মহাকাশে চীনের কোয়ান্টাম স্যাটেলাইট
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

মহাকাশে চীনের কোয়ান্টাম স্যাটেলাইট

চীন নতুন ধরনের এক স্যাটেলাইটের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এর ফলে 'স্পাই স্যাটেলাইট' বলে যে শব্দটি চালু আছে সেটি পেয়েছে নতুন এক মাত্রা।

কারণ এটি এমন এক কোয়ান্টাম বিজ্ঞানের নীতি দ্বারা পরিচালিত হয়, যা গোপনে যোগাযোগ চালাতে পারে।

মহাকাশে পাঠানো এই স্যাটেলাইটের নাম- মিসিয়াস। এ ধরনের স্যাটেলাইট এই প্রথম মহাকাশে পাঠানো হলো।

গত অগাস্ট মাসে গোবি মরুভূমি থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

নতুন ধরনের এক ইন্টারনেটের জন্যেই এই স্যাটেলাইট এবং এই ইন্টারনেট হবে বর্তমানে আমরা যে ধরনের ইন্টারনেট ব্যবহার করি তারচেয়েও অনেক বেশি নিরাপদ।

খুবই স্পর্শকাতর অপটিক্যাল যন্ত্রপাতি দিয়ে তৈরি এই স্যাটেলাইট পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে চীনেরই দুটো পাহাড়ের চূড়ায় তথ্য পাঠাচ্ছে এবং এই দুটো পাহাড়ের মধ্যে দূরত্ব প্রায় বারোশো কিলোমিটার।

ছবির কপিরাইট NSSC
Image caption চীনেরই দুটো পাহাড়ের চূড়ায় তথ্য পাঠাচ্ছে এই স্যাটেলাইট

বলা হচ্ছে, এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে কোয়ান্টাম মহাকাশ প্রতিযোগিতা শুরু হলো।

স্যাটেলাইটের এই কোয়ান্টাম বিজ্ঞান অনলাইনের তথ্যকে খুবই নিরাপদ রাখবে। ধারণা করা হচ্ছে, অর্থনৈতিক তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ করে অনলাইনে কেনাকাটার ব্যাপারে তথ্যকে সুরক্ষিত রাখতে এই পদ্ধতি পালন করবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এই পদ্ধতিকে বলা হয়, কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি।

চীনের অভিনব এই স্যাটেলাইটটি নিয়ে শুনুন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানী ড. অমিতাভ ঘোষের সাক্ষাৎকার। শুনতে চাইলে উপরের অডিও লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন:

ছবির কপিরাইট SPL
Image caption বলা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে মহাকাশে কোয়ান্টাম প্রতিযোগিতা শুরু হলো

সব প্রাণীর ছবি তোলার মিশন

এবারে এক বিজ্ঞানী ও আলোক চিত্রশিল্পীর কথা যিনি বিশ্বের সকল প্রজাতির প্রাণীর ছবি তোলার মিশনে নেমেছেন।

তার এই মিশন ২৫ বছরের। এবং লক্ষ্য সারা দুনিয়া থেকে ১২ হাজার প্রজাতির প্রাণীকুলের ছবি তোলা।

এই বিজ্ঞানীর নাম জোয়েল সারটোর। তিনি বলছেন, ইতোমধ্যে তিনি তার টার্গেটের অর্ধেকরও বেশি প্রাণীর ছবি তুলে ফেলেছেন।

গত ১১ বছর ধরে তিনি তুলেছেন ৬,৫৩১ প্রজাতির প্রাণীর ছবি।

তিনি বলেন, "প্রাণীদের সম্পর্কে আমরা যা ভাবি তারা আসলে তারচেয়েও অনেক বেশি বুদ্ধিমান। যখনই কোন প্রাণীর ছবি তুলতে গেছি, আমার মনে হয়েছে যে এর চেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী আমি আর দেখিনি।"

"তাদের নানা ধরনের অনুভূতিকে আমি আমার ক্যামেরায় ধরার চেষ্টা করেছি। কখনো তারা খুবই হাস্যোজ্জ্বল, কখনো রাগান্বিত, কখনো তারা ক্লান্ত, আবার কখনো তারা খুবই উত্তেজিত। বেশিরভাগ পশুপাখির আচার আচরণ আসলে ঠিক আমাদেরই মতো। যখনই কোনো একটি প্রাণীর চোখের দিকে তাকিয়েছি, তখনই আমার মনে হয়েছে যে এই প্রাণীটিকে সংরক্ষণ করা খুবই জরুরি," বলেন তিনি।

Image caption ফটোগ্রাফার বলছেন, প্রত্যেকটি প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখা কতোটা জরুরি তার এই মিশনের উদ্দেশ্য সেই বার্তা তুলে ধরা

বিজ্ঞানী ও ফটোগ্রাফার সারটোর এমন কিছু প্রজাতির ছবি তুলেছেন যা ইতোমধ্যেই প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এটা ভাবলে তার কেমন লাগে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "লোকজন আমাকে জিজ্ঞেস করে এতে কি তোমার মন খারাপ হয় না? আমি বলি, হ্যাঁ, তবে খুব কম।"

"কারণ বেশিরভাগ সময়েই আমি তাদের গল্প বলার জন্যে অনুপ্রাণিত হই। আমিই তাদের কণ্ঠ। শুধু বাঘ আর ওরাং ওটাং-এর মতো বড়ো বড়ো প্রাণীর ছবিই শুধু তুলি নি। চড়ুই পাখি, কুনো ব্যাঙ, মিষ্টি পানির ছোট ছোট মাছ যেসবের কথা কেউ কোনদিন শুনেও নি, সেগুলোরও ছবি তুলেছি," বলেন তিনি।

মি. সারটোর বলেছেন, "এসব ছবির মধ্য দিয়ে আমি মানুষকে একটা কথাই বলতে চাচ্ছি যে - এসব পশুপাখি যেমন একটার পর আরেকটা পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, বা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে তেমনটা তো মানুষের বেলাতেও ঘটতে পারে। এসব পশু পাখি ও মানুষ আমরা তো একে অপরের সাথে খুবই ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।"

Image caption মোট ১২,০০০ প্রজাতির প্রাণীর ছবি তোলা হবে

জোয়েল সারটোর ধারণা করছেন, আর দশ বারো বছরেরই মধ্যেই সব প্রাণীর ছবি তোলার কাজ মোটামুটি শেষ হয়ে যাবে। তবে পুরো প্রকল্প শেষ করতে তার হাতে আছে আরো ১৪ বছর এবং তাকে আরো ৬,৪৬৯টি প্রজাতির প্রাণীর ছবি তুলতে হবে।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মিজানুর রহমান খান

সম্পর্কিত বিষয়