যুক্তরাষ্ট্র কেন সিরিয়ায় হামলার প্রকাশ্য হুমকি দিল

ছবির কপিরাইট .
Image caption রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আগেও উঠেছে সিরিয়ায়

যুক্তরাষ্ট্র আজ হুমকি দিয়েছে যে সিরিয়ার সরকার যদি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে হামলা চালাবে। এ হুমকির তীব্র নিন্দা করেছে রাশিয়া - কিন্তু ঠিক এই সময় যুক্তরাষ্ট্র এত স্পষ্ট ভাষায় এমন একটি হুমকি দিতে গেল কেন?

হোয়াইট হাউস থেকে দেয়া এক কঠোর বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনি আবার এক রাসায়নিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদি তারা এরকম হামলা চালায় এজন্যে তাদের বিরাট মূল্য দিতে হবে।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট আসাদের মিত্র রাশিয়া বলেছে, এরকম হুমকি তারা মেনে নেবে না।

বিবিসির বিশ্লেষক জোনাথন মার্কাস বলছেন, সিরিয়ার সরকারকে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারে এরকম প্রকাশ হুমকি দেয়া খুবই অস্বাভাবিক।

কারণ এ ধরণের সতর্কবাণী দিতে হলে তার আগে দরকার হয় বিস্তারিত গোয়েন্দা তথ্য, তা ছাড়া সাধারণত এটা জানিয়ে দেয়া হয় কূটনৈতিক চ্যানেলে - সাধারণের চোখের আড়ালে।

ছবির কপিরাইট .
Image caption এপ্রিল মাসে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র হামলার পরের দৃশ্য: ভিডিও থেকে

সিরিয়া যদি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করতে চায় তাহলে তাকে সেনাবাহিনীর বিশেষ কিছু ইউনিটকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতে হয়। রাসায়নিক অস্ত্রগুলো কোন নির্দিষ্ট ঘাটিতে নিয়ে যেতে হয় - যেখান থেকে তা আক্রমণকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয়।

সামরিক ইউনিটগুলোর এ ধরণের নড়াচড়া বা প্রস্তুতি খুব সহজেই মার্কিন উপগ্রহ বা ড্রোনের চোখে ধরা পড়ে যায়।

তাই এটা স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র এই হুমকি দেবার উদ্দেশ্য হচ্ছে সম্ভাব্য কোন আক্রমণকে ঘটবার আগেই ঠেকিয়ে দেয়া।

তা ছাড়া একটা সতর্কবার্তা দেয়া: যদি সিরিয়া এপ্রিল মাসের মতো আবার সীমা লঙ্ঘন করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র শক্তি প্রয়োগ করে এর জবাব দেবে। ওই আক্রমণের পর একটি সিরিয়ান ঘাঁটির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালিয়েছিল আমেরিকা।

কিন্তু এখন প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন যুক্তরাষ্ট্র এবং আসাদ-সমর্থক বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্রতর হচ্ছে।

অবশ্য এটাও ঠিক যে সিরিয়ায় আঘাত হানলে, ওয়াশিংটন এ সংকটে আরো বেশি করে জড়িয়ে পড়বে।

ছবির কপিরাইট ইউএস এয়ার ফোর্স
Image caption মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন সিরিয়ায় ২১ হাজার বিমান হামলা চালিয়েছে

আইএসের কারাগারের ওপর বিমান হামলা: নিহত ৫৭

উত্তর সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট-পরিচালিত একটি কারাগারের ওপর মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের এক বিমান হামলায় কমপক্ষে ৫৭ জন লোক নিহত হয়েছে।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস নামে একটি সংগঠন বলছে, তাদের বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট মায়াডিন শহরে এই হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন জোট বলছে, তারা এই হামলার ঘটনা তদন্ত করে দেখবে।

নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪০ জন হচ্ছে বন্দী এবং বাকিরা ওই জেলখানায় পাহারারত ইসলামিক স্টেটের রক্ষী। মায়াডিন হচ্ছে এমন একটি জায়গা যেখানে এখনো আইএস তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

বিবিসি বা্ংলায় আরো পড়ুন:

গুগলকে বিশাল জরিমানা, কিভাবে নিয়ম ভাঙছিল তারা?

কাশ্মীরে পুলিশের চাকরি কতটা কঠিন?

পাড়া-মহল্লার ক্লাব সংস্কৃতির ভিন্ন ধারা শহরে

বিউটি পার্লারগুলোর কর্মীরা অধিকাংশই বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর