পাড়া-মহল্লার ক্লাব সংস্কৃতির ভিন্ন ধারা ঢাকা শহরে

জাহানারা গার্ডেনে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান ছবির কপিরাইট Farhana Parvin
Image caption জাহানারা গার্ডেনে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান

ঢাকার ফার্মগেটে জাহানারা গার্ডেন। প্রধান সড়কের সাথেই কয়েকটি বহুতল ভবন নিয়ে এই জাহানারা গার্ডেন।

এই ভবন গুলোতে এক একটিতে রয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টি ফ্ল্যাট বাড়ি। সব মিলিয়ে হাজার খানেক মানুষ।

সবাই সবাইকে কম বেশি চেনেন। আর এই চেনা-জানার জন্যই তারা গড়ে তুলেছেন জাহানারা গার্ডেন অ্যাসোসিয়েশন।

শফিকুর রহমান এখানকার বাসিন্দা। তিনি বলছিলেন পহেলা বৈশাখের আয়োজন থেকে শুরু করে ঈদ,পুজা, থার্টি ফার্স্ট নাইটের সব অনুষ্ঠান তারা আয়োজন করে থাকেন এখানে।

মি. রহমান বলছিলেন "আমরা ২০০৭ সাল থেকে এখানে আছি। সবার সাথে ভালো সম্পর্ক হয়ে গেছে। পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু করে সব অনুষ্ঠান করি। যেমন চাঁদা তুলে কোথাও পিকনিকে যাওয়া, ঈদের অনুষ্ঠান সব আমরা কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে করি"।

ছবির কপিরাইট Farhana Parvin
Image caption পহেলা বৈশাখের খাওয়ার আয়োজন করেন বাসিন্দারা নিজেরাই

ঢাকায় এখন অনেক এলাকায় এ ধরণের বহুতল ভবনের মালিক এবং ভাড়াটিয়ারা মিলে এই ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন।

মূল উদ্দেশ্যে নগরের ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়া আর আনন্দ বিনোদনের আয়োজন করা। উত্তরায় এমন একটি ভবনের ফ্ল্যাট,মালিক ভাড়াটের নিয়ে রয়েছে তাদের সমিতি।

আতিয়া আকতার ঝুমা বলছিলেন বার্ষিক একটা পিকনিকের আয়োজন করেন তারা ,তখন ঢাকার বাইরে চলে যান সবাই মিলে, এছাড়া শীতের দিনের পিঠার আয়োজন থাকে ছাদের উপর।

তিনি বলছিলেন "প্রতিবছর আমাদের এখানে যেসব ফ্ল্যাট আছে সবাই মিলে শীতের পিঠার আয়োজন করি। আমাদের সমিতি আছে। অনেক সময় এমন হয় আমরা বাইরে থেকে লোক এনে পিঠা বানায়। এটা আমাদের নিয়মিত একটা বার্ষিক আয়োজন বলতে পারেন"।

মিরপুরে, শান্তিগনর, সেগুণবাচিয়া এমন বেশ কয়েকটা এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে। আবির একটি কলেজে পড়ছেন।

তিনি তাদের ভবনে তার বয়সী ছেলেদের নিয়ে বিভিন্ন খেলার বার্ষিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। তিনি বলছিলেন একই বিল্ডিং এর মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার দারুণ মাধ্যম এটি।

"আমাদের এখানে ৫০টা ফ্ল্যাট। অনেক বাচ্চা। একবার আমাদের সমিতির এক প্রোগ্রামে এই বিল্ডিং এর ভাইয়ার সাথে পরিচয় হলো, এরপর থেকে আমার সাথে ওনার এখনো ভালো সম্পর্ক। অথচ আগে একই বিল্ডিং এ থেকেও চিনতাম না" বলছিলেন আবির।

এদিকে সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন বড় শহর গুলোতে যত এই ধরণের সমিতি বা কমিটি গড়ে উঠবে ততই সমাজ বা মানুষের মাঝে ঐক্য বজায় থাকবে।

ছবির কপিরাইট Farhana Parvin
Image caption ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ইন্সটিটিউটের শিক্ষক তৌহিদুল হক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ইন্সটিটিউটের শিক্ষক তৌহিদুল হক বলছিলেন ক্লাবের পরিবর্তে- ভবন কেন্দ্রিক এই নতুন ধারা সমাজের জন্য ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে আসবে।

মি. হক বলছিলেন "কমিউনিটি হারমোনি যে বিষয়টি আছে সেটা বজায় থাকবে। একজনের বিপদ-আপদে অন্যরা ছুটে আসবে। যেটা এখন অনেক কম দেখা যাচ্ছে। সুতরাং এই ধারাটাকে আমরা অতি ইতিবাচক ভাবে লক্ষ্য করছি"।

বাংলাদেশে শুধু বড় শহরেই নয় মফস্বল শহর বা গ্রামে একসময় ছিল পাড়া-মহল্লা ভিত্তিক ক্লাব ।

সেখানে এলাকার লোকদের অংশ গ্রহণে নানা ধরণের সাংস্কৃতিক বা খেলাধুলা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো।

বর্তমান সময়ে ক্লাবের কর্মকাণ্ডের চরিত্রেই শুধু বদল হয়নি। অনেক স্থানে উঠেই গেছে এই ধারণা।

কিন্তু মানুষের সাথে মানুষের মেশার যে স্বাভাবিক চাহিদা সেটা রয়ে গেছে।

তাই ব্যস্ত শহুরে জীবনে সেটা ফিরে এসেছে অন্য ভাবে।