'মন্ত্রীর পরিবার নিয়ে লিখে আমি রোষানলে' - জামিনের পর সাংবাদিক লতিফ

আব্দুল লতিফ ছবির কপিরাইট ফেসবুক
Image caption আব্দুল লতিফ

ছাগল মরার রিপোর্ট ফেসবুকে শেয়ার করে ৫৭ ধারায় আটক খুলনার সাংবাদিক আব্দুল লতিফ জামিনের পর বলেছেন, এক প্রতিমন্ত্রীর 'পারিবারিক অনিয়ম' নিয়ে লেখালেখির কারণেই তিনি রোষানলে পড়েছেন।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় দুস্থদের মধ্যে সরকারের বিতরণ করা একটি ছাগল রাতেই মারা যাওয়ার খবর তার ফেসবুকে শেয়ার করে মামলায় পড়েন স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল লতিফ। মঙ্গলবার ভোরে তাকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। বুধবার বিকেলে আদালতে জামিন পান তিনি।

আব্দুল লতিফের ফেসবুক পাতায় শেয়ার করা খবরে স্থানীয় এমপি এবং মৎস্য এবং পশুসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের মানহানি হয়েছে - এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারায় মামলা করেন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আরেক সাংবাদিক। শনিবার যে অনুষ্ঠানে ছাগল মুরগী বিতরণ করা হয়, সেখানে প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মি চন্দ।

বিকেলে জামিনে মুক্ত হয়ে মি লতিফ বিবিসিকে বলেন, বছর-খানেক ধরে মন্ত্রীর পারিবারের বিভিন্ন 'অনিয়ম' নিয়ে লেখালেখি করার কারনেই তিনি মন্ত্রী ও তার লোকজনের রোষানলে পড়েছেন। তিনি মনে করছেন, ছাগল মরা যাওয়ার খবর ফেসবুকে শেয়ার করার ছুতোয় তাকে নাজেহাল করা হয়েছে।

তবে প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, এ ধরণের সন্দেহ শক্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, এই মামলা করার সাথে সাথে তার কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা নেই।

"এ ধরণের কথা আমি অস্বীকার করি। সে (ঐ সাংবাদিক) যদি প্রমাণ করতে পারে, তাহলেই আমি দায়িত্ব নেব...।"

আব্দুল লতিফ বলেন, ছাগল মারা যাওয়া নিয়ে ঢাকার একটি অনলাইন নিউজ সাইটে প্রকাশিত রিপোর্টটি তিনি তার ফেসবুকে শেয়ার করার পর তার নীচে পক্ষে বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছিল। কেউ কেউ লিখেছিলেন এই রিপোর্টটিতে মন্ত্রীকে খাটো করা হয়েছে।

মি লতিফ বলেন, এসব বিতর্ক দেখে তিনি তার ফেসবুক থেকে তার পোস্টটি মুছে ফেলেন। কিন্তু তারপর রাতে মন্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত স্থানীয় এক সাংবাদিক মি লতিফের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন।

আব্দুল লতিফ বলেন, তিনি এবং তার পরিবার আতঙ্কে রয়েছেন। তবে, তিনি বলেন, আইনের মধ্যে থেকে তিনি সাংবাদিকতা চালিয়ে যাবেন।

সম্পর্কিত বিষয়