বগুড়ায় ধর্ষণ ও নির্যাতন: তুফান সরকারের স্ত্রী গ্রেফতার

প্রতীকী ছবি ছবির কপিরাইট LEISA TYLER
Image caption কিশোরী ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত ১০ আসামীকে গ্রেফতার করলো পুলিশ।

বগুড়ায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের পরে তাকে ও তার মাকে ন্যাড়া করে দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তুফান সরকারের স্ত্রীকে গতরাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বগুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে পুলিশ তুফানের স্ত্রীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ বলছে, তুফানের স্ত্রী গ্রেফতার এড়াতে ঢাকা আসছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে তারা মহাসড়কে তল্লাশি চালাচ্ছেন। ওই অভিযানে রাতে সন্দেহভাজন একটি গাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেফতারের পর তাদের রাতেই বগুড়া নিয়ে যায় পুলিশ।

এছাড়াও মামলার আরো দুই অভিযুক্ত তুফানের স্ত্রীর বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর ও তার মাকে পুলিশ পাবনা থেকে গ্রেফতার করে।

বগুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদ হোসেন জানিয়েছেন আজ আরো কিছু পরের দিকে অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে।

দলীয় ক্যাডার দিয়ে তুলে নিয়ে নিজ বাড়িতে ধর্ষণ এবং তার কয়েকদিন পর সেই কিশোরী ও তার মায়ের মাথার চুল কামিয়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকার। তিনজন সহযোগীসহ তুফান সরকারকে শনিবারই গ্রেফতার করে পুলিশ।

কিশোরী ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত ১০ আসামীকে গ্রেফতার করলো পুলিশ।

পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৭ তারিখে তুফান সরকার ওই মেয়েটিকে কলেজ ভর্তিতে সাহায্য করার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে পাঠায়।

কিন্তু মেয়েটি তাতে সাড়া না দিলে, দলীয় কয়েকজন ক্যাডার পাঠিয়ে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে তুলে আনে তুফান।

এরপর মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটিকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।

পুলিশ আরো জানিয়েছে, গত শুক্রবার ধর্ষণের শিকার মেয়েটি এবং তার মাকে আবারো ক্যাডার পাঠিয়ে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে আনে তুফানের স্ত্রী এবং স্ত্রীর বোন যিনি বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর।

তাদের নিজের বাসায় নিয়ে রড ও লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারধরের পর দুইজনেরই মাথা কামিয়ে দেয় তুফানের স্ত্রী ও তার।

আহত কিশোরী এবং তার মা এখন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তার মেয়ে এবং তার ওপর করা অত্যাচারের বিচার চান তিনি।

শুক্রবার রাতে ওই মেয়েটির মা তুফান সরকার এবং তাঁর স্ত্রীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দুটি মামলা করেন।

এরপর পুলিশ তুফান সরকার এবং তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে শনিবার।

এদের একজন শনিবার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

তুফান সরকারসহ বাকি তিনজনকে পুলিশ রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানানো হলে রোববার দুপুরে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

সম্পর্কিত বিষয়

বিবিসির অন্যান্য সাইটে