মাঠে ময়দানে
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

নেইমারের জন্যই কি এখন লাখ লাখ নতুন দর্শক পেতে যাচ্ছে পিএসজি?

বিশ কোটি পাউন্ডের রেকর্ড দামে নেইমারকে কিনে নেবার পর অনেকেই নতুন চোখে দেখছেন প্যারিস সঁ জারমেইন বা পিএসজিকে ।

নেইমারের জন্যই কি এই পিএসজি এখন বিশ্ববিখ্যাত ক্লাব হয়ে উঠবে?

এতদিন হয়তো ইউরোপের বাইরে অনেকেই প্যারিস সঁ জারমেইন সম্পর্কে খুব বেশি আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু ব্রাজিলীয়ান তারকা নেইমার এই পিএসজিতে আসার ফলে এখন কি সারা পৃথিবীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ব্রাজিল-ভক্ত এখন পিএসজির ফ্যান হয়ে যাবেন?

ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার এখন বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার । তার বেতন হবে সপ্তাহে ৭ লাখ ৮২ হাজার পাউন্ড, বছরে ৪ কোটি পাউন্ডেরও বেশি।

বিবিসির ফুটবল সংবাদদাতা রিচার্ড কনওয়ে বলছিলেন, প্যারিস সঁ জারমেইন বেশ কয়েক বছর ধরেই নেইমারকে কিনতে চাইছিল, যদিও এটা নিয়ে শেষ পর্যন্ত এক আইনি লড়াই শুরু হবার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

ছবির কপিরাইট Aurelien Meunier
Image caption নেইমার ও পিএসজির প্রধান আল-খেলাইফি

ফিনানশিয়াল ফেয়ার প্লে'র নিয়ম ভাঙার কারণ দেখিয়ে বার্সেলোনা প্রথমে বলেছিল তারা পিএসজির নামে অভিযোগ দায়ের করবে ইউরোপের ফুটবল কর্তৃপক্ষের কাছে। স্পেনের নিয়ম অনুযায়ী কোন খেলোয়াড় যদি ক্লাবের চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় তাহলে তাকে নিজেকেই তার দাম পরিশোধ করতে হয়। লা লিগা কর্তৃপক্ষ প্রথমে নেইমারের আইনজীবীদের কাছ থেকে ক্লাব বদলের টাকা নিতে অস্বীকার করেছিল। কিন্তু পরে নেইমারের আইনজীবীরা সরাসরি বার্সেলোনাকে সেই অর্থ হস্তান্তর করেন -আর তার পরই সে সমস্যার সমাধান হয়, নেইমার পিএসজির খেলোয়াড়ে পরিণত হন।

বিবিসির দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল সংবাদদাতা টিম ভিকারি ব্যাখ্যা করছিলেন, এর পেছনে কি কি হিসেব কাজ করে থাকতে পারে।

তিনি বলছেন, নেইমারের কেরিয়ার সব সময়ই এগিয়েছে ধাপে ধাপে - যার চূড়ান্ত লক্ষ্যগুলো একটি হলো ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড় বা গোল্ডেন বল পুরস্কার জেতা। আপনি ইতিহাস দেখলে দেখবেন, ১৯৯৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত পাঁচজন ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় আট বার ওই পুরস্কার জিতেছেন। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কোথায় পৌঁছাতে হবে - তার জন্য এটা বলা যায় একটা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তাই নেইমার যদি এই গোল্ডেন বল না জেতেন - তাহলে ধরে নেয়া হবে তিনি সেই স্তরে উঠতে পারেন নি। এখন, তিনি যদি তার দলে সেই সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়া্ড় না হন -তাহলে তিনি এ পুরস্কার জিততে পারবেন না।

ছবির কপিরাইট Aurelien Meunier
Image caption পিএসজির প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নেইমার

মি. ভিকারির কথায়, নেইমার ইউরোপে খেলতে এসেছেন ২০১৩ সালে যখন তার বয়েস ২১। হয়তো তিনি তার আগেও ইউরোপে আসতে পারতেন। কিন্তু তাকে গড়ে তোলা হয়েছে এমনভাবে যাতে তিনি বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির পাশাপাশি খেলার সুযোগ পান - যাতে তিনি সেরা হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন। কিন্তু নেইমারের এক নম্বর হয়ে উঠতে গেলে তাকে হয় মেসিকে ছাড়িয়ে যেতে হবে, নয়তো মেসিকে বার্সেলোনা থেকে চলে যেতে হবে, বা নেইমারকেই অন্য কোথাও যেতে হবে। যেহেতু প্রথম দুটো হয় নি তাই নেইমারই এখন বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিদে গেলেন।

টিম ভিকারি বলছেন, নেইমার ফরাসী লিগে জেতার জন্য জন্য পিএসজিতে যান নি। তিনি সেখানে গেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে - যা তাকে গোল্ডেন বল পুরস্কার এনে দিতে পারে। পিএসজি গত বার প্রায় বার্সেলোনাকে ছিটকে দিয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে - কিন্তু নেইমারই তা ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন। তাই পিএসজি এখন সেই নেইমারকে এনেছে - সেই অধরা ট্রফি জেতার জন্য।

"কিন্তু অন্য আরেকটি দিক আছে - তাহলো ব্রাজিল জাতীয় দল।। মনে রাখবেন, এই যে ফুটবল মওসুম শুরু হচ্ছে তা শেষ হবার পরই অর্থাৎ আগামি বছরের মাঝামাঝি রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ফুটবল । নেইমারের বয়স আগামি বছর হবে ২৬ । তিনি তখন থাকবেন তার শারীরিক সক্ষমতার শীর্ষে।"

"বিশ্বকাপের বছর গোল্ডেন বল সাধারণত তিনিই পান - যিনি বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড় হন। হয়তো এটাও একটা কারণ হতে পারে যে কেন নেইমার এ বছরই প্যারিস সঁ-জারমেইনে যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন। "

তবে চ্যাম্পিয়নস লিগ বা বিশ্বকাপ এগুলো কে জিতবে তা আরো প্রায় এক বছর পরের কথা।

কিন্তু নেইমারের আগমন তো বদলে দিচ্ছে প্যারিস সঁ জারমেইনের বর্তমানকেও। এতদিন ফ্রান্স বা ইউরোপের বাইরের দুনিয়ায় প্যারিস সঁ জারমেইন খুব একটা পরিচিত ক্লাব ছিল না। কিন্তু নেইমারের জন্যই এটি কি এখন সারা দুনিয়ার পরিচিত একটি ক্লাব হয়ে উঠতে যাচ্ছে?

অ্যামস্টার্ডামে সাবেক ক্রীড়া সাংবাদিক এবং ইউরোপীয় ফুটবলের নিযমিত দর্শক অরণি জেড বলছিলেন, এতদিন পর্যন্ত ফ্রান্স বা প্যারিসের লোকেরাই পিএসজির ভক্ত ছিলেন।

"কিন্তু এখন এমন হতে পারে যে নেইমারের জন্য সারা পৃথিবীতেই পিএসজির নাম ছড়িয়ে পড়বে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যে ব্রাজিল ভক্তরা আছেন তারা হয়তো এখন নেইমারের জন্য পিএসজির খেলা দেখবেন।"

অরণি জেড বলছিলেন, বড় বড় ক্লা্ব যখন বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে তারকা ফুটবলারদের কেনে - তখন তাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক আয় হয়, যা দিয়ে সে টাকা উঠে যায়।

নেইমারের ক্ষেত্রেও পিএসজি হয়তো একই ভাবে লাভবান হবে।

সম্পর্কিত বিষয়