'গরু-গুজরাট-হিন্দুত্বে' সেন্সরের কাঁচি অমর্ত্য সেনে

ছবির কপিরাইট RAVEENDRAN
Image caption অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্রে তিনি 'গরু, গুজরাট ও হিন্দুত্বে'র মতো বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলায় সেটির মুক্তি আটকে দিয়েছে ভারতের চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড।

'দ্য আর্গুমেন্টেটিভ ইন্ডিয়ান' নামে ঘন্টাখানেকের এই তথ্যচিত্রটি কলকাতার নন্দন-সহ বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল শুক্রবার। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় এখন বাদ সাধছে সেন্সর বোর্ড।

বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গরু-গুজরাট-হিন্দুত্বের মতো শব্দগুলো ওই তথ্যচিত্রে যেভাবে ও যে কনটেক্সটে ব্যবহার করা হয়েছে তাতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে বলেই তারা মনে করছেন।

সেন্সর বোর্ড ওই তথ্যচিত্রটির পরিচালক সুমন ঘোষকে পরামর্শ দিয়েছিল ছবিতে অমর্ত্য সেনের মুখে ওই শব্দগুলো 'মিউট' করে দেওয়া হলে সেটির ছাড়পত্র দিতে তাদের কোনও আপত্তি থাকবে না।

কিন্তু ছবিটির মার্কিন-প্রবাসী পরিচালক সুমন ঘোষ, যিনি নিজেও একজন অর্থনীতিবিদ, এভাবে আপস করতে রাজি হননি।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, "সেন্সর বোর্ডে যে লোকগুলো বসে আছেন দোষটা বোধহয় তাদেরও নয়। কোথা থেকে তাদের পরিচালনা করা হচ্ছে, কোথা থেকে তারা নির্দেশ পাচ্ছেন সেটাই এখানে আসল!"

ছবির একটি দৃশ্যে আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার সময় অমর্ত্য সেনকে 'ক্রিমিন্যালিটি ইন গুজরাট' শব্দবন্ধটি ব্যবহার করতে শোনা যায়। এখানে গুজরাট শব্দটিতে আপত্তি জানিয়েছে সেন্সর বোর্ড।

কিন্তু সুমন ঘোষের মতে, "আপত্তিই যদি থাকে তাহলে ক্রিমিন্যালিটি শব্দটা নিয়ে আপত্তি থাকতে পারে - কিন্তু গুজরাটে অসুবিধা কোথায় আমার বোধগম্য নয়।"

ছবির কপিরাইট STR
Image caption ভারতে চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের প্রধান পহেলাজ নিহালনি

অনুরূপভাবে ডকুমেন্টারির আরও একটি অংশে অমর্ত্য সেনকে বলতে শোনা গেছে "গরু নিয়ে যা চলছে" কিংবা 'হিন্দু মিডিয়া'র মতো শব্দও। সেন্সর বোর্ড এউ শব্দগুলোর ব্যবহারও মেনে নিতে পারেনি।

ভারতের বর্তমান সেন্সর বোর্ড ও তার পরিচালক পহেলাজ নিহালনি ইদানীং বহু সিনেমাতে কাঁচি চালিয়েই বিতর্কের শিরোনামে এসেছেন - এবারে অমর্ত্য সেনের ওপর তথ্যচিত্রও সেই তালিকাতে যোগ হল।

ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের সঙ্গেও অমর্ত্য সেনের সম্পর্ক বেশ খারাপ বলা চলে।

গুজরাটের দাঙ্গা থেকে শুরু করে নোট বাতিলের মতো বহু বিষয়কে কেন্দ্র করে তিনি বহুবার প্রকাশ্যে মি মোদির কড়া সমালোচনা করেছেন।

বিহারের নালন্দায় ভারত সরকার যে আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন করে গড়ে তুলছে, বিজেপির বর্তমান সরকারের আমলে তার আচার্যের পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন অমর্ত্য সেন।

তার ওপর তৈরি তথ্যচিত্রে সেন্সর বোর্ডের আপত্তি নিয়ে অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি অমর্ত্য সেন, যিনি নিজে এই মুহুর্তে কলকাতায় রয়েছেন।

তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া হল, "আমি ছবিটার বিষয়বস্তু ঠিকই - কিন্তু এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। ছবিটা আমি বানাইনি, বানিয়েছেন পরিচালক - কাজেই এ নিয়ে যা বলার তিনিই বলবেন!"

আমাদের পেজে আরও পড়ুন :

এতো এতো পুরনো কাপড় কোথায় যায়?

কাশ্মীরে লস্করের 'হিন্দু জঙ্গি' সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

ইংল্যান্ডে আমাদের উপর হামলার চেষ্টা হয়নি: তামিম ইকবাল

সম্পর্কিত বিষয়