চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের ফিজিওথেরাপি কি নিরাপদ?

এডিস মশা-বাহিত চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার জ্বরের প্রকোপ দেখা যায়। সেইসাথে প্রচণ্ড ব্যথা এর উপসর্গ। ছবির কপিরাইট PHILIPPE HUGUEN
Image caption এডিস মশা-বাহিত চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার জ্বরের প্রকোপ দেখা যায়। সেইসাথে প্রচণ্ড ব্যথা এর উপসর্গ।

বাংলাদেশে চিকুগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একটি প্রধান জটিলতা দেখা দেয় শরীরে তীব্র ব্যথা। অনেকেই পরবর্তীতে ফিজিওথেরাপি নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু চিকুনগুনিয়ায় ফিজিওথেরাপি নেয়া উচিত নাকি অনুচিত তা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক।

এই বিতর্ক এমন একসময় তৈরি হল- যখন ঢাকার দক্ষিণ অংশের নগর কর্তৃপক্ষ চিকুনগুনিয়ার ব্যথা উপমনে টেলিফোন করে ফিজিওথেরাপি সেবা নেয়ার জন্য হটলাইন খুলেছে।

কিন্তু দেশে রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা ও পর্যবেক্ষণকারী সরকারি সংস্থা আইইডিসিআর-এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের জ্বর কমার পর সাধারণত তিন মাস পর্যন্ত ফিজিওথেরাপি নেয়ার প্রয়োজন হয়না।

কারণ জ্বর থাকা অবস্থায় এ ধরনের থেরাপি হিতে বিপরীত হতে পারে। এরপরও ব্যথা না কমলে প্রয়োজনে তা নেয়া যেতে পারে কেবল চিকিৎসকর পরামর্শ অনুসারে।

আইইডিসিআর-এর সাবেক পরিচালক ডক্টর মাহমুদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, এই ধরনের ব্যথা ছয়মাস বা তার বেশি সময় ধরেও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে ওষুধ দিয়েই প্রাথমিকভাবে ব্যথা কমানোর ব্যবস্থা করা হয়। ফিজিওথেরাপি অনেক পরের ধাপ।

ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption এই ধরনের ব্যথা ছয়মাস বা তার বেশি সময় ধরেও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে ওষুধ দিয়েই প্রাথমিকভাবে ব্যথা কমানোর ব্যবস্থা করা হয়। ফিজিওথেরাপি অনেক পরের ধাপ-বলছেন আইইডিসিআরের বিশেষজ্ঞরা।

এমন এক প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য এলো যখন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা একটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে চিকনগুনিয়ায় আক্রান্তদের ফিজিওথেরাপি সেবা দিতে।

তিনমাসের আগে ফিজিওথেরাপি দেয়া উচিত নয় বলে আইইডিসিআর যে বক্তব্য দিচ্ছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ফিজিওথেরাপি কার্যক্রমের সমন্বয়ক ডা: ইয়াসমিন আরা ডলি।

চিকিৎসক ইয়াসমিন আরা বিবিসি বাংলাকে বলেন, "যারা বলছে তিনমাসের আগে ফিজিওথেরাপি দেয়া যাবেনা। তারা তো আবার বলছে বরফ সেঁক দেয়ার কথা। তো আইস-থেরাপি কি একধরনের থেরাপি নয়? এটাও হাইড্রোথেরাপি"।

এই চিকিৎসক বলেন, "তারাও তো হালকা ব্যায়ামের কথা বলছেন। তাহলে তারা বিতর্ক কেন তৈরি করছেন জানি না। তাদের বলা উচিত ছিল, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে থেরাপি নেয়ার বিষয়টিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে"।

ডা: ইয়াসমিন বলেন, আজও একজন রোগী দেখে এলাম যিনি আড়াই মাস ধরে ভুগছেন। এখনো বিছানা থেকে নেমে টয়লেটে যেতে তার সাহায্য নিতে হয়। তাকে আমরা আইস-থেরাপি এবং হালকা ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়েছি।

তিনি বলেন, অনেকেই আছেন তীব্র ব্যথার কারণে হাঁটা-চলা করতে পারছেন না। কাজে ফিরতে পারছেন না। তাদের কাজে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই ফিজিওথেরাপি কার্যক্রম।

তবে একেবারে সিভিয়ার (জটিল) পর্যায়ে গেলে তখন আরও ব্যাপকভাবে ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হয় বলে জানান ইয়াসমিন আরা।

ছবির কপিরাইট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
Image caption চিকুনগুনিয়ার উপসর্গ
ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption শিশু থেকে বয়স্ক -বিভিন্ন পরিবারে একাধিক ব্যক্তি আক্রান্ত হচ্ছে চিকুনগুনিয়ায়।

এডিস মশা-বাহিত চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার জ্বরের প্রকোপ দেখা যায়। সেইসাথে প্রচণ্ড ব্যথা এর উপসর্গ।

জ্বর কমার পর ব্যথা কমাতে তিন মাস পর্যন্ত রোগীকে হালকা ব্যায়ামের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সেইসাথে প্যারাসিটামল খাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

অজ্ঞান করা হয়েছে তোফা ও তহুরাকে, আলাদা হবে আজ

চকলেট-লিচুর লোভ দেখিয়েছিল বাড্ডার ধর্ষণকারী

বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে কেন?

প্রিন্সেস ডায়ানার বিতর্কিত ভিডিও প্রচার না করার আর্জি

সম্পর্কিত বিষয়