হলি আর্টিজান হামলার এক অভিযুক্ত পরিকল্পনাকারী সোহেল মাহফুজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

হলি আর্টিজান ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ২০১৬ সালের জুলাই মাসের পয়লা দিন ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোঁরায় ৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী আচমকা হামলা চালিয়ে ২২ জনকে হত্যা করে। এদের মধ্যে ১৭ জনই ছিলেন বিদেশী নাগরিক।

পুলিশ বলছে, তারা উত্তরাঞ্চলীয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চার জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে একজন ঢাকার হলি আর্টিজান রেস্তোঁরায় সন্ত্রাসী হামলার একজন অন্যতম 'পরিকল্পনাকারী' সোহেল মাহফুজ।

শিবগঞ্জ উপজেলা সদরের একটি বাড়ি থেকে গতরাতে এদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এসময় চার ব্যক্তি একটি বৈঠক করছিল।

এদের মধ্যে সোহেল মাহফুজ, যিনি নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান, তার নাম হলি আর্টিজান হামলা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে বারবারই তদন্তকারীদের সামনে এসেছে, বলছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার জিএম মুজাহিদুল ইসলাম।

বাকীদের মধ্যে হাফিজুরকে একজন তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, জুয়েলকে একজন অস্ত্র সরবরাহকারী আর জামালকে একজন সমন্বয়কারী হিসেবে চিহ্নিত করছে পুলিশ।

এদেরকে ধরার জন্য বেশ কয়েকদিন ধরেই চেষ্টা করা হচ্ছিল।

এমনকি এর আগে হাফিজুরের বাড়িতেও একবার হানা দিয়ে ব্যর্থ হয় পুলিশ।

অবশেষে গতরাতে একটি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এই অভিযানে যোগ দেবার জন্য ঢাকা থেকে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম শাখার সদস্যরাও সেখানে যান।

সোহেল মাহফুজকে এখন ঢাকা নিয়ে আসা হচ্ছে।

সকালেই পুলিশ প্রহরায় তাকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।

আর বাকী তিন জনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালতে হাজির করবার প্রস্তুতি চলছে।

এই চার জনের নামেই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বহু মামলা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন পুলিশ সুপার মি. ইসলাম।

তিনি বলছেন, অভিযুক্ত আরেক জঙ্গি আবু কালামকে নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে এদের সম্পর্কে জানতে পারেন তারা।

এই আবু কালাম ও তার তিন জন সহযোগী গত এপ্রিল মাসে শিবগঞ্জেই পুলিশের এক অভিযানে নিহত হয়।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী এপ্রিল মাসের ২৭ তারিখ 'অপারেশন ঈগল হান্ট' নামে অভিযান চলাকালে অভিযুক্ত জঙ্গি আবু সহযোগীদেরকে নিয়ে 'আত্মঘাতী' হয়ে মারা যায়।

আরো পড়ুন:

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার এক বছর: এখনো শঙ্কা কাটেনি

সম্পর্কিত বিষয়