গুয়ান্তানামোর সাবেক বন্দী ওমর খাদের পাচ্ছেন ক্ষতিপূরণ

গুয়ান্তানামোর সাবেক বন্দী ওমর খাদের ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption গুয়ান্তানামোর সাবেক বন্দী ওমর খাদেরের যখন ১৫ বছর বয়স ছিল তখন থেকেই মার্কিন কারাগারে তার বন্দী জীবন শুরু।

গুয়ান্তানামো বে কারাগারের সাবেক একজন বন্দী ওমর খাদেরকে ক্ষতিপূরণ দিতে যাচ্ছে কানাডা সরকার। এমনকি তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমাও চাইবে কানাডার সরকার।

আফগানিস্তানে এক আমেরিকান সেনাকে হত্যার অভিযোগে কানাডিয়ান বংশোদ্ভুত ওমর খাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় ২০১০ সালে। কিন্তু এই অভিযোগে তাকে বন্দি করা হয় ২০০২ সালে, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। ওই সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে তার বন্দিজীবন শুরু হয়।

মি: খাদেরকে 'অত্যাচারমূলক পরিস্থিতির' মধ্যে ফেলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে কানাডার সুপ্রিমকোর্ট পরবর্তী সময়ে মন্তব্য করেন, ওই ব্যক্তিকে কর্মকর্তারা মন্তব্য করে।

এই কারণে ওমর খাদেরকে প্রায় ৮০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডার কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার এই মামলা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা টরেন্টো স্টার নিউজপেপারকে এ তথ্য জানান।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption গুয়ান্তানামো কারাগারে সব মিলিয়ে ১০ বছর ছিলেন ওমর খাদের।

২০০২ সালে আফগানিস্তানে আমেরিকান স্পেশাল ফোর্সেস সার্জেন্ট ক্রিস্টোফার স্পিরের মৃত্যুর দায় চাপানো হয় ওমর খাদেরের ওপর।

অভিযোগে বলা হয়, ওমরের ছোড়া গ্রেনেডে ক্রিস্টোফার নিহত হন। পরে ওমরকে গুয়ান্তানামোতে নিয়ে এক মিলিটারি কমিশনে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তোলা হয়।

মি: খাদের বলেছেন, কারাগারে থাকাকালীন তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে জবানবন্দি দেন।

২০১০ সালে তিনি খুনের দায় অভিযুক্ত হন এবং ৮ বছরের সাজা দেয়া হয়।

তিনি সাজার বিরুদ্ধে আপিল করার পর ২০১২ সালে তাকে কানাডায় ফেরত আনা হয়।

গুয়ান্তানামো কারাগারে সব মিলিয়ে ১০ বছর ছিলেন ওমর খাদের।

তার মামলাটি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি কেড়েছিল। যদিও অনেকের চোখে তিনি আফগানিস্তানে যুদ্ধচলাকালীন এক শিশু সেনা বিবেচিত হয়েছেন।

২০১০ সালে কানাডিয়ান আদালতের এক রুলের ভিত্তিতে দেশটির ইন্টেলিজেন্স বিভাগ ওমর খাদেরেরর বিষয়ে প্রমাণপত্র সংগ্রহ করেন।

তারা জানান, ২০০২ সাল থেকে ওমরকে অত্যাচারপূর্ণ পরিস্থিতিতে রাখা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ওসামা বিন লাদেনের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর ছেলে ওমর খাদের এবং তরুণ বয়সে তাকে জঙ্গি গোষ্ঠীর মধ্যে টেনে আনা হয়। শৈশব তিনি কাটিয়েছেন পাকিস্তান ও কানাডায়।

২০১৫ সালে জামিনে ছেড়ে দেবার সময় একজন বিচারক বলেন যে মি: খাদের নিশ্চয়ই কানাডার নাগরিকদের কাছে প্রমাণ করবেন যে তিনি একজন 'ভালো মানুষ'।

আরো পড়তে পারেন:

‘ইসলামিক স্টেট’ এর প্রধান আল-বাগদাদী কোথায়?

'ফরহাদ মজহার এমন কেউ নন তাঁকে সরকার ভয় পাবে'

শোবার ঘর থেকে বেরিয়ে এলো ২৭টি গোখরা সাপ

মৃত্যুফাঁদ পেরিয়ে ইতালিতে যাওয়া এক বাংলাদেশীর গল্প

যে কারণে চীন-ভারত দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে

সম্পর্কিত বিষয়