তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থান কি এরদোয়ানকে আরো জনপ্রিয় করেছে?

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান

তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ঠিক এক বছর পুরো হচ্ছে আজ। অভ্যুত্থান পরিকল্পনাকারীরা যাই চেয়ে থাকুক, প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ান এখনো তুরস্কে বিপুলভাবে জনপ্রিয়।

তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগই সমালোচকরা করুন না কেন, দেশটির অর্ধেক মানুষ এখনো তার সমর্থক।

ইস্তাম্বুল থেকে বিবিসির মার্ক লোয়েন জানাচ্ছেন, এরদোয়ানের জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে।

তবে মার্ক লোয়েন বলছেন, তুরস্কে যদিও অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে কিছুদিন পর্যন্ত এরদোয়ান সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে একটা ঐক্য দেখা দিয়েছিল - কিন্তু এখন দেশটিতে এই দুই শিবিরের মধ্যে বিভক্তি তীব্রতর হয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথেও তুরস্কের সম্পর্ক চিড় খেয়েছে।

তুরস্কে ইইউ-এর সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্ক পেরিনি বলছেন, দেশটি এখন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীএবং ধর্মীয় রক্ষণশীলদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

পশ্চিমা বিশ্ব ভন্ডামি করেছে: ব্যর্থ অভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে অভিযোগ এরদোয়ানের

নিজে মদ্যপায়ী হয়েও যেভাবে পাকিস্তানে মদ নিষিদ্ধ করেছিলেন ভুট্টো

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ফেতুল্লাহ গুলেন

তুরস্কে সেই অভ্যুত্থানের রাতে মামরেস শহরে বিদ্রোহী সেনাদের হাতে ধরা পড়ার হাত থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। এর পর তার একটি ভিডিও বার্তা প্রচারিত হবার পরই দ্রুত বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি।

রাস্তায় নেমে আসেন এরদোয়ানের সমর্থকরা, ব্যর্থ হয়ে যায় অভ্যুত্থান। ভিডিও বার্তায় মি. এরদোয়ান বলেছিলেন, অভ্যুত্থানকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে। তাই হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর গ্রেফতার করা হয় ৫০ হাজার লোককে। গ্রেফতার হন অন্তত ১৩০ জন সাংবাদিক। সামরিক বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয় ৭ হাজার জনকে। এ ছাড়াও চাকরি হারান ১ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষাবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তা।

বিবিসিকে মার্ক পেরিনি বলছেন, এতদিন পরও ওই অভ্যুত্থান ফেতুল্লাহ গুলেনের সমর্থকরাই ঘটিয়েছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়।

মি. পেরিনির কথায় - হয়তো বিদ্রোহীদের মধ্যে কিছু গুলেনপন্থী ছিল, কিন্তু তার চেয়েও বেশি যেটা সম্ভব যে এরা হয়ত ছিল কামাল পাশাপন্থী, গুলেনপন্থী এবং অন্যদের একটি সুযোগসন্ধানী গ্রুপ।

তবে তুরস্কে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জিম জেফরি বলেন, তার ধারণা অভ্যুত্থানের পেছনে ফেতুল্লা গুলেন এবং তার সমর্থকরাই ছিল কিন্তু কিভাবে তারা সামরিক বাহিনীতে অনুপ্রবেশ করেছিল তা এখনো কেউ জানে না।

মি. জেফরি বলেন, সমস্যা হচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রএ অভ্যুত্থানের নিন্দা করতে অনেক দেরি করেছিল - যদিও চূড়ান্ত বিচারে এটি ছিল গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠীর অভ্যুত্থান।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ব্যর্থ অভ্যুত্থানের এক বছর উপলক্ষে দেয়ালে পোস্টার

তার কথায়, এতে কৌশলগত মিত্রতা নষ্ট না হলেও পারস্পরিক আস্থার ক্ষতি হয়েছে।

অনেকের অভিযোগ, তুরস্কে গণতন্ত্র আর আইনের শাসনের অবনতি হয়েছে, একনায়কতন্ত্রের পথে যাচ্ছে দেশটি। এমন প্রশ্নও উঠেছে মি.এরদোয়ান তুরস্ককে ইসলামীকরণের পথে নিয়ে যাচ্ছেন।

তবে সাবেক আমেরিকান রাষ্ট্রদূত জিম জেফরি মনে করেন তুরস্ককে সম্পূর্ণ ইসলামিকরণের চেষ্টা কখনোই সফল হবে না।

তিনি বলেন, মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের সময় থেকেই শাসকরা তুরস্ককে জোর করে অ-ইসলামিকীকরণ করতে চেয়েছিল, যা সফল হয়নি। এখন আবার এরদোয়ান পুনরায় মানুষের মনে ধর্মীয় ভাবধারা জোরালো করার চেষ্টা করছেন - ধর্মনিরপেক্ষ বিশ্ববীক্ষা থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

কিন্তু তুরস্ক একটি বিভক্ত দেশ এবং দেশটির সব লোককে কোন একটি দিকে পুরোপুরি নিয়ে যাওয়া যাবে না - বলেন তিনি।

সম্পর্কিত বিষয়