চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আটক সোহেল মাহফুজ ঢাকার হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলারীদেরকে অস্ত্র ও গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল: পুলিশ

গুলশানের পাঁচ হামলাকারী ছবির কপিরাইট Site
Image caption গুলশানে হামলার পর ইসলামিক স্টেট জঙ্গি গোষ্ঠী তাদের বার্তা সংস্থা 'আমাক' এ পাঁচ হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোহেল মাহফুজ নামে এক অভিযুক্ত জঙ্গিকে আটকের যে খবর প্রকাশিত হয়েছে ঢাকায় পুলিশের মুখপত্র ডিএমপি নিউজে, সেখানে বলা হয়েছে, সে ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর হামলাকারীদেরকে অস্ত্র ও গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল।

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান সোহেল মাহফুজ ও তার তিন সহযোগীকে গত রাতে এক যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সেখান থেকে সোহেল মাহফুজকে হলি আর্টিজান হামলার একজন পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তাকে গ্রেপ্তারের অভিযানে যোগ দিতে ঢাকা থেকে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের (সিটি)একটি দলও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় যায়।

অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও শুধুমাত্র সোহেল মাহফুজকে নিয়ে ঢাকায় আসছে সিটির ওই দলটি।

তারা এখন ঢাকা পথে রয়েছে।

কিন্তু কিভাবে জানা গেল সোহেল মাহফুজ ওই ঘটনার পরিকল্পনাকারী কিংবা অস্ত্র সরবরাহকারী?

এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার জিএম মুজাহিদুল ইসলাম খুব বেশী কিছু বলতে পারেননি।

তিনি শুধু জানিয়েছেন তারা বেশ কিছুদিন ধরেই ওই এলাকায় সোহেল মাহফুজ ও তার দলের সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য চষে বেড়াচ্ছিলেন।

ঢাকায় সিটি'র তদন্তেই মূলত তার নামটি বেরিয়ে এসেছে।

এখন দেখা যাচ্ছে ঢাকার পুলিশের মুখপত্রে বলা হচ্ছে সে হলি আর্টিজান হামলার অস্ত্র ও গ্রেনেডেরও সরবরাহকারী ছিল।

এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বিবিসি'কে বলেন, মূলত হলি আর্টিজান হামলা মামলায় যেসব অভিযুক্ত আটক রয়েছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই সোহেল মাহফুজ সম্পর্কে তথ্য এসেছে।

"সে হলি আর্টিজান হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় ছিল। সে হামলাকারীদের প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ, মোটিভেশন ও অস্ত্র সরবরাহ চেইনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল," বলছিলেন ওই কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, যেসব জঙ্গি আটক রয়েছে তারা আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতেও এই তথ্য দিয়েছে।

ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর হয়ত এ ব্যাপারে আরও সবিস্তার জানা যাবে, বলছিলেন ওই কর্মকর্তা।

২০১৬ সালের পয়লা জুলাই রাতে ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান নামের রেস্তোরায় নিব্রাস ইসলাম, রোহান ইমতিয়াজ, মীর সাবিহ মুবাশ্বের, আন্দালিব আহমেদ ও রাইয়ান মিনহাজ নামের ৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী চকিত হামলা চালিয়ে গুলি করে ও ছুরিকাঘাত করে ২২ জনকে হত্যা করে।

এদের মধ্যে ১৭ জনই ছিল বিদেশী।

পরে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে ৫ জন সন্ত্রাসীই নিহত হয়।

এরা ছিল শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।

এদের কেউ কেউ ছিল ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল ও নামজাদা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

আরো পড়ুন:

হলি আর্টিজান হামলার এক 'পরিকল্পনাকারী' গ্রেপ্তার

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার এক বছর: এখনো শঙ্কা কাটেনি

সম্পর্কিত বিষয়