বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা ফেরত গেল সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম
Image caption সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর হতাশা প্রকাশ করেন অ্যাটার্নি জেনারেল মাহবুবে আলম

বাংলাদেশের সংবিধানে যে ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণ করার ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেটি অবৈধ ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

উচ্চ আদালতের কোন বিচারপতি যদি সংবিধান লংঘন করেন কিংবা অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত হন, তাহলে তাকে কিভাবে অপসারণ করা হবে সে বিষয়টি সংবিধানে সংশোধন করা হয়েছিল ২০১৪ সালে।

সংবিধানের ১৬তম সে সংশোধনীতে বলা হয়েছিল বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকবে। বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েক বছর আগে নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে হাইকোর্ট ১৬তম সংশোধনীকে বাতিল করে দিয়েছিল।

তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে আজ সেটিও বাতিল হয়ে যায়।

রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের সাতজন বিচারপতি সর্বসম্মতভাবে এ রায় দিয়েছেন।

আজ রায়ের পর মি: মোরশেদ বলছেন, এখন বিচাপতিদের অপসারণের ক্ষমতা আবার সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ফেরত গেল।

বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতেই ছিল।

১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হলে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছ থেকে সরিয়ে রাষ্ট্রপতির হাতে নেয়া হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকালে সংবিধান পরিবর্তন করে সে ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে যার প্রধান হবেন প্রধান বিচারপতি।

আজ সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর হতাশা প্রকাশ করে অ্যাটার্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলছিলেন, আদালতের এ রায়ে তিনি হতাশ হয়েছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, "এ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিষয়টা একমাত্র পাকিস্তান এবং আমাদের দেশে সামরিক সরকার এসে জিয়াউর রহমানের আমলে সংবিধান অন্যায়ভাবে সংশোধন করেছিল। আমরা সংবিধান থেকে সামরিক শাসকরা যেগুলো করেছিল সেগুলো মুছে ফেলতে চাই। "

সুপ্রিম কোর্টে যখন আপিল শুনানি চলছিল তখন ১০ জন বিশিষ্ট আইনজীবীর মতামত নিয়েছিল আদালত।

এদের মধ্যে ৯জনই বক্তব্য দিয়েছেন যে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকা উচিত নয়।

Image caption রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের সাতজন বিচারপতি সর্বসম্মতভাবে এ রায় দিয়েছেন।

কিন্তু সংবিধানে যখন সংশোধনী আনা হয়েছিল, তখন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছিল যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংসদ সার্বভৌম সুতরাং বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকা উচিত।

রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলছিলেন, "মানুষের পারসেপশান হলো সংসদের হাতে ক্ষমতা থাকলে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না।"

"আমাদের সংসদের অনেকেই ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কের সাথে জড়িত। তারা যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেন ঐ সিদ্ধান্তের এগেইনেস্টে আমরা হাইকোর্টে রিট করি। অর্থাৎ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে তারা (সংসদ সদস্যরা) পক্ষ থাকেন। সে পক্ষ থাকা অবস্থায় তাদের হাতে যদি বিচারক অপসারণের ক্ষমতা দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে বিচারটা ফ্রাসট্রেটেড হওয়ার সম্ভবনা থাকে"-বলছিলেন মি: মোরশেদ।

এদিকে অ্যটর্নি জেনারেল মনে করেন, এ সংবিধানের এ সংশোধনী বাতিল করার কারণে বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ফিরে যাবে না।

অপসারণের ব্যাপারে কী পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয় সেটি নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

আরো পড়তে পারেন:

'ফরহাদ মজহারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না'

আরবদের হটিয়ে যেভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল

বাদশাহকে সৃষ্টিকর্তার সাথে তুলনা করায় সৌদি লেখক বরখাস্ত

'মার্কিন নারীরা বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে একা খেতে চান না'

Image caption বাংলাদেশে সুপ্রিম কোর্ট ভবন

সম্পর্কিত বিষয়