ভাইরাসের বিশ্ব মানচিত্র: বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ভাইরাসের বিশ্ব মানচিত্র: বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়

বিশ্বের কোন কোন এলাকায় ভবিষ্যতে বড়ো রকমের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে - তার উপর একটি মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে।

বলা হচ্ছে, আগামীতে বিপদজনক সব ভাইরাসের উৎস হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণ অ্যামেরিকা।

এসব ভাইরাস সারা বিশ্বের মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যেই বড়ো রকমের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে ইকোহেলথ এলায়েন্স নামের একটি সংস্থা এই মানচিত্রটি তৈরি করেছে।

এই গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, কোন কোন স্তন্যপায়ী প্রাণী কি কি ধরনের ভাইরাস বহন করছে এবং লোকজন কিভাবে সেসব ভাইরাসের সংস্পর্শে আসে এবং তারপর সেটা কিভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

গবেষণাটি বলছে, ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে এসব স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে বাদুড়ই সবচেয়ে বড়ো হুমকি।

গবেষকরা বলছেন, আগামী দিনের এইচআইভি, ইবোলা এবং ফ্লু মোকাবেলায় এসব তথ্য কাজে লাগবে।

এখনও পর্যন্ত মারাত্মক ধরনের যেসব সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে সেগুলো বিভিন্ন প্রাণী থেকেই মানুষের শরীরে এসেছে। যেমন ইবোলা মহামারী শুরু হয়েছে বাদুড় আর এইচআইভি এসেছে শিম্পাঞ্জি থেকে।

বিজ্ঞানীরা মোট ৫৮৬টি ভাইরাসের ওপর গবেষণা করেছেন। এসব ভাইরাস থেকে ৭৫৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর শরীরে সংক্রমণ ঘটেছে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যে সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয় বাদুড়কে

তার মধ্যে, ১৮৮টি সংক্রমণই হয়েছে স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং মানুষের শরীরেও। এই ধরনের সংক্রমণকে বলা হয় জুনুটিক সংক্রমণ। এগুলোর বেশিরভাগই হয়েছে বাদুড়, ইঁদুর এবং বানরের মাধ্যমে।

এসবের ওপর গবেষণাকে ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা একটি বিশ্ব মানচিত্র তৈরি করে দেখার চেষ্টা করেছেন, ভাইরাসের সংক্রমণের জন্যে বিশ্বের সবচেয়ে বিপদজনক এলাকাটি কোথায়। দেখা গেছে, ইঁদুরের কাছ থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি সারা পৃথিবীতেই। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ অ্যামেরিকায়।

ভাইরাসের সংক্রমণ কিভাবে হয় এবং বাংলাদেশে কোন ধরনের সংক্রমণ বেশি ঘটে এনিয়ে শুনুন জাতীয় রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান আই ই ডি সি আরের একজন ভাইরোলজিস্ট ড. এএসএম আলমগীরের সাক্ষাৎকার। শুনতে চাইলে উপরের লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন।

শুধু গ্লাভস পরেই ভিডিও গেইম

ভিডিও গেইম খেলার জন্যে নতুন এক ধরনের প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে একটি প্রযুক্তি কোম্পানি - ক্যাপ্টোগ্লাভ। খেলার জন্যে এখন আর আপনাকে কী-বোর্ড কিম্বা মাউস হাতে নিতে হবে না।

ধরুন, কোনো একটি খেলার জন্যে আপনাকে একটি পিস্তল হাতে নিয়ে গুলি ছুঁড়তে হবে। কিন্তু আপনাকে আর ওই পিস্তল হাতে নিতে হবে না। হাতে শুধু একটি গ্লাভস পড়লেই চলবে।

হাতে গ্লাভস পড়েই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেইম যা কিনা ভিডিও গেইম হিসেবে পরিচিত, তাতে যা কিছু নিয়ন্ত্রণ করা দরকার, সেসব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

Image caption এই গ্লাভস পরেই গেইমের সব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব

এজন্যে কোন নিয়ন্ত্রক বা কন্ট্রোলারের দরকার নেই। আঙ্গুল দিয়ে গুলি করার মতো করলেই স্ক্রিনে দেখা যাবে যে সেখানে গুলি হচ্ছে। তারপর আপনি যদি একটু সামনের দিকে এগুতে চান তাহলেও বুড়ো আঙ্গুল দিয়েই সেই কাজটা করে ফেলতে পারেন।

তারপর আঙ্গুল বাঁকা করলেই গুলি হতে থাকবে, মানে ভার্চুয়াল গুলি। অর্থাৎ গ্লাভস পরা একটি হাত নিয়েই স্ক্রিনের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তবে সবাই এভাবে অভ্যস্ত নন। রিমোট কন্ট্রোলার হাতেই তারা গেইম খেলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কারণ হাতে পিস্তল না থাকলে মনে হয় না যে আমি কোথাও গুলি করছি।

ক্যপাটোগ্লাভের প্রধান নির্বাহী পাওলো ট্রোটা বলেছেন, "এই প্রযুক্তি হাতের অঙ্গভঙ্গি ও আঙ্গুলের নড়াচড়াকে ডিজিটাল ইনপুটে পরিণত করতে পারে। এমন কি আঙ্গুলের মাথা দিয়ে আপনি যখন চাপ দিবেন, পারে সেটারও ডিজিটাল রূপ দিতে। ফলে ক্যাপটোগ্লোভ দিয়ে আপনি যে কোনো ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।"

"আপনি যদি পুরনো পদ্ধতিতে কোনো গেইম নিয়ন্ত্রণ করতে চান তাহলে সেটাও পারবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, আমরা যখন কোনো কন্ট্রোলার ব্যবহার করি সেটাও কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই হাত ও আঙ্গুলের সাহায্যেই করি।"

তিনি বলেন, "মাউস আর কী-বোর্ড হচ্ছে ১৯৬০ এর দশকের প্রযুক্তি। অর্থাৎ প্রায় ৬০ বছরের পুরনো। ফলে হাতের মতো যেসব প্রাকৃতিক যন্ত্রপাতি নিয়ে আমরা জন্মগ্রহণ করেছি সেসব দিয়েই ভিডিও গেইমের নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ এবং মজার।"

যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলেসের এক প্রদর্শনীতে এই গ্লাভস তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মিজানুর রহমান খান