পুলিশ অফিসারকে পিটিয়ে হত্যা ভারত-শাসিত কাশ্মীরে

শ্রীনগরের প্রধান মসজিদ ছবির কপিরাইট AFP
Image caption শ্রীনগরের প্রধান মসজিদের বাইরে ঘটনাটি ঘটে

ভারত শাসিত কাশ্মীরের এক পুলিশ অফিসারকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে সেখানকার কিছু উত্তেজিত জনতা।

গতরাতে রাজধানী শ্রীনগরের জামিয়া মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে মুহাম্মদ আইয়ুব পন্ডিত নামের ওই ডেপুটি পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট ডিউটি করছিলেন জামিয়া মসজিদের সামনে। সেখানে তখন লোকজন শব-ই-কদরের নামাজ পড়ছিল।

হুরিয়ত চেয়ারম্যান মিরওয়াইজ উমর ফারুখ-ও সে সময়ে মসজিদের ভেতরেই ছিলেন।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তা বিভাগে কর্মরত পুলিশ কর্মীরা সাধারণ পোশাক পড়ে কাজ করেন। মি. পন্ডিত ওই মসজিদের সামনে অবস্থিত পুলিশ-চৌকিতে বেশ কিছুদিন ধরেই ডিউটি করছিলেন সাদা পোশাকেই।

এমন অভিযোগ রয়েছে যে মি. পন্ডিত মসজিদের সামনে জড়ো হওয়া কিছু বিক্ষোভকারীর ছবি তুলছিলেন।

ছবি তোলা নিয়ে কিছু লোক আপত্তি জানায় এবং পরে ওই অফিসারকে ঘিরে ফেলে। চলতে থাকে মারধর।

প্রাণ বাঁচাতে নিজের পিস্তল থেকে তিন রাউন্ড গুলি চালিয়েছিলেন মি. পন্ডিত। তারপরেই প্রচুর মানুষ জড়ো হয়ে তাঁর পিস্তল কেড়ে নিয়ে মারতে থাকে।

আরও পড়ুন:

ঈদ: তারিখ জানতে বিজ্ঞানের দ্বারস্থ হতে সমস্যা কোথায়

কাশ্মীর কি শেষ পর্যন্ত ভারতের হাতছাড়া হতে চলেছে?

সাদ্দামের ফাঁসির সময়ে কেঁদেছিলেন যে মার্কিন সৈন্যরা

কয়েকটি সংবাদমাধ্যম প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে মুহাম্মদ আইয়ুব পন্ডিত আসলে একজন অমুসলিম এবং তিনি কোনও নিরাপত্তা এজেন্সিতে কর্মরত - এরকম একটা গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

যদিও ওই মসজিদের সামনে বেশ কিছুদিন ধরে ডিউটি করার কারণে নিয়মিত নামাজ পড়তে সেখানে যারা যান, তাঁদের অনেকেই মি. পন্ডিতকে চিনতেন।

ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মুহাম্মদ আইয়ুব পন্ডিতের।

অন্যদিকে ওই পুলিশ অফিসারের ছোঁড়া গুলিতে তিনজন আহত হয়েছেন।

উত্তেজিত জনতার সংখ্যা দেখে প্রথমে মি. পন্ডিতের সহকর্মীরা সরে গেলেও পরে বড় বাহিনী এসে উদ্ধার তৎপরতা চালায়।

গণপিটুনিতে পুলিশ অফিসারের এই মৃত্যুকে লজ্জাজনক বলে বর্ণনা করেছেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি।

রাতের ওই ঘটনার পরে শ্রীনগরের সাতটি থানা এলাকায় ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।

সম্পর্কিত বিষয়