মাঠে ময়দানে
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ফুটবলে ভিডিও রেফারি : আগামী দিনগুলোতে এটা কি সাধারণ ব্যাপার হয়ে যাবে?

সাবেক আর্জেন্টিনিয়ান য়ুটবল কিংবদন্তী দিয়েগো ম্যারাডোনা বলেছেন, ফুটবলে ভিডিও রেফারি প্রযুক্তি চালু করা উচিত - যদিও ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে এ প্রযুক্তি থাকলে হয়তো ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তার সেই হাত দিয়ে করা গোলটি বাতিল হয়ে যেতো।

কথাটা উঠেছে ফুটবলে ভিডিও এসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভি এ আর প্রযুক্তি প্রসঙ্গে।

ম্যারাডোনা বলছেন, তিনি ফুটবলে ভিডিও প্রযুক্তি চালু করাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে হাত দিয়ে গোল করেছিলেন, ১৯৯০ এর বিশ্বকাপে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে খেলায় হাত দিয়ে বল ক্লিয়ার করেছিলেন। কিন্তু রেফারি তা দেখতে পান নি।

ম্যারাডোনা বলেন, তেমনি ১৯৬৬ সালে জার্মানি-ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের জেফ হার্স্টের শটে বল গোললাইন পার না হলেও রেফারি গোল দিয়েছিলেন। ভিডিও প্রযুক্তি থাকলে হয়তো ইংল্যান্ড সেবার বিশ্বকাপ জিততো না।

ফুটবলের ইতিহাসে এমন ঘটনা বহু ঘটেছে। এ কারেই বার বার অন্য খেলার মতো ফুটবলেও ভিডিও প্রযুক্তি চালুর দাবি উঠেছে। কিন্তু এত দিন এ দাবি বাস্তবায়ন হয়নি, কারণ এর বিরোধীরা বলতে এতে ফুটবল খেলার গতিময়তা নষ্ট হয়ে যাবে।

কিন্তু অবশেষে ফিফা ধীরে ধীরে ভিডিও প্রযুক্তি চালু পথে এগুচ্ছে। ইতিমধ্যে চালু হয়েছে গোললঅইন প্রযুক্তি। আগামী রুশ বিশ্বকাপে থাকবে ভিডিও এসিস্ট্যা্ন্ট রেফারি বা ভি এ আর প্রযুক্তি।

এ পদ্ধতির মূল কথা হলো - গোল পেনাল্টি, ফাউল, এবং কে ফাউল করেছে তা ঠিকমত নির্ধারণের ক্ষেত্রে টিভি রিপ্লে সমন্বিত এই প্রযুক্তি ব্যবহুত হবে।

ছবির কপিরাইট Buda Mendes
Image caption ফাউল, পেনাল্টি ইত্যাদি ক্ষেত্রে রেফারি ভিডিও প্রযুক্তির সহায়তা নেবেন।

ফিফা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে রাশিয়ায় অনুষ্ঠেয় আগামী বিশ্বকাপ ফুটবলে এই ভি এ আর প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে।

এ কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন টুর্নামেন্টে এই প্রযুক্তি পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। । সম্প্রতি শেষ হওয়া কনফেডারেশনস কাপেও এটি ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু এ টুর্নামেন্টে এই ভিডিও প্রযুক্তি মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

অনেকেই বলেছেন, টুর্নামেন্টে বিভিন্ন খেলায় এ প্রযুক্তি বেশ ভালোভাবেই কাজ দিয়েছে। কিন্তু অন্য কিছু খেলোয়াড়, সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষক বলেছেন, এ প্রযুক্তি একেবারেই বাজে।

ছবির কপিরাইট Dean Mouhtaropoulos
Image caption কনফেডারেশন কাপে এবার ঢিডিও প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলেও তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে

এ ধারণা তৈরি হবার কারণ: দেখা গেছে যে ভিডিও প্রযুক্তি ব্যবহার করেও রেফারিরা ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। একজনের ফাউলের জন্য আরেকজনকে লাল কার্ড দেয়া হয়েছে, গুরুতর ফাউলের জন্য লাল কাড না দিয়ে হলুদ কার্ড দেয়া হয়েছে - এমন ঘটনাও ঘটেছে।

এর পর সমালোচকরা বলেছেন, নতুন এ প্রযুক্তি একেবারেই হাস্যকর। কিন্তু ফিফা প্রধান গিয়ান্নি ইনফানটিনো বলেছেন, এটা একটা সফল পদ্ধতি, কিন্তু এর কিছু দিক নিয়ে এখনো কাজ করতে হবে। রেফারিরাও বলেছেন, এ পদ্ধতির কিছু উন্নয়নের দরকার আছে।

তার মানে হচ্ছে, কিচু ত্রুটি থাকলেও ভিডিও রেফারি সম্ভবত আগামী দিনগুলোতে ফুটবলের একটা স্থায়ী বিষয় হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

এ নিয়ে এবারের মাঠে ময়দানেতে কথা বলেছেন ফুটবল বিশ্লেষক মিহির বোস।

সম্পর্কিত বিষয়