ভারতের গণমাধ্যম?