ঠিক মতো ঘুম না হলে কি হয় মানুষের মস্তিষ্কে
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ঠিক মতো ঘুম না হলে কি হয় মানুষের মস্তিষ্কে

বেঁচে থাকার জন্যে আমরা যেমন খাবার খাই, নিঃশ্বাস গ্রহণের সময় বাতাস নেই, ঠিক তেমনি ঠিকমতো ঘুমানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের জীবনের তিন ভাগের এক ভাগ সময় আমরা ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেই।

কিন্তু ঘুম না হওয়া বা অনিদ্রা মানুষের মস্তিষ্কের উপর কি ধরনের প্রভাব ফেলে সেবিষয়ে বড় ধরনের একটি গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

বলা হচ্ছে, এই বিষয়ে এতো বড়ো আকারের গবেষণা এটাই প্রথম। কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এই গবেষণাটি শুরু করেছে।

এবিষয়ে অনলাইনে অংশ নেওয়ার জন্যে তারা সারা বিশ্বের মানুষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

গবেষকরা বলছেন, এই পরীক্ষায় দেখা হবে মানুষের যুক্তি, বোধশক্তি, ভাষার দক্ষতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার ওপর অনিদ্রা কতোটা প্রভাব ফেলতে পারে।

এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্রিটিশ নিউরো-সায়েন্টিস্ট প্রফেসর এড্রিয়ান ওয়েন। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে কিরকম লাগে সেটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এর ফলে আমাদের মস্তিষ্কের ওপর এর কি রকমের প্রভাব পড়তে পারে তার খুব কমই আমরা জানতে পেরেছি।

ছবির কপিরাইট OWEN LAB, WESTERN
Image caption ডান দিকের ছবিটিতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়ার পর মস্তিষ্কের স্ক্যান করা ছবি

"আমরা দেখতে চাই মানুষের বোঝার ক্ষমতা, স্মৃতি এবং কোন কিছুতে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই অনিদ্রা কি ভূমিকা রাখে," বলেন তিনি।

বিজ্ঞানীদের দলটি মানুষের ওপর এই কগনিটিভ টেস্ট বা বোধশক্তি নির্ণয়ের পরীক্ষাটি চালাতে গিয়ে কে কতক্ষণ ঘুমিয়ে কতো স্কোর করেছেন সেটাই খতিয়ে দেখবেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, একেক মানুষের ঘুমের চাহিদা একেক রকমের। একজনের ঘুমের ধরনও আরেকজনের চাইতে আলাদা।

তবে এই গবেষণায় যদি প্রচুর মানুষ অংশ নেয় তাহলে তা থেকে একটি ধারণা পাওয়া যেতে পারে যে মস্তিষ্ককে সবচেয়ে বেশি কার্যকর রাখার জন্যে একজন মানুষের কতক্ষণ ঘুমানোর প্রয়োজন।

ছবির কপিরাইট ELENATHEWISE
Image caption ঘুমের উপর এতো বড় গবেষণা আগে কখনো হয়নি

গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম কম হলে মানুষের মস্তিষ্ক পুরোপুরি কাজ করতে পারে না। বিজ্ঞানী ওয়েন বলছেন, মস্তিষ্কের যে দুটো অংশ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও স্মৃতি সংরক্ষণে কাজ করে, ঠিক মতো ঘুম না হলে, সেই দুটো অংশ খুব বেশি সক্রিয় হয় না।

তিনি বলেন, "আমরা সবাই জানি ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো বিপদজনক। কারণ কোন কিছুতে সাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়াটি তখন সচল থাকে না। ফলে ঠিক মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। এমনকি চলন্ত অবস্থায় চালক অনেক সময় ঘুমিয়েও পড়তে পারেন।"

নিউরো-বিজ্ঞানী ওয়েন বলছেন, "পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সেটা মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার ওপর বড়ো রকমের প্রভাব ফেলতে পারে। আর কেউ যখন এরকম অবস্থার ভেতর দিয়ে যান তখন বাড়ি কেনা বা বিয়ে করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।"

এটিএমের ৫০ বছর

আমরা তো এখন রাস্তা ঘাটেই দেখি এটিএম বা অটোমেটেড টেলিং মেশিন।

এখান থেকে টাকা তোলা যায়। টাকা জমাও দেওয়া যায়।

এই মেশিন উদ্ভাবনের ৫০ বছর হয়ে গেলো গত সপ্তাহে। বিশ্বের প্রথম এটিএম বসানো হয়েছিলো লন্ডনে একটি ব্যাঙ্কের সামনে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption প্রথম এটিএম, বসানো হয়েছিলো লন্ডনে, ৫০ বছর আগে

১৯৬৭ সালে বিশ্বের প্রথম এটিএম বসানো হয়েছিলো। ব্রিটিশ এক টেলিভিশন তারকা ওই মেশিনের ভেতরে একটি ভাউচার ঢুকিয়ে, তারপর ছয় সংখ্যার একটি কোড দিয়ে, ওখান থেকে দশটি নতুন এক পাউন্ডের নোট তুলে নিয়েছিলেন।

এর নয় দিন পরেই এই একই ধরনের মেশিন বসানো হয়েছিলো সুইডেনে।

বর্তমানে সারা বিশ্বের এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ৩০ লাখেরও বেশি ক্যাশ-পয়েন্ট।

ছবির কপিরাইট NCR
Image caption আধুনিক এটিএম দেখতে ট্যাবলেটের মতো

এসব মেশিন থেকে প্রতিদিন তোলা হচ্ছে শত শত কোটি ডলার। এর ব্যবহার বেড়ে যাওয়া এই মেশিনটি আজকাল হ্যাকিং-এরও শিকার হচ্ছে। ফলে এর নিরাপত্তা বাড়াতেও কাজ করছেন প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

এটিএমের উদ্ভাবক জন শেফার্ড ব্যারন বলেছেন, ভেন্ডিং মেশিন থেকে চকোলেট বার বের হওয়ার বিষয়টি দেখে তিনি টাকা তোলার এই যন্ত্রটি তৈরি করতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।

এটিএমের আবিষ্কার নিয়ে শুনুন বাংলাদেশে সিটি ব্যাঙ্কের একজন কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের সাক্ষাৎকার। তিনি বলছিলেন, ৫০ বছর আগে এই মেশিনের আবিষ্কার ছিলো একটি যুগান্তকারী ঘটনা। তার সাক্ষাৎকারটি শুনতে উপরের অডিও লিঙ্কে ক্লিক করুন।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মিজানুর রহমান খান