‘ইসলামিক স্টেট’ এর প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদীর সঙ্গে কী ঘটেছে?

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption ২০১৪ সালে এক ভিডিওতে আবু বকর আল বাগদাদীকে মসুলের এক মসজিদে বক্তৃতা দিতে দেখা গেছে।

তিন বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যের কথিত জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের এক প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদীর এক ভিডিও প্রকাশ পায়, যেখানে মসুল শহরের বিখ্যাত আল-নুরি মসজিদে খুৎবা দিতে দেখা যায়।

ইরাকের মসুল শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস তাদের 'খেলাফত' প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে ঘোষণা দেয়।

আইএস সেইসময় অনেক বড় বড় অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় থেকেই এই জিহাদি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াই শুরু হয় এবং আস্তে আস্তে তারা বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে।

কিন্তু আবু বকর আল-বাগদাদী নামে আইএস এর ওই নেতা, যার সন্ধান পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ২৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে রেখেছে-সেই ব্যক্তির এখন কোথায় বা কী করছে বা তার সঙ্গে কিছু ঘটেছে কিনা সে বিষয়টি এখনো রহস্যই রয়ে গেছে।

আবু বকর আল-বাগদাদীর শেষবারের মতো প্রকাশ্যে আসার তিন বছর পার হয়েছে, কিন্তু গত কয়েক বছরে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস তাদের কথিত খেলাফতের একটা বিরাট অংশের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

রুশ এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের দ্বিমুখী আক্রমণের মুখে তারা এখন বেশি চাপের মধ্যে আছে।

২০১৪ সালের ওই ভিডিওর পরে আল-বাগদাদীর কোনো কথা শোনা যায়নি।

তবে গত বছর নভেম্বর মাসে যখন ইরাকি সেনাবাহিনী মসুল পুনর্দখলের লড়াই শুরু করে তখন আল-বাগদাদীর একটা অডিও বার্তা প্রকাশ করে আইএস। জঙ্গি গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বলা হয় আবু বকর আল-বাগদাদী অজ্ঞাত স্থান থেকে তাঁর অনুসারীদের আহ্বান জানিয়েছেন তারা যেন লড়াইয়ে পিছু না হটে।

আর এরই মধ্যে এই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই দাবিও করা হয় যে আইএস প্রধান আল-বাগদাদী হয়তো রাকায় চালানো রুশ বিমান হামলায় নিহত হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, গত ২৮ শে মে রাকায় ইসলামিক স্টেটের এক কথিত গোপন সভাস্থল লক্ষ্য করে রুশ বিমান হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় তিনশো ত্রিশ জনের মতো ইসলামিক স্টেট যোদ্ধা নিহত হয়। এদের মধ্যে হয়তো আবু বকর আল বাগদাদীও ছিল এবং সেটা যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানায় রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

আল বাগদাদীর মৃত্যু নিয়ে এরকম জল্পনা ওটাই প্রথম ছিলনা। এর আগেও কয়েকবার তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। তবে রাশিয়ার দিক থেকে আল-বাগদাদীর মৃত্যুর দাবি ওটাই ছিল প্রথম।

এর আগে গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার এরকম খবর বেরিয়েছিল যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন হামলায় বিমান হামলা বাগদাদী নিহত হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা তখন জানিয়েছিলেন, বাগদাদী নিহত হয়েছেন কিনা সেটা তারা নিশ্চিত করতে পারছেন না।

এমনকি গত সপ্তাহে ইরানের একজন কর্মকর্তা বলেছেন যে তিনি নিশ্চিত আল-বাগদাদী নিহত হয়েছেন।

এর এই দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।

তালেবান নেতা মোল্লা ওমরের মৃত্যুর খবরটি তালেবান ও আল-কায়েদা প্রায় দুই বছর পর্যন্ত লুকিয়ে রেখেছিল।

আইএস এর কোনঠাসা পরিস্থিতিতে তাদের নেতা বাগদাদীর উপস্থিতি গোষ্ঠীটির অনুসারী ও বিরোধী বা শত্রু দুইপক্ষকেই ভাবিয়ে তুলেছে।

এক বিস্ফোরণে ইরাকের আল-নুরি মসজিদটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়
Image caption এক বিস্ফোরণে ইরাকের আল-নুরি মসজিদটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়

আবু বকর আল বাগদাদী কে?

আবু বকর আল বাগদাদীর আসল পরিচয় কী তা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। আল বাগদাদী তার আসল নাম নয় বলে মনে করা হয়।

ধারণা করা হয় ১৯৭১ সালে বাগদাদের উত্তরে সামারা এলাকায় আল বাগদাদীর জন্ম।

২০০৩ সালে যখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে সামরিক অভিযান চলে, তখন আল বাগদাদী বাগদাদের কোন একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন বলে দাবি করা হয় কোন কোন রিপোর্টে।

অনেকের বিশ্বাস, সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলেই আল বাগদাদী জঙ্গি জিহাদীতে পরিণত হয়েছিল। তবে অন্য অনেকের ধারণা, যখন তাকে দক্ষিণ ইরাকে একটি মার্কিন সামরিক ক্যাম্পে চার বছর আটকে রাখা হয়েছিল তখনই আসলে আল বাগদাদী জঙ্গীবাদে দীক্ষা নেয়। এই ক্যাম্পে অনেক আল কায়েদা কমান্ডারকে বন্দী রাখা হয়েছিল।

আল বাগদাদী পরে ইরাকে আল কায়েদার নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়। পরে অবশ্য ইরাকের আল কায়েদা নিজেদেরকে ২০১০ সালে 'ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড লেভান্ট' বলে ঘোষণা করে।

২০১১ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র আল বাগদাদীকে সন্ত্রাসী বলে ঘোষণা করে। তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

আরো পড়ুন:

শোবার ঘর থেকে বেরিয়ে এলো ২৭টি গোখরা সাপ

মৃত্যুফাঁদ পেরিয়ে ইতালিতে যাওয়া এক বাংলাদেশীর গল্প

বিয়ে রুখতে নিজের হাত কাটলেন নবম শ্রেণীর বিথী

'সৌদি আরব উগ্র ইসলামী মতবাদ ছড়াচ্ছে '

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption ২০১৪ সালে ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আল বাগদাদীর এই ছবি প্রকাশ করে।