কর্মসূচিতে বাধা: পাল্টাপাল্টি অবস্থানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি

  • ১৯ জুন ২০১৭
রাঙ্গামাটি যাবার পথে মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় কজন আহত হয়। ছবির কপিরাইট focusbangla
Image caption রাঙ্গামাটি যাবার পথে রোববার মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় কয়েকজন আহত হয় বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের জন্য যাওয়ার পথে চট্রগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দলের মহাসচিবসহ নেতাদের ওপর রোববারের হামলার ঘটনার জন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়কেই দায়ী করছে বিএনপি।

আজ বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে দুপুরে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ অভিযোগ করেন যে প্রধানমন্ত্রীর উস্কানিতে উৎসাহ পেয়েই সন্ত্রাসীরা মিস্টার আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলা করেছে।

আর বিএনপির সিনিয়র নেতাদের একজন খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলছেন সামনের নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার বিএনপির যে কোন কর্মসূচিতেই বাধা দিচ্ছে বা হামলা করছে।

তিনি বলেন, "তারা কণ্ঠ স্তব্ধ করতেই সভা সমাবেশ করতে দিচ্ছেনা। মিটিং করতে দেয় না। ইফতারে পর্যন্ত বাধা দেয়। রাঙ্গুনিয়ায় মহাসচিবের গাড়িতে আক্রমণ করলো।"

"যখন সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনে যাওয়ার কথা বলেছি তখন থেকেই আমাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য সরকার এসব ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন আর বাংলাদেশে হবে না"-বলছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিএনপির দপ্তর বিভাগ এবং চেয়ারপার্সনের প্রেস উইং থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় দলটিকে উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে প্রায় এক বছর আগে।

দলটির দাবি রাঙ্গামাটিতেই লংগদুতে সম্প্রতি পাহাড়ীদের বাড়িঘরে আগুনের ঘটনার পর তাদের একটি প্রতিনিধি দল বাধার মুখে সেখানে যেতে পারেনি।

মাদারীপুরে দলীয় কর্মসূচি আর নরসিংদী, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় ইফতার মাহফিল ভন্ডুল হয়েছে। নাটোর, কুমিল্লাসহ কয়েকটি জায়গায় ইফতার আয়োজনের অনুমতিই মেলেনি।

ছবির কপিরাইট focusbangla
Image caption রোববার রাঙ্গামাটি না যেতে পেরে চট্টগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলছেন একটি বড় রাজনৈতিক দল এমন চাপে থাকলে সেটি দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে, যার প্রভাব পড়তে পারে আগামী নির্বাচনেও।

তিনি বলেন, "আমরা চাই নিরপেক্ষ অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচন হোক। বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে বিরোধী দল হিসেবে সরকার ও জনগণ দেখে। তো বিরোধী দলকে এমন দমন নিপীড়নের মুখে যে নির্বাচন হেব সেটি তো ২০১৪ র মতোই হবে। সেটি দেশকে আরও সংকটে ফেলবে"।

তবে এসব অভিযোগ কিংবা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন বিশ্লেষন আমলে নিতেই রাজী নন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

তার দাবি বিএনপির কোন কর্মসূচিতেই কেউ বাধা দেয়নি বরং নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ঢাকার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেয়ার অভিযোগ করে থাকে।

তিনি বলেন, "বিএনপি তো অহরত কর্মসূচি পালন করছে। মির্জা আলমগীর নিজেই করেছেন দু তিন আগেও। তাদের দলের নেতারা অসংখ্য কর্মসূচি গত কয়েক বছরে পালন করেছেন। তাই বিএনপিকে সুযোগ দেয়া হচ্ছেনা - এটি অত্যন্ত ভুল অভিযোগ"।

আওয়ামী লীগের এই নেতা অবশ্য বলছেন বিএনপি মহাসচিবের ওপর হামলার ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যদিও এটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেই মনে করছেন তারা।

আরো পড়ুন:

পাকিস্তানের কাছে হারের পর ভারতীয় ক্রিকেটে অন্তর্দ্বন্দ্ব

মধ্য আকাশে জন্ম, আজীবন বিনামূল্যে ভ্রমণের সুবিধা

লন্ডনে মসজিদের কাছে সন্ত্রাসী হামলা: যা জানা যাচ্ছে

কেন কাতারের পাশে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক?