'দুলাভাই আমারে বেহুশ করে ভারতে নিয়া বেচে দিছিলো'

মানব পাচার ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি বলছে বছরে ২০ হাজার বাংলাদেশি নারী ও শিশু ভারতে পাচার হয়

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলার এক কিশোরী মেয়ে। কয়েক বছর আগে নতুন বিয়ে হওয়া বড় বোনের বাড়িতে বেরাতে গিয়েছিল। সেখানে যাবার পর কিশোরী মেয়েটিকে তার দুলাভাই বলেছিলো কয়েকদিন বেরিয়ে যেতে।

থেকে যায় মেয়েটি। কিন্তু ক'দিন পর তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় দুলাভাই। মেয়েটি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে, তাদের দুবোনের ওপরই অত্যাচার শুরু হয়।

"এরপর একদিন খাবারের সঙ্গে কিছু একটা মিশায়ে দিয়ে আমারে রাত্তিরে ওপার দিয়া আসে। আমারে যখন ওপারে নিয়া যায়, আমি হুশে ছিলাম না।"

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বহু তরুণী ও কিশোরী পাচারের শিকার হন। অনেককেই উদ্ধার করা যায় না।

আর নানা রকমের আইনি প্রক্রিয়া শেষে, যাদেরকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়, ফিরে এসে সমাজে, পরিবারে কি ধরণের আচরণের শিকার হন তারা?

আন্তর্জাতিক মানব পাচার বিরোধী দিবস উপলক্ষে, বিবিসি বাংলার শায়লা রুখসানা কথা বলেছেন একজনের সঙ্গে, যিনি পাঁচ বছর আগে পাচার হয়ে গিয়েছিলেন।

আরো পড়ুন:অদ্ভূত প্রাণী 'টার্ডিগ্রেড': কোন বিপদেই যে কাবু হয় না

সেই কিশোরী এখন তরুণী। বলছিলেন, ভারতে এক বছর কাটানোর পর নানা আইনি প্রক্রিয়া পেরিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

কিন্তু দেশে আসার পর দেখলেন, তাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়নি তার পরিবার।

"বাবা সবাইরে বলছিল, আমি মারা গেছি। আমি মারা গেছি, আর বোনরে কি করছি, সেই জবাব চায় তারা আমার কাছে। এখনো আমারে তারা আপন করে নেয়নি।"

"ধরতে গেলে এখনো আমি তাদের কাছে অপরাধী। তারা চায় না আমি তাদের কাছে থাকি বা ফিরে যাই। কিন্তু আমার কি দোষ ছিল? কি অপরাধ করছিলাম আমি?"

কান্না জড়িত কণ্ঠে মেয়েটি প্রশ্ন রাখে সংবাদদাতার কাছে।

ভারত থেকে ফিরে মেয়েটির আশ্রয় হয় বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির কাছে। সেখানে কাজ শিখে এখন মেয়েটি স্বাবলম্বী। বিয়ে করেছে।

স্বামী তার জীবনের ইতিহাস জেনে, মানসিক শক্তি যোগায় তাকে। "আমি তার কাছে কিছু গোপন করিনি। সে সব জানে, কিন্তু সে বলে মানুষের জীবনে অনেক কিছুই ঘটতে পারে।"

এখন আমি ভালো আছি, মেয়েটি বলছিলো।

দেশের মধ্যে কতসংখ্যক নারী পাচার হচ্ছে তার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসেব পাওয়া যায় না।

তবে জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যানে বিশ্বের ৩৪ শতাংশ নারী নিজ দেশেই পাচার হয়। আর ৩৭ শতাংশ আন্তঃ-সীমান্ত পাচারের শিকার।

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির হিসেব অনুযায়ী ১৮টি রুট দিয়ে বছরে ২০ হাজার বাংলাদেশি নারী ও শিশু ভারতে পাচার হয়।

অন্যদিকে, সেইভ দ্য চিলড্রেনের ২০১৪ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী পূর্ববর্তী ৫ বছরে বাংলাদেশের ৫ লাখ নারী বিদেশে পাচার হয়েছে।

যাদের গন্তব্য ভারত, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ।

সম্পর্কিত বিষয়