শ্রমিক অধিকার নিয়ে অ্যাকর্ড কাজ করতে চাওয়ায় সরকারের আপত্তি

ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption বাংলাদেশের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করছে শ্রমিকরা

বাংলাদেশ থেকে যেসব আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান তৈরি পোশাক কেনে তাদের জোট অ্যাকর্ড পোশাক শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে চাওয়ার পর তাতে আপত্তি তুলেছে সরকার ও গার্মেন্টস মালিকরা।

গার্মেন্টস কারখানাগুলোর শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে অ্যাকর্ড কাজ করতে চাইলে এতে আপত্তি জানিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বিবিসিকে বলেছেন, শ্রমিকের অধিকার দেখার দায়িত্ব অ্যাকর্ডের নয়, এজন্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএলও।

কিন্তু অ্যাকর্ড বলছে, কর্মপরিবেশের নিরাপত্তার পাশাপাশি তারা এখন গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকারও নিশ্চিত করতে চায়। সরকারের এমন আপত্তি নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

রানা প্লাজার ধস এবং তারও আগে তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকান্ডে শত শত গার্মেন্টস শ্রমিক নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইউরোপ এবং আমেরিকার ক্রেতাদের দু'টি জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ সরকার এবং গার্মেন্টস মালিকদের সাথে একটি চুক্তি করেছিল ২০১৩সালে।

সে অনুয়ায়ী তারা বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ নিয়ে কাজ করছে।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের একটি বড় অংশই নারী

এই কাজের সময়সীমা ২০১৮ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার পর অ্যাকর্ড গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত কাজ করতে চাইছে।

সেখানেই আপত্তির কথা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

"২০১৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্সের কার্যক্রম বাংলাদেশে ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত চলবে।সেই সময় শেষ হলে আমরা নিজস্ব উদ্যোগে দায়িত্ব নেবো কারখানাগুলো পরিদর্শনের জন্য।কিন্তু ইতিমধ্যে অ্যাকর্ড ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।অ্যাকর্ড একতরফাভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।তাদের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার এবং গার্মেন্টস মালিকরা কিছু জানেন।" - বিবিসিকে বলেন তোফায়েল আহমেদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "অ্যাকর্ড এখানে এসেছিল কারখানা পরিদর্শনের জন্য। এখন তারা শ্রমিকের স্বার্থ দেখতে চাইছে। এটা অ্যাকর্ডের কাজ নয়। সেজন্য আমরা বলেছি, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তারা যদি আরও থাকার প্রস্তাব দেয়,তখন সেটা আলোচনা হবে। তার আগে নয়।"

ছবির কপিরাইট FARJANA K. GODHULY
Image caption বেতন-বোনাসের দাবিতে য়াকায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ

অ্যাকর্ড এখন শ্রমিকের স্বার্থ দেখার কথা বলছে বলেই সরকারের আপত্তি কিনা, এই প্রশ্নে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেছেন, "অবম্যই এতে আপত্তি থাকবে। কারণ এটা তাদের কাজ না।শ্রমিকের স্বার্থ দেখার জন্য আইএলও রয়েছে।"

তিনি আরও বলেছেন,সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে তিনি তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন।গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র পক্ষ থেকেও একই বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে।তবে ঢাকায় অ্যাকর্ড এর নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েজ বলেছেন,তারা চুক্তির ভিত্তিতেই এগুচ্ছেন।

অ্যাকর্ড এর রব ওয়েজ বলছিলেন,তাদের মধ্যে চুক্তি আছে।২০১৩সালের চুক্তিটি হচ্ছে ভিত্তি।এটা তাদের একক কোন সিদ্ধান্ত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

তিনি আরও বলেছেন, গার্মেন্টস মালিক বাংলাদেশ সরকার এবং আইএলও সকলের সাথে ২০১৩সালের চুক্তির আলোকে পরে সমঝোতাও হয়েছিল যে, ২০১৮সালের পরে আরও তিন বছর অ্যকর্ড কাজ করবে।

অ্যাকর্ডের এই কর্মকর্তা বলেছেন, কারখানার কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার তাদের অনেকটা কাজ সফল হয়েছে । সেকারণে ইউরোপের ক্রেতা প্রতিষ্ঠাগুলো চাইছে, কারখানাগুলোর পরিবেশের পাশাপাশি শ্রমিকের স্বার্থ যেনো নিশ্চিত করা যায়।

তবে সরকারের আপত্তি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনগুলো। একটি সংগঠনের নেত্রী নাজমা আকতার বলছিলেন, তারা শ্রমিকের অধিকার নিয়ে অ্যাকর্ডের কাজ করার বিষয়কে সমর্থন করেন।

তবে আরেকটি গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের নেত্রী মোশরেফা মিশু বিষয়টাকে ব্যাখ্যা করছেন ভিন্নভাবে।

"২০১৩ সালে যখন চুক্তি হয়েছিল, তখন সেই চুক্তির শর্তগুলো ঠিক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার এবং গার্মন্টস মালিকদের দূরদর্শিতার অভাব ছিল। কারণ চুক্তিতে অনেক বিষয় এসেছে, সেকারণে অ্যকর্ড বলছে, বাংলাদেশে তাদের কাজ শেষ হয়নি এবং তারা আরও থাকবে। শ্রমিক স্বার্থের কথা বলে তারা আসলে তাদের পুঁজিকে নিরাপদ করতে চাইছে।"

সম্পর্কিত বিষয়